ছাতকে ফসল রক্ষায় কুড়ি বিল খনন ও খালের মুখে বাঁধের দাবী

ছাতকে জাউয়াবাজার ইউনিয়নে অবস্থিত প্রসিদ্ধ এই বিলটি পলি মাটিতে ভরাট হচ্ছে। ফলে বিলটি ভরে গিয়ে এখন অস্তিত্ব হারানোর পথে। কুড়ি বিলসহ বোরো ফসল রক্ষার খাড়াই খালের মুখে বাঁধ নির্মাণের দাবী জানিয়েছে এলাকাবাসী। বিলটি খনন এবং বিলের মুখে বাঁধ দিয়ে পানির সুষ্ট নিস্কাশনের ব্যবস্থা করা হলে এখানে দেশীয় মাছের অভয়াশ্রমের ঠিকানা হতে পারে, এমনটাই ধারনা করছেন স্থানীয় এলাকাবাসী ও মৎস্যজীবীরা।

সর্বশেষ কুড়ি বিলটি ইজারা প্রদান করে সরকার প্রায় সাড়ে ২০ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় করা হলেও এখন এটি ইজারা বর্হিভূত রয়েছে। দীর্ঘদিন যাবৎ খাড়াই খাল দিয়ে বর্ষা মৌসুমে পানি ডুকে বিল ধীরে ধীরে ভরাট হয়ে গেলেও বিলটি রক্ষায় কারো যেন কোন গরজ নেই। বিলটি পূর্বের জৌলস ফিরিয়ে না আনলে এক সময় এলাকায় তীব্র জলাবদ্ধাতাসহ পরিবেশ ক্ষতির কারণ হতে পারে। চলতি বছরে উপজেলার মোট ৩১টি জলমহাল ইজারা প্রদানের জন্য বিজ্ঞপ্তির আহবান করা হলেও কুড়ি বিলটি ইজারার তালিকায় রাখা হয়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ১৪১৮বাংলা সনের ২০ লাখ ৫৫ হাজার টাকায় স্থানীয় একটি মৎস্যজীবী সংগঠনকে কুড়ি বিলটি ইজারা প্রদান করা হয়। স্থানীয় মৎস্যজীবীদের দাবী, বিলটিতে পলি মাটিতে ভরে গিয়ে মাছের পরিমান কমে গেছে। আগের মতো আর কুড়ি বিলে মাছ পাওয়া যাচ্ছে না।

১৪২০ বাংলা সনে ওই বিলটি ইজারা দিয়ে সরকার ৬লাখ ২৫ হাজার টাকা আদায় হয়। বিলটি ওই সময়ে ইজারা নিয়ে মৎস্যজীবীরা লোকসান গুনতে হয়েছে মৎস্যজীবীদের। পরবর্তী বছর ১৪২১ বাংলা সনে বিলটির জন্য কোন ইজারা গ্রহীতা পাওয়া যায়নি। ১৪২২ সনে মাত্র ৩ লাখ টাকা মুল্য নির্ধারণ করে মৎস্যজীবী সংগঠনকে দিতে চাইলেও কোন ইজাদার খুজে পাওয়া যায়নি। ফলে গত ৪বছর ধরে কুড়ি বিলটিতে মাছের পরিমান কমছে। সবশেষ ১৪২৪ সনে এই জলমহালটি স্থানীয় দেবেরগাঁও রূপালী মৎস্য সমবায় সমিতি লিমিটেডে’র পক্ষে উন্নয়ন পরিকল্পনার অধীনে ৬ বছরের জন্য (১৪২৪-১৮২৯) সন পর্যন্ত বার্ষিক খাজনা সাড়ে ৭ লাখ টাকায় ইজারা পাওয়ার জন্য ভুমি মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছে। কিন্তু এই বিষয়ে এখনও কোন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি।

সম্প্রতি ছাতক উপজেলায় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ মেরামত, নদী ও খাল পূনঃখননের জন্য স্কীম প্রস্তুত ও বাস্তাবায়নের লক্ষ্যে উপজেলা কমিটির ৬ষ্ট সভায় জাউয়াবাজার ইউপি চেয়ারম্যান মুরাদ হোসেনসহ কয়েকজন জনপ্রতিনিধি, কুড়ি বিল খালের মুখ, উগলিছড়া নলুয়া খালের মুখ ও তারাপুর খালের মুখ বন্ধ করার প্রয়োজন বলে প্রস্তাব করেছিলেন। কিন্তু কুড়ি বিল রক্ষায় বিস্তারিত আলোচনা হলেও এর কোন অগ্রগতি হয়নি।

সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান কদর মিয়া, ইউপি সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের সদস্য আঙ্গুর মিয়া ও স্থানীয় মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি সাধারন সম্পাদক নরেশ বিশ্বাস জানান, দেবেরগাঁও, তারচুকা, মুলতানপুর, দেওকাফন, পাঠলি, খাড়াই, কফলা, বাঘারাই, বাদেশ্বরী, তারাপুর, সুনিগাঁও, মখলাগাঁও, আহারগাঁও, চরগবিন, কামারখাল, ছিক্কা, আছাকাচর, পাইগাঁওসহ ৩০টি গ্রামবাসীর দাবী, কুড়ি বিলসহ এই এলাকার বিভিন্ন হাওরের বোরো ফসল রক্ষায় বাঁধের বিকল্প নেই। খাল মুখে বাঁধ নির্মাণ করা হলে কয়েক হাজার হেক্টর বোরো ফসল উৎপাদনে সুরক্ষা হবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের ছাতক উপজেলার দায়িত্ব প্রাপ্ত উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, কুড়ি বিল পরিদর্শন করে জেলায় একটি প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোন নির্দেশনা পাওয়া যায়নি।

সুনামগঞ্জ জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বক্কর ভুইয়া জানান, ছাতকের কুড়ি বিলসহ দেখার হাওর, চাউলির হাওর রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ছাতক উপজেলায় নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবরে একটি চিঠি দেয়া হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনই এসব কাজ বাস্তবায়ন করবে।