৭নং ওয়ার্ড : বিজয়ে মরীয়া আফতাব-সাঈদ

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনকে সামনে রেখে ৭নং ওয়ার্ডে এখন শেষ সময়ের উত্তেজনা। এ ওয়ার্ডে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামা মাত্র দুজন প্রার্থীর মধ্যে একজন হচ্ছেন জামায়াত অনুসারী সাঈদ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ। তিনি লাটিম মার্কা নিয়ে দলের হয়ে নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। অপরদিকে তার শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হচ্ছেন বর্তমান কাউন্সিলর ও বাংলাদেশ স্বেচ্ছাসেবক লীগ সিলেট মহানগর সভাপতি আফতাব হোসেন খান। তিনি তার নির্বাচনী প্রতীক ঘুড়ি নিয়ে আবারো ভোটযুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছেন।

আওয়ামী পরিবারের প্রার্থী আফতাব হোসেন খান আজ থেকে প্রায় আড়াই বছর আগে উপ-নির্বাচনে বিপুল ভোটে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়ে বর্তমানেও ওই পদে বহাল রয়েছেন। ভোট গ্রহণের তারিখ যতই ঘনিয়ে আসছে ভোট ও ভোটারদের নিয়ে চলছে চুলচেরা হিসেব নিকেশ। কাউন্সিলর পদে মাত্র দু’জন প্রার্থী হওয়ায় ভোটারদের মধ্যে হিসেব নিকেশ অনেকটা সহজ হয়ে ওঠেছে।

একসময় নগরীর ৭ নং ওয়ার্ড এলাকাটি ছিল জরাজীর্ণ উন্নয়ন বঞ্চিত, ছিল জামায়াত ও সন্ত্রাসীদের শক্ত ঘাটি। কিন্তু দিনবদল ও পরিবর্তনের হাওয়া বইতে থাকায় এই ওয়ার্ডের উন্নয়ন ও রাজনৈতিক অবস্থারও অনেকটা পরিবর্তন হয়ে গেছে। ওয়ার্ডের গত উপ-নির্বাচনে বিএনপির শক্তিশালী প্রয়াত কাউন্সিলরের স্থলাভিষিক্ত হন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি প্রার্থী আফতাব হোসেন খান।

উপনির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াত থেকে যারা কাউন্সিলর প্রার্থী হয়েছিলেন তারা সকলেই হার মেনেছেন আফতাব হোসেন খানের কাছে। কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়ে আফতাব হোসেন খান দল ও মতের উর্ধে থেকে ওয়ার্ড এলাকার উন্নয়ন ও সমস্যার সমাধানে ব্রতী হয়ে কাজ শুরু করেন। আত্মনিয়োগ করেন এলাকাবাসীর ভালবাসা ও সম্মান কুড়াতে এবং তাতে অনেকটা এগিয়েও গেছেন তিনি। মাত্র আড়াই বছরের ব্যবধানে আফতাব হোসেন খান ওয়ার্ডের রাস্তাঘাটের উন্নয়ন সাধনে ও ওয়ার্ডবাসীর মন জয় করতে সক্ষম হয়েছেন।

ওয়ার্ড এলাকাধীন জালালাবাদ-পশ্চিম পীর মহল্লা ও বনকলাপড়া রাস্তা ৮ ফুট থেকে ১২ ফুটে প্রশস্তকরণ, ওয়ার্ডের সব এলাকায় পয়ঃনিষ্কাশনে ৪ ফুট করে আরসিসি ড্রেন নির্মাণ, পরিচ্ছন্নতায় ভ্যানগাড়ির ব্যবস্থা, প্রয়োজনীয় কালভার্ট-ব্রিজ নির্মাণ, অবহেলিত হাজীপাড়া রাস্তার কাজ, রাতের আঁধারে এলাকাকে ঝলমলে করে তুলতে প্রতিটি রাস্তায় এলইডি ও এনার্জি লাইট স্থাপন, বিদ্যুৎ সমস্যা দূরীকরণে চলমান ট্রান্সফরমার স্থাপন কাজ, চুরি-ডাকাতি ও সন্ত্রাস দমনে চলমান সিসি ক্যামেরা স্থাপন, নির্দলীয় কমিউিনিটি পুলিশিং, নুছাইছড়া ও মালনীছড়া উদ্ধার এবং সর্বোপরি এলাকাকে সন্ত্রাসমুক্ত করণ তার সময়েই সম্পন্ন হয়েছে।

তা ছাড়া ব্যক্তিগত উদ্যোগে মসজিদ মন্দির নির্মাণে সহায়তা, রমজান ও ঈদ-সহ বিভিন্ন পূজা-পার্বণে খাদ্য ও অর্থ অনুদান, প্রতিবন্ধীদের জন্য হুইল চেয়ার ও অসহায় গরীবদের জন্য ফ্রি চিকিৎসা সহায়তা প্রভৃতি মানবিক কাজে এলাকার মানুষের আস্থা কুড়াতে সক্ষম হয়েছেন বর্তমান কাউন্সিলর আফতাব হোসেন খান।

সেই তুলনায় অনেক পিছিয়ে রয়েছেন সাঈদ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ। তবে বিএনপি-জামায়াত ঘরানার ভোটারেরা প্রার্থী সাঈদ মোহাম্মদকে বিজয়ী করতে চেষ্টার কোন ত্রুটি করছেন না। যে কারণে সিলেট সিটি করের্পারেশন নির্বাচনে ৭নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে কে হাসছেন বিজয়ের শেষ হাসি তা দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হবে ৩০ জুলাই পর্যন্ত।