২০ ওভারের খেলায় ১০ ওভারই ডট দিলো বাংলাদেশ!

২০ ওভারে ৫৭ টি ডট বল খেলে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৮ উইকেটে ১৩৯

ফাইল ছবি।

ব্যাটিংয়ে নেমেই একের পর এক ক্যাচ তুলল বাংলাদেশ। প্রত্যুত্তরে ভারতও যেনো দেখালো ক্যাচ ফেলার দারুণ এক প্রদর্শনী। পাঁচ পাঁচবার বাংলাদেশী ব্যাটসম্যানদের তালু বন্দি করতে না পারলেও সেই সুযোগ নেবার কোনো প্রয়োজনই বোধ করলোনা বাংলাদেশী ব্যাটসম্যানরা। ২০ ওভারে ৫৭ টি ডট বল খেলে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৮ উইকেটে ১৩৯।

ব্যাট করতে এসে সবার মাঝেই দেখা গেলো অদ্ভুত রকমের তাড়াহুড়া। রান তোলার চেয়ে ড্রেসিংরুমে ফেরার তাড়াটাই ছিলো বেশি।

প্রথম ওভার থেকেই সবার তেড়েফুঁড়ে মারার ইচ্ছা দেখা গেল। উনাদকাটের বলে স্লগ করতে গিয়ে থার্ডম্যানে বল তুলে দিলেন সৌম্য সরকার। ভারতীয় তিন ফিল্ডারের ভুল বোঝাবুঝি সে যাত্রা বাঁচিয়ে দিলেন বাংলাদেশি ওপেনারকে। তৃতীয় ওভারেই উনাদকাটকে ছক্কা হাঁকান সৌম্য। কিন্তু তার এক বল পরেই শর্ট ফাইনে ক্যাচ দিয়ে ফিরলেন সৌম্য।

পরের ওভারে ফিরতে পারতেন তামিম ইকবালও। কিন্তু ওয়াশিংটন সুন্দরের বলে তাঁর তোলা ক্যাচ ফিল্ডারের নাগালের একটু বাইরে পড়েছিল। পরের ওভারের তৃতীয় বলেই তামিমকে আউট করে দিলেন শার্দুল ঠাকুর। রিভিউ নিয়ে বেঁচেও গেলেন। তবুও অধৈর্য তামিম তার স্বভাবসুলভ মার দাঙা ভঙ্গিতেই পরের দুবলে দুটো চার হাঁকান, আর তার পরের বল ফাইন লেগে ক্যাচ! ৩৫ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারাল বাংলাদেশ।

ক্রিজে এসে দুই চার ও এক ছক্কায় একটু ঝড়ের ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন মুশফিক। কিন্তু ছক্কা মারার পরের বলেই ক্যাচ দিয়ে ১৮ রানে থেমে যান তিনিও। চাপের মুখে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে হাল ধরতে ক্রিজে আসেন অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ। কিন্তু দৈহিক ভাষা বা ব্যাটিং কোথাও দেখা গেলোনা দায়িত্বশীলতার ছায়া। ৮ বল খেলে এক রান করে বিজয় শংকরের দ্বিতীয় শিকার তিনি।

তবুও বিজয় শংকরকে দুর্ভাগাই বলতে হবে, কারণ তাঁর এক ওভারেই দুবার ক্যাচ তুলে দিয়েছেন লিটন দাস। কিন্তু খুবই হাস্যকরভাবে ক্যাচ ফেলেছেন ভারতীয় ফিল্ডাররা। ১৫তম ওভারে আরেকটা ক্যাচ ফেলেছে ভারত। এবারও দুর্ভাগা বোলার বিজয় শংকর। সাব্বিরের তোলা ক্যাচ নিজেই দৌড়ে গিয়ে ধরতে পারেননি।

আকাশে বল তোলার রোগ অবশ্য এরপরও সারেনি বাংলাদেশের। পরের ওভারের প্রথম বলে যুজবেন্দ্র চাহালকে তুলে মারতে গেলেন লিটন। লং অফে রায়নার হাতে ধরা পড়ার মধ্য দিয়ে শেষ হলো ৩০ বলে ৩৪ রানের ইনিংস। ক্যাচ দেওয়ার ধারা বজায় রেখে মিরাজ (৩), সাব্বিরও (৩০) ফিরলেন একই কায়দায়।

এই মাঠে ১৬০ শক্ত স্কোর হলেও তার ধারে কাছেও পৌঁছাতে পারেনি বাংলাদেশ। ১৩৯ রানেই থামতে হয়েছে।