হাবিপ্রবিতে খাবারের মূল্যবৃদ্ধিতে শিক্ষার্থীদের অসন্তোষ

হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) হলের ডাইনিংগুলোতে পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে খাবারের মূল্যবৃদ্ধিতে এতে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের মাঝে। কর্তৃপক্ষের এমন সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে তারা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের হলের ডাইনিংগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রমজান শুরুর আগে দুপুর ও রাত দু’বেলা মিলে খাবারের মূল্য ছিল ৬৫ টাকা কিন্তু রমজান উপলক্ষে তা বাড়িয়ে করা হয়েছে ৮০/১১০ টাকা।

হলের আবাসিক শিক্ষার্থী সুমন আলী অভিযোগ করে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও হল প্রশাসন প্রতিনিয়ত বলে থাকে নিজে রান্না না করে ডাইনিং এ খেতে কিন্তু তারাই আবার ডাইনিং এর খাবারের মূল্যবৃদ্ধি করে শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে।

আবাসিক হলের আরেক শিক্ষার্থী দুলাল বলেন, তিনবার রান্না করে খেতে আমার প্রতিমাসে ১৫০০ থেকে ১৮০০ টাকা ব্যয় হয় আর ডাইনিংয়ে দুবেলা খেতে ব্যয় হবে ৩৫০০/৪০০০ হাজার টাকা।তাহলে আমি ডাইনিং এ কেন খাবো।

অনেকে অভিযোগ করে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে থেকেও যদি এত চড়া দামে খাবার খেতে হয় তাহলে সেটা খুবই দুঃখজনক আর পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থীই মধ্যবিত্ত পরিবারের। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে থেকে যদি কোন সুযোগ সুবিধা না পায়, তাহলে এটা কতটুকু ছাত্রদের প্রতি ন্যায়বিচার করা হচ্ছে সেটা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ও আমাদের হল প্রশাসনের বিবেচনা করা উচিৎ।

এ ব্যাপারে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের হল সুপার বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রফেসর ডা. মো. ফজলুল হকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যায় আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে গ্যাসের সরবরাহ না থাকায় জ্বালানি খাতে ব্যয় বৃদ্ধি কারণে খাবারের মূল্যবৃদ্ধি করা হয়েছে। তারপরও আমি খোঁজ নিয়ে দেখবো।

এদিকে শেখ রাসেল হলে ডাইনিং সুবিধা নেই, চালু হওয়ার কথা থাকলেও তা এখনো হয়নি।

অন্যদিকে ছেলেদের হলের ডাইনিংয়ের তুলনায় মেয়েদের হলের ডাইনিংয়ের খাবারের মূল্য অনেকটা কম। সেখানে এখন দু’বেলা ৬০ টাকা নেয়া হচ্ছে, যা আগে ৫০ টাকা ছিল।

হলের সহকারী হল সুপার মো. বেলাল হোসেন জানান- আমি হলের ডাইনিংয়ের দায়িত্ব আছি কিন্তু প্রতি মাসে ৩ জন করে শিক্ষার্থীদের তাদের নিজ সম্মতিতে দায়িত্ব দেওয়া হয় এবং তারা নিজেরাই ডাইনিং চালান বলে জানান তিনি।