হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে দালালদের উপদ্রব, বিপাকে রোগীরা

হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে আবারও দালালের উপদ্রব বৃদ্ধি পেয়েছে। গ্রাম থেকে আসা সহজ-সরল রোগীরা দালালের খপ্পরে পড়ে নিঃস্ব হয়ে বাড়ি ফিরছেন।

অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতালের কতিপয় ডাক্তার ও হাসপাতালের কর্মচারিরাও দালালদেরকে সহযোগিতা করছেন। দালালদের পাশাপাশি ফার্মেসী মালিকরাও হাসপাতালের জরুরি বিভাগে গিয়ে বসে থাকেন। ডাক্তাররা প্রেসক্রিপশন লিখার সাথে সাথেই তারা রোগী নিয়ে টানাহেঁচড়া শুরু করেন। আবার কেউ কেউ তাদের পছন্দমতো ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে নিয়ে যান এবং সেখানে একটি রিপোর্ট একাধিকবার করান।

গত বৃহস্পতিবার দুপুরে হামলায় আহত হয়ে শায়েস্তাগঞ্জ দাউদনগর এলাকার পার্টস ব্যবসায়ী ফারুক মিয়া হাসপাতালে এলে দালাল সেলিমের খপ্পরে পড়েন। এক পর্যায়ে দালাল সেলিম তাকে জরুরি বিভাগের ডাক্তারের কাছে নিয়ে যায়। ডাক্তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এক্সরে করাতে বলেন। এক দালাল তাকে একটি ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে নিয়ে ৬টি এক্সরে করায় এবং বিল বাবদ রাখা হয় ২৩০০ টাকা। কিন্তু রিপোর্ট সঠিক আসেনি।

বিষয়টি হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক রথীন্দ্র চন্দ্র দাশকে জানালে তিনি ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন। জানান, এমপি সাহেবের নির্দেশ মতে হাসপাতাল দালালমুক্ত করা হয়েছে। যদি এখনো দালাল থাকে, তাহলে তাদের আইনের হাতে তুলে দিতে পরামর্শ দেন তিনি।

কিন্তু তাঁর কথার ভিন্ন চিত্র দেখা যায় হাসপাতালে গেলেই। দালালরাই যেন হাসপাতালের হর্তাকর্তা। রোগীদের তারা অনেকটা বাধ্য করছেন তাদের মাধ্যমে ‘সেবা’ নিতে। আর এভাবে বহু রোগী প্রতিনিয়ত দালালদের খপ্পরে পড়ছেন।

হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, হাসপাতালের কয়েকজন ব্রাদার (সেবক) এসব ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের আংশিক মালিক। আবার কোন কোন দালালরা রোগীদেরকে বিভিন্ন ফার্মেসীতে নিয়ে দ্বিগুন টাকা রাখে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন দালাল জানায়, ফার্মেসী ও ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে রোগী নিয়ে গেলে তারা ২০% হারে কমিশন পেয়ে থাকে।

এ অবস্থায় ওই হাসপাতালে আসা দরিদ্র রোগীরা দালালদের খপ্পরে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তারা দাবি করেছেন এ অবস্থা পরিবর্তনের।