হবিগঞ্জ জেলা আ’লীগের প্রাক্তন সভাপতির ইন্তেকাল

পুষ্পস্তবক অর্পণনের মধ্যদিয়ে শেষ বিদায়।

হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের প্রাক্তন সভাপতি, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক এবং জেলা আইনজীবী সমিতির প্রাক্তন সভাপতি অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান চৌধুরী ইন্তেকাল করেছেন। বুধবার (১৮ জুলাই) দিবাগত রাতে হবিগঞ্জ শহরের শায়েস্তানগর আবাসিক এলাকায় তার নিজ বাসভবনে বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর।

বৃহস্পতিবার (১৯ জুলাই) সকাল এগারটায় হবিগঞ্জ আদালত প্রাঙ্গণে তার জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন জেলা ও দায়রা জজ আমজাদ হোসেন, সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট চৌধুরী আব্দুল হাই, হবিগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল হান্নান ও হবিগঞ্জ পৌরসভার মেয়র জি কে গউছ।

জানাযা শেষে তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদান করা হয়। এ সময় তার কফিনে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন হবিগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মর্জিনা বেগম। পরে মুক্তিযোদ্ধারা পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। বাদ আছর সদর উপজেলার বিশাউড়া গ্রামে ২য় জানাযা শেষে তার পারিবারিক গোরস্থানে দাফন সম্পন্ন হবে।

আজিজুর রহমান এর মৃত্যুতে বৃহস্পতিবার হবিগঞ্জ আদালতে ফুল কোর্ট রেফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়। জেলা ও দায়রা জজের আদালতে শোকসভায় বক্তৃতা করেন জেলা ও দায়রা জজ আমজাদ হোসেন, অ্যাডভোকেট চৌধুরী আব্দুল হাই, অ্যাডভোকেট ফজলে আলী, অ্যাডভোকেট আব্দুল হান্নান ও অ্যাডভোকেট সফিকুর রহমান। পরে বার লাইব্রেরীতে জেলা আইনজীবী সমিতির উদ্যোগে শোক সভা অনুষ্ঠিত হয়।

মৃত্যুকালে আজিজুর রহমান স্ত্রী, এক পুত্র ও এক কন্যা সন্তান রেখে গেছেন। তার স্ত্রী জমিলা বেগম জেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এবং মেয়ে মেহেরুন নেছা মজু জেলা যুব মহিলা লীগের সভাপতি।

আজিজুর রহমান ছাত্রলীগের রাজনীতির মাধ্যমে আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদের সদস্য ছিলেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি অরবিট্রেশন কাউন্সিলের চেয়ারম্যান এর দায়িত্ব পালন করেন। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর তিনি জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। পরে দুই টার্ম নির্বাচিত সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। হবিগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকেরও দায়িত্ব পালন করেন তিনি। হবিগঞ্জের রাজনীতির অঙ্গনে এলমএজি নামে তিনি পরিচিত ছিলেন।