হবিগঞ্জে কলার অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধি

নিয়মিত বাজার মনিটরিংয়ের দাবী ভুক্তভোগীদের

ছবি : সংগ্রহ

রমজান মাসে ইফতার কিংবা সেহরিতে কলার কদর একটু বেশিই থাকে। আর রোজাদারদের এ চাহিদাকে কাজে লাগিয়ে হবিগঞ্জে এক ধরণের সুযোগ সন্ধানী মুনাফাখোর ফল ব্যবসায়ী ইচ্ছা করেই বাড়িয়ে দিয়েছে কলার দাম। মাত্রাতিরিক্ত দাম দেখে ক্রেতারা আশ্চর্য হলেও প্রয়োজনের তাগিদে তা কিনতেই হচ্ছে।

ক্রেতারা জানান, আমে ফরমালিন বেশি থাকার কারণে ক্রেতারা কলাকে অনেক নির্ভেজাল মনে করে সেহরীর সময় দুধের সাথে মিশিয়ে খাচ্ছেন। এ কারণে বাজারে কলার চাহিদা বেড়েছে। এ সুযোগে কতিপয় ব্যবসায়ী কলার দাম বৃদ্ধি করে অধিক মুনাফা আদায় করে নিচ্ছে। এ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের কোনো মনিটরিং না থাকায় বেড়েই চলছে কলাসহ আরো নিত্য প্রয়োজনীয় ফলমূলের দাম।

বাজার ঘুরে জানা গেছে- চাম্পা কলা রমজানের পূর্বে বড় সাইজের প্রতি হালি ১৬/২০ টাকা, ছোট সাইজ ১০ থেকে ১২ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। এছাড়া শফরী কলা প্রতি হালি বড় সাইজ ৬০/৮০ টাকা, ছোট সাইজ ৩০/৪০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। কিন্তু বৃহস্পতিবার বাজারে খুচরা প্রতি হালি চাম্পা কলা বড় সাইজ ৪০ টাকা, মধ্যম সাইজ বিক্রি হয়েছে ২০ থেকে ২৫/৩০ টাকা দরে। আর ছোট সাইজ প্রতি হালি ১২/১৬ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার রাতে শহরের হবিগঞ্জের আরডি হল এলাকার একটি দোকানে চাম্পা কলা প্রতি হালি ৪০ টাকা দরে বিক্রি করছিলেন এক কলা ব্যবসায়ী। ওই ব্যবসায়ী জানান, পাইকারী বাজারে কলার দাম বেড়েছে। এজন্য তাদেরকে বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

হবিগঞ্জ শহরের চৌধুরী বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও কলার আড়ৎদার তাউছ মিয়া জানান, যশোর, ঝিনাইদহ, মধুপুর ও চট্টগ্রাম থেকে তারা চাম্পা কলাসহ অন্যান্য কলা আমদানী করে থাকেন। রমজান মাসের পূর্বে এক ট্রাক কলা ক্রয় করতে তাদেরকে ৩৫ থেকে ৩৮ হাজার ব্যয় হতো। বর্তমানে রমজানের শুরুতে কলার মূল্য বৃদ্ধি পেয়ে ওই মূল্য ৪৫ থেকে ৫০ হাজার টাকা গিয়ে দাঁড়িয়েছে। তার আড়ৎ থেকে প্রতিদিন এক গাড়ী কলা বিক্রি হচ্ছে।

তিনি জানান, প্রতি গাড়ীতে ৭৫০ থেকে ৮০০ কলার ছড়ি থাকে। বর্তমানে ২০ টনের বেশি মালামাল গাড়ী করে পরিবহনের অনুমতি না থাকায় এক গাড়ীতে বেশি করে মাল আনা যায় না। এছাড়া রাস্তার বিভিন্ন স্থানে ট্রাফিক পুলিশকে ‘বকশিস’ দিতে হয়। ফলে স্বাভাবিকভাবে কলার দাম অনেক বেড়ে যায়। তাই বেশি দামে বাজারে কলা বিক্রি করতে হচ্ছে।

হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতাল সংলগ্ন ব্যবসায়ী মো. আব্দুল মালেক ও ফয়সল জানান, তারা ব্যবসার শুরু থেকে দোকানে কলা বিক্রি করে আসছেন। তাদের দোকানের কলা শ্রীমঙ্গলের। তারা প্রতি হালি চাম্পা কলা আকার ভেদে ২২ থেকে ২৫ বা ৩০ টাকা দরে বিক্রি করছেন। শুধু কলাই নয়, সব ধরণের নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব মালামাল নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাজার মনিটরিং করার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ভুক্তভোগীরা।