হকারমুক্ত হল মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, অফিস সহকারী বরখাস্ত

মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সামনে হকার উচ্ছেদ অভিযান। ছবি : অসমিত অভি

একমাস আগে হকারদের উচ্ছেদ, পরে দখল এবং আবার উচ্ছেদ; এরকম অবস্থা শেষে এবার হকারমুক্ত হলো জিন্দাবাজারস্থ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ। আর আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে হকারদের মদদ দেওয়ার অভিযোগে বরখাস্ত হলেন অফিস সহকারী হোসেন আহমদ।

সোমবার (৯ জুলাই) দুপুরে অভিযান চালিয়ে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সামনের অংশে বসা হকারদের উচ্ছেদ করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উম্মে সালিক রুমাইয়া। এসময় অবৈধভাবে হকার বসানোর দায়ে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের অফিস সহকারী হোসেন আহমদকেও মৌখিকভাবে বরখাস্ত করা হয়।

বরখাস্ত অফিস সহকারী হোসেন আহমদ

জানা গেছে- গত এক মাস আগে একবার অভিযান চালিয়ে জিন্দাবাজারস্থ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সামনের অংশ হকারমুক্ত করেন উম্মে সালিক রুমাইয়া। উচ্ছেদ অভিযান শেষ করে যেতে না যেতেই হকাররা গুরুত্বপূর্ণ এ জায়গাটি পুনরায় দখলে নেয়। আর হকারদের দখলদারিত্বের এমন নেপথ্যে ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা সংসদের অফিস সহকারী হোসেন আহমদ। তিনি টাকার বিনিময়েই এসব হকারদের এখানে বসাতেন এমন অভিযোগে সে সময় তাকে সতর্কও করেছিলেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। কিন্তু এ সতর্কের পরও কোন কাজ না হওয়ায় সোমবার পুনরায় অভিযানে নামেন তিনি।

মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সামনে হকার উচ্ছেদ অভিযান। ছবি : অসমিত অভি

এ ব্যাপারে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উম্মে সালিক রুমাইয়া সিলেট ভয়েসকে বলেন, “গত রোজার মাসে আমি বাজার মনিটরিং করতে বের হলে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সামনে হকার বসা দেখে তাদের উচ্ছেদ করি। এসময় মুক্তিযোদ্ধা সংসদের অফিস সহকারীর কাছে হকার বসানোর কারণ জানতে চাইলে সে বসায়নি বলে জানায়। তখন তাঁকে বলেছিলাম আর যদি পুনরায় হকার বসে তাহলে আমাদের জানাতে। কিন্তু পুনরায় হকার বসলেও সে আমাদের জানায়নি। এ অবস্থায় সোমবার আমি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের ডিউটিতে যাওয়ার সময় দেখি এখানে পুনরায় হকার বসেছে। পরে আমি গাড়ি থেকে নেমে হকারদের উচ্ছেদ করি এবং অফিস সহকারী হোসেন আহমদকে আমাদের অফিসে নিয়ে এসে তার জবানবন্দি গ্রহণ করে ডিসি স্যারের পরামর্শক্রমে তাকে তাৎক্ষণিক ভাবে মৌখিক বরখাস্ত করেছি। এখন লিখিতভাবে তাঁকে বরখাস্ত করা হবে।”