হকারমুক্ত সিলেট, স্বস্তিতে নগরবাসী

ফাঁকা সড়ক, যানজটমুক্ত নগরী আর ফুটপাত দিয়ে স্বাচ্ছন্দে হাঁটা যেন একদিন আগেও নগরবাসীর কাছে কেবল একটি স্বপ্ন ছিলো। তবে এ স্বপ্ন এবার বাস্তব হয়েছে। হকারদের প্রধান দৌরাত্ম্যের স্থান বন্দরবাজারসহ নগরীর অনেক ফুটপাতই এখন প্রায় ফাঁকা।

মঙ্গলবার (৫ জুন) নগরীর বন্দরবাজার ঘুরে দেখা যায়, রাস্তায় কোন হকার নেই। ফুটপাত পুরোটাই ফাঁকা। আর ফাঁকা ফুটপাত দিয়ে অনেকটা স্বচ্ছন্দেই হাঁটছেন পথচারীরা। একই অবস্থা নগরীর জিন্দাবাজারেও। তবে জিন্দাবাজারে গুটি কয়েক হকারের দেখা মিললেও তারাও যেন অনেকটা একা! কেবল বন্দরবাজার আর জিন্দাবাজার নয়, পরো নগরীই যেন এখন হকারমুক্ত। কোন ধরণের প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ ছাড়াই নিজ থেকে তারা যেন মুক্তি দিলেন নগরবাসীকে।

গতকাল সোমবার (৪ জুন) নগর ভবনে হামলা করেন হকাররা। এ হামলার পর ওই দিন বিকালে নগর ভবনে নগরীর সর্বস্তরের জনসাধারণকে নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সকলে হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে হামলাকারীদের ২৪ ঘন্টার মধ্যে আইনের আওতায় আনার সময় বেঁধে দেন। এরপর রাতেও একই বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন সিটি মেয়র আরিফ। সেখান থেকে হামলাকারীদের গ্রেপ্তারে ২৪ ঘন্টার আল্টিমেটাম দেয়া হয়।

আরো পড়ুন নগর ভবনে হামলাকারীদের গ্রেপ্তারে আল্টিমেটাম

নগর ভবনে হামলার পরই হকাররা প্রায় নিজ থেকে কিছুটা অগোচরে আড়ালে চলে গেছেন, এমনটাই মনে করছেন নগরবাসী। নগরীর জালালাবাদের বাসিন্দা ইমরান আহমদ বলেন, গতকাল শুনেছি মেয়রের সাথে হকারদের সমস্যা হয়েছে। হয়তো এ কারণেই তারা ভয়ে সরে গেছে।

তবে যেভাবেই ফুটপাত দখলমুক্ত হোক না কেন, জনসাধারণ এতে শান্তিতে চলাচল করতে পারছেন। জেলা প্রশাসনের সামনের ফুটপাত দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন নগরীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী পাপিয়া আক্তার। তিনি বলেন, প্রতিদিন ভার্সিটিতে যাওয়ার সময় মূল সড়কেও যেন হাঁটার জায়গা পাওয়া যায় না। অথচ একদিনের ব্যবধানে আজ পুরো ফুটপাত ফাঁকা! সব সময় যদি এরকম থাকতো, তাহলে অন্তত কিছুটা শান্তিতে চলাচল করা যেতো।

আদালতের নির্দেশ, সিটি কর্পোরেশনের হকার উচ্ছেদ অভিযান- কোন কিছুই যেন এ নগরীর ফুটপাতকে হকারমুক্ত করতে পারেনি। বরং সময়ে সময়ে ফুটপাত দখল করতে করতে এক পর্যায়ে মূল সড়কের তিন ভাগের এক অংশও দখলে নিয়েছেন হকাররা। এমতাবস্থায় আদালতের নির্দেশে হকারদের আশ্রয়দাতা হিসেবে হকার্সলীগ নেতা আব্দুর রকিবকে গ্রেপ্তার করলেও মুচলেকা দিয়ে বেরিয়ে আসেন তিনি। এসে পুনরায় বেপরোয়া হয়ে ওঠেন আব্দুর রকিব। মুচলেকা দিয়ে ছুটে এসে গুটানোর কথা থাকলেও তিনি গুটিয়ে নয়, বরং দখলদারিত্বে হয়েছেন আরো বেপরওয়া।

বিশেষ করে রমজান মাসে হকাররা বেপরোয়াভাবে দখলদারিত্ব শুরু করলেও কেবল রমজান মাসের কথা বিবেচনায় সিটি কর্পোরেশনও হয়তো কিছুটা নিরব ছিলো। তবে পুরো নগরীর ফুটপাতসহ মূল সড়কের কিছু অংশ দখলে নিয়েও যখন শান্ত নয় হকাররা, বরং যখন মূল সড়কের অধিকাংশ জায়গা দখলে নিতে চাচ্ছেন, তখন বাঁধা হয়ে দাঁড়ান সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী।

সোমবার মূল সড়ক দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদে নামেন তিনি। আর এতেই তৈরি হয় সমস্যা। বেপরোয়া হকাররা মেয়রের কথা অমান্য করে প্রায় জোরপূর্বক ফুটপাতে বসতে চান। হকারদের সাথে যুক্ত হন হকারদের মূল হোতা হকার্সলীগ নেতা আব্দুর রকিব। প্রথমেই মেয়রের সাথে বাকবিতন্ডায় জড়ান তিনি। এক পর্যায়ে মেয়রকেও কিছুটা উত্তেজিত হতে দেখা যায়। এসময় উপস্থিত সকলের সহযোগীতায় মেয়র এবং রকিব উভয়ে সরে গেলেও ক্ষমতা দেখাতে বেশি দেরি করেননি রকিব। কিছুক্ষণ পরই কয়েক শত হকার নিয়ে হামলা চালান নগর ভবনে। ছুঁড়েন ইট পাটকেল, লাঞ্ছিত করেন সিটি কর্পোরেশনের কয়েকজন কর্মকর্তাকে। পরে সিটি কর্পোরেশনের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হস্তক্ষেপে নগর সরে যান হামলাকারী হকাররা।