সড়কে বসতে না দেয়ায় নগর ভবনে হামলা (ভিডিওসহ)

এমনিতেই সিলেট নগরীর কোনো ফুটপাতে হাঁটার জো নেই। রমজান মাসের শুরু থেকে সড়কের একাংশও দখল করে রেখেছে হকাররা। সংযমের মাস দেখেই কিনা, নগর ভবন থেকেও হকার উচ্ছেদে ছিল না চোখে পড়ার মতো কোনো তৎপরতা। তবুও যেনো আক্ষেপ রয়ে গেছে হকারদের। সড়কের আরো বেশি জায়গা জুড়ে বসতে না দেয়ায় সোজা নগরভবনেই হামলা চালিয়েছে তারা।

সোমবার (৪ জুন) বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে প্রায় শতাধিক হকার একজোট হয়ে ভাংচুর চালায় বন্দরবাজার এলাকা জুড়ে। বাদ পড়েনি সড়কে চলাচলরত যানবাহনও। ইট পাটকেল ছুঁড়েছেন নগর ভবনেও। এসময় কর্পোরেশনের কয়েকজন কর্মচারীকেও লাঞ্ছিত করে তারা।

ঘটনার সুত্রপাত সোমবার বিকেলে। সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নগর ভবনের সামনের সড়ক ও ফুটপাতে বসতে নিষেধ করেন হকারদের। ব্যাপারটিকে আগ্রাসন হিসেবেই নিয়েছে হকাররা। হকার্স লীগ নেতা আব্দুর রকিবের নেতৃত্বে মুহূর্তেই একাট্টা হকাররা। এরপর লাঠিসোঁটা আর ইট-পাটকেল নিয়ে বন্দরবাজার এলাকায় মিছিল করতে থাকে তারা। সড়কে তারা যান চলাচলও বন্ধ করে দেয়। ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে নগর ভবনের দিকে। সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুর হক চৌধুরী হামলার খবর শুনে নেমে আসলে তাঁকে ঘিরে ধরে হকাররা। এসময় হকারদের নেতা রকিবের সাথে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয় মেয়রের। মেয়রের কথার সাথে উত্তেজিত হকার্স লীগ নেতা রকিবকে বেশ আগ্রাসী হতে দেখা যায়। মেয়রের দিকে বার বার তেড়ে যাচ্ছিলেন তিনি। নগর ভবনের কর্মচারীদের বাধার মুখে সেখান থেকে ফিরেই বন্দর বাজারে কয়েকটি গাড়িতে ভাঙচুর চালায় হকাররা।

মেয়রের সাথে বাক বিতণ্ডায় জড়ালো রকিব

ঘটনা সম্পর্কে সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা শাহাব উদ্দিন শিহাব বলেন, হকাররা মিছিল থেকে নগর ভবনে হামলা চালায়, ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। আব্দুর রকিবের নেতৃত্বে শতাধিক হকার এ হামলা চালায়। এ সময় মেয়র আরিফুল হক নগর ভবনে নিজের দপ্তরেই ছিলেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে তিনি এ সময় বাইরে বেরিয়ে আসলে শ্রমিকরা তাঁকে লক্ষ করেও ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে। এসময় হকাররা সিটি করপোরেশনের হিসাব কর্মকর্তা ম আ ন ম মনছুফ ও আরো তিন কর্মচারীকে লাঞ্ছিত করেছে বলেও জানান তিনি।

নগর ভবনের কর্মচারীদের বাধার মুখে পিছু হটলেও, এসময় হকাররা বন্দরবাজার এলাকা থেকে এসে জিন্দাবাজার-চৌহাট্টা সড়কে বিক্ষোভ মিছিল করে। লাঠিসোটাসহ এই মিছিলের মেয়র আরিফের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেয় তারা। এসময় কয়েকটি যানবাহন ভাঙচুর করে তারা।

ঘটনার পরপরই বিকেল সাড়ে পাঁচটায় নগর ভবনে সংবাদ সম্মেলন করেন মেয়র। সংবাদ সম্মেলনে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, সিসিকের কর্মচারীরা ফুটপাতে না বসতে হকারদের অনুরোধ জানিয়েছিল। এরপরই আব্দুর রকিবের নেতৃত্বে হকাররা সংঘবদ্ধ হয়ে নগর ভবনে হামলা চালায়। আমার অফিস কম্পাউন্ডে এসে সিটি কর্পোরেশনের গাড়িতে ঢিল মারে।

নগর ভবনের প্রধান ফটকে অবস্থান নেয়া হকাররা

পুলিশের ভুমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আরিফুল হক বলেন, যখন উপস্থিত জনতা রকিবকে নিবৃত করার চেষ্টা করছিলো তখন বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির এসআই নজরুল তাকে সেভ করে নিয়ে যায়। ঘটনার সাথে সাথে আমি কোতোয়াল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ফোন করে জানালেও এখন পর্যন্ত পুলিশ আমার অফিসে আসেনি। হকারদের এই দুঃসাহসের পেছনে ক্ষমতাধর মহলের হাত আছে উল্লেখ করে মেয়র বলেন, আমি জনগণের কাছে বিচার চাই। আর কারো কাছে অভিযোগ করে তো লাভ নেই।

আরো পড়ুন বেপরোয়া হকাররা, অসহায় প্রশাসন

মেয়র আরো বলেন, জনগণের চলাচলের পরিবেশ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য এদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। আর যদি তা না করা হয় তবে জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমি জনগণকে সাথে নিয়ে আমার পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবো।

ভিডিও কার্টেসি : ওপেননিউজবিডি