স্বর্ণে অনিয়মের অভিযোগ পুরোপুরি সঠিক নয় : অর্থ প্রতিমন্ত্রী

ফাইল ছবি

বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বর্ণে অনিয়মের যে অভিযোগ উঠেছে সেটা পুরোপুরি সঠিক নয় বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান। বুধবার (১৮ জুলাই) সচিবালয়ে তার নিজ দফতরে এক জরুরি বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।

তিনি বলেন, পত্রিকায় যে মাত্রায় অনিয়মের খবর এসেছে, ঠিক ওই মাত্রায় কোনো হেরফের হয়নি। হয়ে থাকলেও সামান্য কিছু হয়েছে। আমলাতান্ত্রিক গাফিলতির কারণে সামান্য কিছু হেরফের হয়ে থাকলেও হতে পারে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা বিষয়টি পর্যালোচনা করছি। আরও পর্যালোচনা করে দেখব। যদি কারও কোনো গাফিলতি থাকে তাহলে নিশ্চই তার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এসময় মন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে ভয় পাবার কিছু নেই। ব্যাংকের স্বর্ণ ব্যাংকেই আছে। বাইরে যায়নি।

বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, এনবিআর সদস্য কালিপ্রদ, অর্থমন্ত্রণালয়ের ব্যাংকিং বিভাগের সিনিয়র সচিব ইনুছুর রহমান, অতিরিক্ত সচিব ফজলুর রহমান, শুল্ক গোয়েন্দা অধিদফতরের মহাপরিচালক সহিদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

অর্থপ্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বিষয়টি আমি গতকাল (মঙ্গলবার) পত্রিকায় দেখার পর খোঁজখবর নেওয়ার চেষ্ট করেছি। এর আগে এ বিষয়ে কোনো কিছু আমার জানা ছিল না। বিষয়টি দেখে আমি আঁতকে উঠি। ভয়াবহ ব্যাপার। বাংলাদেশের জন্য দুনিয়া কাঁপানো ঘটনা। এরপর আমি বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ, এনবিআর সহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথাবলি। তবে সন্ধ্যা নাগাদ আমার ভীতি কমে এসেছে। আমি আশ্বস্থ হয়েছি, যে মাত্রায় সংবাদপত্রে পরিবেশিত হয়েছে তা সঠিক না। সামান্য কিছু হেরফের হতে পারে। এটা হয়। তবে সব ঠিক আছে। স্বর্ণ ঘরেই আছে। এটা কাগজপত্রে লেখার ক্ষেত্রে বাংলায় ৪০, ইংরেজিতে এইটটি (৮০) হয়ে যাওয়ার মতো হতে পারে। সামান্য কিছু হেরফের হতে পারে। আমি সবার সঙ্গে কথা বলেছি, তারা আমাকে আশ্বস্থ করেছেন, ভয় পাওয়ার কিছু নেই।

সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে অর্থপ্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘তার মানে এই নয় যে আমরা বিষয়টি ছেড়ে দিলাম। এ ক্ষেত্রে আমলাতান্ত্রিক গাফিলতি থাকতে পারে। কোথায় গাফিলতি আছে সেটা সরকার পর্যালোচনা করে দেখবে। স্বর্ণ বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। সেখানে ৬ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আছে। এখান থেকে কিছু বাইরে যায় না, আপনারা নিশ্চিত থাকেন। তবে আমি বিষয়টিকে খাটো করে দেখছি না। আমাদের মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠমন্ত্রী (অর্থমন্ত্রী) দেশের বাইরে আছেন। তিনি আসার পর আমি তাকে বিষয়টি বিস্তারিত জানাবো। আমরা আরও পর্যালোচনা করবো। স্বর্ণের মাপে সামান্য হেরফের হয়ে থাকে। সামান্য কিছু হেরফের হলেও কেন হলো সেটা আমরা দেখবো। যে মাত্রায় হেরফেরের কথা বলা হয়েছিলো সেই মাত্রা বাস্তব ভিত্তিক না। কিছু আমলাতান্ত্রিক গাফিলতি আছে। গাফিলতি হলে সরকার অবশ্যই ব্যবস্থা নেবে।’

এর আগে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), শুল্ক গোয়েন্দা ও বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তাদের নিয়ে সকাল সাড়ে ১০টায় বৈঠকে বসেন অর্থ প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান।

উল্লেখ্য, শুল্ক গোয়েন্দা অধিদফতরের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে একটি জাতীয় দৈনিতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, দৈবচয়ন ভিত্তিতে নির্বাচন করা বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে রক্ষিত ৯৬৩ কেজি সোনা পরীক্ষা করে বেশিরভাগের ক্ষেত্রে অনিয়ম ধরা পড়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সোনা পরিণত হয়েছে সংকর বা মিশ্র ধাতুতে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে ২২ ক্যারেট সোনা হয়ে গেছে ১৮ ক্যারেট।

পরে ওই প্রতিবেদন প্রসঙ্গে ব্যাখ্যা দিতে মঙ্গলবার (১৭ জুলাই) এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ব্যাংক দাবি করে, ব্যাংকের ভল্টে রাখা সোনার পরিমাণে তারতম্য হওয়ার যে খবর প্রকাশিত হয়েছে তা সত্য নয়। কিছু ‘ক্ল্যারিক্যাল মিসটেকের কারণে কিছু জটিলতা তৈরি হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলেন, সোনার পরিমাণ ৪০ শতাংশ থাকলেও তাকে ইংরেজি ভাষার ‘80’ মনে করে কেরানির ভুলে ৮০ শতাংশ বলে উল্লেখ করায় এই হেরফের ঘটেছে। এ ছাড়া, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভল্ট অত্যন্ত সুরক্ষিত এবং সেখানে প্রবেশের জন্য গভর্নরকেও অনুমতি হয় উল্লেখ করে কর্মকর্তারা বলেন, সেখান থেকে কেউ সোনার চাকতি নিয়ে যাবে, এটা হতে পারে না। শুল্ক গোয়েন্দাদের ব্যবহৃত সোনা পরিমাপের যন্ত্র নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তারা।