স্কুলের পাশে সিগারেট বিক্রি বন্ধে ব্যবস্থা নেবে সরকার

বাংলাদেশের স্কুলের আশপাশের ৯০ শতাংশ দোকানে সিগারেটসহ বিভিন্ন তামাক ও তামাকজাত পণ্য বিক্রি করা হয় বলে জানায় তামাকবিরোধী সংগঠন প্রজ্ঞা। তামাকের ব্যবহার কমাতে পাবলিক প্লেসে ধূমপান বন্ধে আইনের সঠিক বাস্তবায়নের পাশাপাশি সিগারেটের দাম বাড়ানোর দাবি জানায় সংগঠনটি। সংগঠনটির এমন দাবির ভিত্তিতে শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, স্কুলের আশপাশের দোকানগুলোতে সিগারেট বিক্রিসহ সকল প্রকার তামাকজাত পণ্য বিক্রি বন্ধে সরকার ব্যবস্থা নেবে। একই সাথে পাঠ্যপুস্তকে তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব তুলে ধরা হবে বলেও জানান তিনি।

প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) এবং অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া অ্যালায়েন্স- আত্মা যৌথভাবে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রোববার (২৭ মে) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে তামাক নিয়ন্ত্রণ সাংবাদিকতা পুরস্কার এবং বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ‘তামাক ও হৃদরোগ’ বিষয়ক এক উপস্থাপনায় এ তথ্য জানান প্রজ্ঞার কো-অর্ডিনেটর মো. হাসান শাহরিয়ার।

তাঁর দেওয়া এমন তথ্যের ভিত্তিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নূরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, ‘আগামীতে পাঠ্যপুস্তকে আলাদাভাবে তামাকের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরা হবে। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে শিক্ষার্থীদের হাতে যেসব পাঠ্যপুস্তক যাবে তাতে সিগারেটসহ তামাকের ক্ষতিকর দিক নিয়ে আলাদাভাবে লেখা থাকবে। বর্তমানে মাদক নিয়ে লেখা থাকলেও তামাক নিয়ে আলাদা ভাবে কোনো লেখা নেই।’

‘তামাক ও হৃদরোগ’ বিষয়ক উপস্থাপনায় বলা হয়, তামাকজনিত মহামারি প্রতি বছর বিশ্বের ৭০ লাখ মানুষের প্রাণ কেড়ে নেয়। পরোক্ষ ধূমপানে মারা যায় ৯ লাখ মানুষ।

বিশ্বের এক নম্বর মরণব্যাধি হৃদরোগ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে প্রতিবছর সারা বিশ্বে ২০ লাখ মানুষ তামাক ব্যবহারের কারণে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। আর বাংলাদেশে যত মানুষ হৃদরোগে মারা যান তার ৩০ শতাংশ তামাক ব্যবহারের কারণে। এ সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে।

গবেষণার তথ্য-উপাত্ত দেখিয়ে বলা হয়, অধূমপায়ীদের তুলনায় ধূমপায়ীদের হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি দ্বিগুণ, স্টোকের ঝুঁকি তিনগুণ, বুকে ব্যথা ঝুঁকি ২০ গুণ। দিনে একটি করে সিগেরেট খেলেও হৃদরোগের ঝুঁকি ৫০ শতাংশ এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি ৩০ শতাংশ।