স্কুলছাত্রী তাসফিয়া হত্যার ঘটনায় বন্ধু আদনান আটক

নিহত তাসফিয়ার লাশ (বাঁয়ে), অভিযুক্ত আদনান (ডানে)

পতেঙ্গার কর্ণফুলী নদীর তীর থেকে নগরীর সানশাইন গ্রামার স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্রী তাসফিয়া আমিনের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় তার বন্ধু আদনান মির্জাকে আটক করেছে পুলিশ।

বুধবার (২ মে) রাতে তাকে নগরীর খুলশী এলাকা থেকে আটক করা হয়।

আটক আদনান খুলশী থানাধীন জালালাবাদ হাউজিং সোসাইটির বাসিন্দা ইস্কান্দার মির্জার ছেলে। সে নগরীর এলিমেন্টারি স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র।

এর আগে বুধবার (২ মে) সকালে স্থানীয়রা খবর দিলে পুলিশ গিয়ে পতেঙ্গার ১৮ নম্বর ঘাটের পাশে কর্ণফুলী নদীর পাড় থেকে অজ্ঞাত পরিচয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে। পরে বিকালে পরিবারের লোকজন থানায় গিয়ে নিশ্চিত করে মরদেহটি তাদের মেয়ে তাসফিয়া আমিনের।

তাসফিয়া আমিনদের গ্রামের বাড়ি কক্সবাজারের টেকনাফের ডেইল পাড়া এলাকায়। তার পরিবার নগরীর ওআর নিজাম আবাসিক এলাকার তিন নম্বর সড়কের কে আর এস ভবনে থাকে।

পতেঙ্গা থানার ওসি আবুল কাশেম ভূইয়া জানান, “তাসফিয়ার পরিবারের মাধ্যমে আমরা জানতে পারি মঙ্গলবার (১ মে) বিকালে সে তার ছেলে বন্ধু আদনানের সঙ্গে বের হয়। এরপর আমরা তার বিষয়ে খোঁজ খবর নিতে থাকি। এ ঘটনা সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা থাকতে পারে এমন ধারণা থেকে আমরা আদনানকে বুধবার রাতে আটক করি। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।”

তিনি আরও জানান, “আদনানকে জিজ্ঞাসাবাদ করে কিছু তথ্য আমরা পেয়েছি। তদন্তের স্বার্থে আমরা এটা এখনই প্রকাশ করতে চাচ্ছি না।”

তাসফিয়ার পরিবার জানিয়েছে, মঙ্গলবার বিকালে বাসার কাউকে না জানিয়ে তাসফিয়া আমিন বের হন। এরপর বন্ধু আদনান মির্জার সঙ্গে নগরীর গোলপাহাড় মোড় এলাকার চায়না গ্রিল নামে একটি রেস্টুরেন্টে যান। বিকেল ৬টার দিকে যখন তার মা তাকে ফোন করেন তখন তাসফিয়া ওই রেস্টুরেন্টে ছিল। এরপর রাত ৯টা পর্যন্ত সে বাসায় না ফেরায় তাকে খোঁজাখুজি শুরু করে পরিবারের লোকজন। রাতভর খোঁজাখুঁজি করে তার কোনও সন্ধান পাওয়া যায়নি। বুধবার সকালে পতেঙ্গা থেকে লাশ উদ্ধার হলে ছবি দেখে তারা নিশ্চিত হন মরদেহটি তাসফিয়া আমিনের। তাসফিয়া নিহতের ঘটনায় তার বন্ধু আদনানকে দায়ী করেছে তাসফিয়ার পরিবার।