‘বৃষ্টি আর বঙ্গবন্ধু কন্যার চোখের জল এক হয়ে মিশেছিলো’

১৫ আগস্ট ১৯৭৫। বাংলাদেশের ইতিহাসে এক ভয়াবহ রাত। এই রাতেই ঘাতকরা স্তব্ধ করে দিয়েছিল সদ্য স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশকে। নির্মমভাবে হত্যা করেছিল জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের। বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা তখন সুদূর প্রবাসে। তাই ভাগ্যক্রমে ওই হত্যাকাণ্ড থেকে বেঁচে যান তিনি। তাঁর সঙ্গে বেঁচে যান বোন শেখ রেহানাও।

আজ ১৭ মে। আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৩৮তম স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস। ১৯৭৫ সালে সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর দীর্ঘ প্রবাস জীবন কাটিয়ে ১৯৮১ সালের এই দিনে দেশে ফেরেন তিনি।

নিজের ফেসবুকে দেয়া এক পোস্টে সেই দিনটির স্মৃতিচারণ করেছেন অঞ্জন রায়। এখানে তাঁর সেই লেখাটি তুলে ধরা হলো-

‘বার বার থমকে দাঁড়াই এই ছবিটির সামনে। তাকিয়ে থাকি সেই শেখ হাসিনার দিকে। মা, বাবা, ভাইসহ প্রায় সকল স্বজন হারানো তিনি যখন দাঁড়িয়ে আছেন ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের সামনে।

তখন কিভাবে স্থির ছিলেন বঙ্গবন্ধু কন্যা? সিঁড়ি আর দেয়ালে রক্তের দাগ, মা বাবা আর শিশু ভাইটির রক্তধারা আলাদা ভাবে চেনা যাচ্ছে না যে বাড়িটিতে। তিনি সেই বাড়িটি দেখছেন। প্রবল বৃষ্টির মাঝেও রাষ্ট্র তাকে অনুমতি দেয়নি বাড়িটিতে প্রবেশের। সেদিন বৃষ্টি আর বঙ্গবন্ধুর কন্যার চোখের জল এক হয়ে মিশেছিলো বাংলাদেশের মাটিতে।

অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে নির্গত জলধারা তাকে দাঁড় করিয়েছিলো ইতিহাসের সামনে। আর ইতিহাস তার দায়িত্ব তুলে দিয়েছিলো জাতির জনকের কন্যার কাঁধে। দায়িত্ব নিয়ে তিনি হেঁটেছেন ইতিহাসের নির্ধারিত পথেই।

চলার পথে পথে পাথর ছড়ানো শুধু নয়, গ্রেনেডও ছড়ানো ছিলো। সেই পথযাত্রার এতোগুলো বছর পার হলেও আজো থামেনি সেই অশ্রুধারা। কমেনি পাথরচাপা শোকের কষ্ট।’

  • লেখক : অঞ্জন রায়, সাংবাদিক।