সুনামগঞ্জ স্বেচ্ছাসেবক দল-ছাত্রদলে পদপ্রত্যাশীদের দৌড়ঝাঁপ শুরু

সুনামগঞ্জ জেলা যুবদলের কমিটি গঠনের পর এবার স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের সুনামগঞ্জ জেলা কমিটি আসছে বলে গুঞ্জন উঠেছে বিএনপি ঘরানার রাজনৈতিক মহলে। দলীয় হাইকমান্ডের বরাত দিয়ে বিষয়টি নিশ্চিতও করছেন অনেকে।

নতুন কমিটি আসার এমন গুঞ্জনকে কেন্দ্র করে এরই মধ্যে শুরু হয়েছে পদ প্রত্যাশী নেতাকর্মীদের দৌড়ঝাঁপ। দলের বড় পদগুলো ভাগীয়ে নিতে স্থানীয় প্রভাবশালী নেতৃবৃন্দ থেকে শুরু করে দৌড়ঝাঁপ চলছে কেন্দ্র পর্যন্ত। পদ পাওয়ার এ সুযোগ কাজে লাগাতে দীর্ঘ দিনের নিষ্ক্রিয় নেতাকর্মীরাও নামছেন রাস্তায়। ফলে সমকালীন আন্দোলনে সুনামগঞ্জ স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলে এখন অন্য এক আবহ বিরাজ করছে।

দলকে চাঙ্গা করতে সারাদেশব্যাপী বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিগুলো ভেঙে নতুন কমিটি গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। এরই অংশ হিসেবে শুক্রবার রাতে ৩১ জেলার সঙ্গে সুনামগঞ্জ জেলা যুবদলের কমিটি অনুমোদন করে কেন্দ্রীয় কমিটি।

এরই ধারাবাহিকতায় যুবদলের পর স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের সুনামগঞ্জ জেলা কমিটিতে নতুন নেতৃত্ব আসছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি সারা দেশ ব্যাপী অঙ্গসংগঠনের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিগুলো ভেঙে নতুন কমিটি গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। সেই সাথে তাদের লক্ষ্য দেশব্যাপী ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন। সে কারণে যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দলের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি ভেঙে নতুন কমিটি গঠন করা হবে।

দলকে তৃণমূল পর্যায়ে শক্তিশালি করতে এরই মধ্যে জেলা যুব দলের কমিটি দেয়া হয়েছে। ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আবুল মনসুর মো. শওকত সভাপতি ও অ্যাড. মামুনুর রশিদ কয়েছকে সাধারণ সম্পাদক করে ৫ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি অনুমোদন করা হয়।

এদিকে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল এবং ছাত্রদলের কমিটি অনেক আগেই মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গেছে। বিশেষ করে ছাত্রদলের শীর্ষ নেতৃত্বের অনেকেই আসীন হয়েছেন মূল দল বিএনপির শীর্ষ পদে। এর মধ্যে ছাত্রদলের আহ্বায়ক নূরুল ইসলাম নূরুল জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে আছেন। যুগ্ম আহ্বায়ক আমিনুর রশিদ আমিন জেলা যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতির দায়িত্ব পেয়েছেন। আরো দুই যুগ্ম আহ্বায়ক জামাল উদ্দিন বাকের জেলা বিএনপির দফতর সম্পাদক ও মঈন খান ময়না জেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক। দুই যুগ্ম আহ্বায়ক তোফাজ্জল হোসেন এবং কামরুল হাসান রাজু নবগঠিত জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়েছেন। যে কারণে অনেকটা নেতৃত্বহীন অবস্থায় আছে বিএনপির অন্যতম শক্তিশালী অঙ্গসংগঠন ছাত্রদল।

অন্যদিকে স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল নোমান ও যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল ইসলাম সাজু মূল দল বিএনপির জেলা কমিটিতে বিভিন্ন পদে রয়েছেন।

এ অবস্থায় আহ্বায়ক কমিটি ভেঙে ঈদের আগেই স্বেচ্ছাসেবক দলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেয়া হতে পারে। নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, শীঘ্রই আসতে পারে এই দুটি অঙ্গসংগঠনের জেলা কমিটি। আর এ জন্য পদ প্রত্যাশীরা দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন ঢাকা ও সুনামগঞ্জের বিএনপির প্রভাবশালী নেতাদের কাছে।

সুনামগঞ্জ পৌর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক শাহ ফরহাদ বলেন, শুনেছি শীঘ্রই ছাত্রদলের কমিটি হবে। আমরা আশা করি নতুন কমিটিতে ত্যাগী, পরীক্ষিত কর্মীবান্ধব এবং যোগ্যদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে। যারা আগামীর আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারবে। আমরা সাহসী নেতা-কর্মীদের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী কমিটি চাই।

জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও নবগঠিত যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল হাসান রাজু বলেন, ঈদের আগেই জেলা ছাত্রদলের কমিটি করার নির্দেশনা আছে। ঈদের আগে না হলে ঈদের পরে ছাত্রদলের নতুন কমিটি হবে।

এ ব্যাপারে স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল নোমানের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।