সুনামগঞ্জে প্রেমিকের প্রতারণার শিকার তরুণী

নারী দিবসে ঘুরলেন দ্বারে দ্বারে

নারী দিবসেই নিজের ওপর দীর্ঘদিনের চলা অন্যায় অবিচারের বিচার চেয়ে দ্বারে দ্বারে গেলেন প্রতারণার শিকার এক তরুণী। বৃহস্পতিবার (৮ মার্চ) সকাল থেকে কয়েকবার তিনি সুনামগঞ্জ সদর থানা, জেলা মহিলা পরিষদ ও সংবাদপত্র অফিসে এসে ধরনা দেন এবং নিজের উপর করা নির্যাতনের বর্ণনা দেন।

প্রতারণার শিকার ঐ তরুণী শহরতলির মোল্লাপাড়া ইউনিয়নের হবিবপুরের প্রেমিক জমির আলীর বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার সদর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ১৯ বছরের ঐ তরুণীর সঙ্গে হবিবপুরের জমির আলীর ২ বছর আগে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত বছরের মে মাসে ঐ তরুণীর সঙ্গে বিয়ের প্রলোভনে শারীরিক সম্পর্কে জড়ান জমির। এক পর্যায়ে ঐ তরুণী গর্ভবতী হয়ে পড়েন। বিয়ে করার শর্তে তরুণীর গর্ভপাত ঘটনান জমির আলী। কিন্তু গর্ভপাতের পর তাকে বিয়ে করতে অসম্মতি জানায় জমির।

এ ঘটনার বিচার চেয়ে জমির আলীর বিরুদ্ধে গত ১৯ সেপ্টেম্বর আদালতে মামলা দায়ের করেন তরুণী। সদর থানার এসআই প্রদীপ চক্রবর্তী মামলাটির চার্জসিট দাখিল করেন। পরে আদালত থেকে জামিন পান জমির আলী। জামিন পেয়ে একই গ্রামের আরেক যুবতীকে শুক্রবার (৯ মার্চ) বিয়ে করার আয়োজন করেছেন জমির আলী। মামলা নিস্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত জমির আলীর বিয়ের সকল কার্যক্রম বন্ধ রাখতে পুলিশের সহায়তা চেয়েছেন ঐ তরুণী।

প্রতারণার শিকার তরুণী জানান, গত ৮ সেপ্টেম্বর এ ঘটনা নিয়ে হবিপুর গ্রামে সালিশ বিচারও অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ঐ সালিশে অভিযুক্ত জমির আলী দায় স্বীকার করে তাকে ১ লাখ টাকা দেনমোহরে বিয়ে করতে রাজী হয়েছিলেন। কিন্তু পরদিনই বিয়ে করতে অস্বীকার করে জমির।

অভিযুক্ত জমির আলীর ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে পর পর কয়েকবার চেষ্টা করলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেওয়া যায় নি।

অভিযুক্ত জমির আলীর আপন চাচা মোল্লাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ সদস্য ইলিয়াছ আলী বলেন, জেনে শুনে কিভাবে জমির আলীর কাছে গ্রামের একটি মেয়েকে বিয়ে দেয়া হচ্ছে তা ভেবে পাই না। কারণ জমির আলী আমার আপন ভাতিজা হলেও সে ছেলে ভাল নয়। এর আগে আরেকটি মেয়ের সাথে সে এসব ঘটনা করেছে। পরে অনেক কষ্ট করে ঐ মেয়েকে বিয়ে দেয়া হয়েছে। এরপর একটি তরুণির সঙ্গে সম্পর্কের বিষয় নিয়ে আদালতে মামলা চলছে, এখন অন্য আরেক মেয়েকে বিয়ে করতে চাচ্ছে সে।’

হবিবপুরের পাশের মনোহরপুরের বাসিন্দা কবিরুল আলম বলেন, এলাকার সবাই জমির আলীর এই ঘটনা জানেন। সালিশ বৈঠকে সে সকল দায় স্বীকার করে বিয়ে করবে বলে কথাও দিয়েছিল। কিন্তু পরদিনই বিয়ে করতে অস্বীকার করে। এখন আবার অন্য একটি মেয়েকে বিয়ের আয়োজন করেছে।’

সুনামগঞ্জ সদর থানার ওসি মো. শহীদুল্লাহ বলেন, প্রতারণার শিকার তরুণির লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’