সুনামগঞ্জে বাল্কহেডের ধাক্কায় নৌকা ডুবি, শ্রমিক নিখোঁজ

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় রক্তি নদীতে বাল্কহেডের ধাক্কায় শ্রমিক পরিবহনকারী নৌকা ডুবে এক নারী শ্রমিক নিখোঁজ হয়েছেন। তাঁর নাম হ্যাপি আক্তার (৩০)। তিনি পাশ্ববর্তী বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের ফুলবরি গ্রামের মহব্বত আলীর স্ত্রী। বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় উপজেলার বালিজুড়ি ইউনিয়নের বালিজুড়ি বাজারের কাছে রক্তি নদীতে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ মে) দুপুর ২ টা পর্যন্ত নিখোঁজ নারী শ্রমিক হ্যাপি আক্তারের সন্ধান পাওয়া যায়নি। বৃহস্পতিবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছন তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পূর্ণেন্দু দেব ও ফতেপুর ইউপি চেয়ারম্যান রনজিৎ চৌধুরী রাজন।

নৌকাডুবির ঘটনায় আরও ১০ শ্রমিক আহত হয়েছেন। গুরুতর আহতদের মধ্যে ফুলবরি গ্রামের ইব্রাহিম আলীর ছেলে সৈয়দ আলী (৩৫) ও আরব আলীর ছেলে জুয়েল মিয়া (৩০) কে সিলেট এমএজি ওসমানি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হছেন।

আহতরা অন্যরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন ফতেপুর ইউপি চেয়ারম্যান রনজিৎ চৌধুরী রাজন।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার দিনভর যাদুকাটা নদীতে বালু-পাথর উত্তোলনের কাজ শেষে ৩০ জন শ্রমিক নৌকাযোগে ফুলবরি গ্রামে ফিরছিলেন। পথে পেছন দিক থেকে আসা আল্লাহ ভরসা পরিবহন নামের একটি বাল্কহেড শ্রমিকদের পরিবহনকরা নৌকাটিকে ধাক্কা দিলে সেটি ডুবে যায়। এসময় অন্য শ্রমিকরা সাঁতরিয়ে নদীর তীরে উঠলেও নিখোঁজ হন হ্যাপি আক্তার। দুর্ঘটনার পর চালক ও সহকারীরা নদীর তীরে বাল্কহেড ফেলে পালিয়ে যায়। বুধবার সন্ধ্যার পর থেকে রক্তি নদীর তীরে আহাজারি করছেন নিখোঁজ হ্যাপি আক্তারের স্বজনরা।

তাহিরপুর থানার ওসি নন্দন কান্তি ধর বলেন,‘ বুধবার সন্ধ্যার সময় ঘটনাটি ঘটেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। স্থানীয়দের সহায়তায় রক্তি নদীতে উদ্ধার তৎপরতা চালানো হচ্ছে। উদ্ধার অভিযানের জন্য সিলেট থেকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিরা আসছেন।’