সীতাকুণ্ডে আগুন: বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি বেশিরভাগের অবস্থা আশঙ্কাজনক

0
0

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের বেসরকারি আইসিটি বিএম কনটেইনার ডিপোতে ভয়াবহ আগুনের ঘটনায় রাজধানীর শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি হওয়া রোগীর বেশিরভাগই আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছেন। সোমবার (৬ জুন) বেলা সাড়ে ১২টায় প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক আবুল কালাম।

সীতাকুণ্ডের ঘটনায় শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউটে বর্তমানে ১৪ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন জানিয়ে তিনি জানান, আজ সোমবার (৬ জুন) ভোর পর্যন্ত মোট ১৫ জন রোগী ভর্তি এসেছেন। তাদের মধ্যে একজন দগ্ধ না হওয়ায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকি ১৪ জন এখানে ভর্তি রয়েছেন।

বার্ন ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন ১৪ জনের মধ্যে ১০ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক উল্লেখ করে অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম জানান, তাদের মধ্যে চার জন ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) আছেন। ৪ জনের অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। এ ছাড়া ১৪ রোগীর মধ্যে ১৩ জনের চোখ ‘হাইলি এফেক্টেড’ হয়েছে। তাদের চিকিৎসায় ঢামেকের সংশ্লিষ্ট বিভাগের সহায়তা নেওয়া হচ্ছে।

বার্ন ইনস্টিটিউটের পরিচালক আরও জানান, ১০ সদস্যের মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করে অগ্নিদগ্ধ রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। সেইসঙ্গে ঢামেক থেকেও চিকিৎসকরা এসে তাদের দেখে গিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে এখান থেকে সবধরনের চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, বার্ন ইন্সটিটিউটের সমন্বয়ক সামন্ত লাল সেনের নেতৃত্বে চিকিৎসকদের একটি দল বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রয়েছেন। ওখান থেকে আরও ৭-১০ জন রোগী এখানে পাঠানো হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।

এর আগে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের কনটেইনার ডিপোতে আগুনের ঘটনায় গুরুতর দগ্ধ রোগীদের শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়। সবশেষ রবিবার (৫ জুন) দিবাগত রাত সাড়ে ৩টায় নজরুল ইসলাম মণ্ডল নামে এক গাড়িচালককে এখানে ভর্তি করা হয়।

হাসপাতাল সূত্রমতে, বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি হওয়া অগ্নিদগ্ধদের অধিকাংশই শ্রমিক। দুই জন ফায়ার সার্ভিসকর্মী ও পাঁচ জন গাড়িচালক। ফায়ার সার্ভিসকর্মীরা হলেন- গাউসুল আজম ও রবিন। তাদের মধ্যে একজন লাইফ সাপোর্টে এবং একজন আইসিইউতে ভর্তি আছেন।

এর আগে শনিবার (৪ জুন) রাত সাড়ে ১০টায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে সীতাকুণ্ড উপজেলার কদমরসুল এলাকার প্রাইভেট আইসিটি বিএম কনটেইনার ডিপোতে আগুন লাগে। সংশ্লিষ্টরা জানান, রাতে একটি কনটেইনারে আগুন লাগে। পরে সেটি বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে আগুন ডিপোর বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে।

এ দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৪৯ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। যার মধ্যে ২২ জনের লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকিদের পরিচয় নিশ্চিত হতে ডিএনএ টেস্ট করছে সিআইডি।

সীতাকুণ্ডে আগুন: বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি বেশিরভাগের অবস্থা আশঙ্কাজনক