সিসিক নির্বাচন ও কিছু ব্যক্তিগত ভাবনা

সিলেট নগরীর হাউজিং এষ্টেট এলাকার সৌন্দর্য্যবর্ধন কাজের উদ্বোধন উপলক্ষে স্থানীয় কাউন্সিলরের পক্ষ থেকে হাউজিং এষ্টেট এ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দকে শুক্রবার বাদ জুম্মা কাউন্সিলর কার্যালয়ে আমন্ত্রণ জানানো হয়। এ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সম্পাদক হিসাবে আমিও বাদ জুম্মা কাউন্সিলর কার্যালয়ে যাই।

কাউন্সিলর কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে দেখি, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রথম মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান কথা বলছেন । তিনি অনির্ধারিতভাবে হাউজিং এষ্টেট জামে মসজিদে জুম্মার নামাজ আদায় করতে এসেছিলেন। নামাজ শেষে স্থানীয় কাউন্সিলর কয়েস লোদির কার্যালয়ে বসে এলাকার বিশিষ্টজনদের সাথে মতবিনিময় করছেন। সিলেটের রাজনৈতিক সংস্কৃতির এ এক উজ্জ্বল দিক। বিপরীত ধারার রাজনৈতিক বিশ্বাস ধারণ করেও পারস্পরিক সম্মান ও সৌজন্য প্রকাশ সিলেটে এখনো স্বাভাবিক। যা বাংলাদেশের অন্যান্য অঞ্চলে বিরল, যা সবার জন্য দৃষ্টান্ত।

দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্ব। দেশের প্রধান রাজনৈতিক নেতৃত্বের কাছে সুলতানে বাঙ্গাল হযরত শাহজালাল ইয়েমেনী (রহঃ) ও ৩৬০ আউলিয়া-এর পুণ্যভূমি সিলেট সিটি কর্পোরেশনের এক মনস্তাত্ত্বিক মর্যাদা রয়েছে। আর এই মর্যাদাপূর্ণ নগরীর দায়িত্বভার গ্রহণের জন্য প্রধান দুই রাজনৈতিক জোট শক্তিশালী প্রার্থীর অনুসন্ধান করছে।

সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন কামরান বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন। অন্যদিকে বর্তমান মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী চাইছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের মনোনয়ন। কামরান ও আরিফ উভয়কেই নিজ রাজনৈতিক জোটের একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশীকে শুরুতে পরাজিত করে দলীয় প্রার্থিতা নিশ্চিত করতে হবে। দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত হলেই আগামী জুলাই মাসে অনুষ্ঠিতব্য সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে নগরীর ভোটারেরা নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে বেছে নেবেন।

বর্তমান মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এর মনোনয়ন পাবেন- এটা অনেকটাই নিশ্চিত। কিন্তু বদর উদ্দিন আহমদ কামরান কি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হচ্ছেন? আমি ব্যক্তিগতভাবে কামরান ভাইকে আর মেয়র পদে দেখতে চাই না।

একটানা ১৮ বছর সিলেট নগরীর চেয়ারম্যান ও মেয়র হিসাবে বদর উদ্দিন কামরান উজাড় করে যা দেয়ার তা দিয়ে ফেলেছেন। উনি এখন আর স্থানীয় পর্যায়ের নেতা নন। তিনি জাতীয় নেতা। আমি চাই আসাদ উদ্দিন আহমদকে আওয়ামী লীগ তাদের প্রার্থী পদে মনোনয়ন প্রদান করুক।

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মহাজোটকে পুনরায় নির্বাচিত হতে হলে সিলেট-১ আসন ধরে রাখতে হবে। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত অবসরে চলে গেলে আগামী সংসদ নির্বাচনে সিলেট-১ আসনের জন্য বদর উদ্দিন আহমদ কামরান সবচেয়ে যোগ্য প্রার্থী হতে পারেন।

সাংসদ নির্বাচিত হলে বদর উদ্দিন আহমদ কামরান গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী হবেন এ কথা নিশ্চিন্তে বলা যায়। অর্থমন্ত্রীর পর নুরুল ইসলাম নাহিদ ব্যতিত জাতীয় পর্যায়ে নেতৃত্ব দেয়ার মত সিলেট বিভাগের আর কোন বড় নেতা নেই। এক্ষেত্রে বদর উদ্দিন কামরান নিজ গুণে দ্রুত জাতীয় নেতাতে পরিণত হবেন।

সিলেটের কোন ব্যক্তি এ পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করতে পারেন নাই। আর অবসরে যাওয়া অর্থমন্ত্রীকে রাষ্ট্রপতি করার মাধ্যমে সিলেট বিভাগের মানুষের এই অপূর্ণতাও পূরণ করা যায়।

লেখক : সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন, সিলেট।