সিলেট সিটি নির্বাচনে যুক্ত হলেন আরো ৯ ম্যাজিস্ট্রেট

আসন্ন সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) নির্বাচনে সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে, নির্বাচনকে ঘিরে যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ৯ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এছাড়া ৯ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বর্তমানে নগরীতে নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করছেন।

জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘নির্বাচনী অপরাধসমূহ বিচারার্থে আমলে নেয়া এবং বিচারের নিমিত্তে এসব ম্যাজিস্ট্রেটকে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে। ভোটের আগের দিন, ভোটের দিন এবং পরবর্তী দুই দিন সিলেট সিটির নির্বাচনী এলাকায় কোনো নির্বাচনী অপরাধ সংঘটিত হলে এসব ম্যাজিস্ট্রেট আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।’

সিলেট সিটি করপোরেশনে ২৭টি ওয়ার্ড রয়েছে। ইসি প্রতি তিনটি ওয়ার্ডে একজন করে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

সিসিকের সংরক্ষিত-১ ওয়ার্ডে সিলেটের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মোস্তাইন বিল্লাহ, সংরক্ষিত-২ ওয়ার্ডে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এ কে এম এমদাদুল হক, সংরক্ষিত-৩ নং ওয়ার্ডে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. খুরশীদ আলম, সংরক্ষিত-৪ নং ওয়ার্ডে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট লস্কার সোহেল রানা, সংরক্ষিত-৫ নং ওয়ার্ডে সিলেট সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কাঁকন দে, সংরক্ষিত-৬ নং ওয়ার্ডে সিলেট সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহবুবুর রহমান ভূঁঞা, সংরক্ষিত-৭ নং ওয়ার্ডে সিলেট মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মামুনুর রহমান ছিদ্দীকি, সংরক্ষিত-৮ নং ওয়ার্ডে সিলেট মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুর রহমান এবং সংরক্ষিত-৯ নং ওয়ার্ডে সিলেট জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বেগম ফারজানা শাকিলা সুমু চৌধুরী দায়িত্ব পালন করবেন।

প্রত্যেক জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের সাথে একজন সশস্ত্র পুলিশ কর্মকর্তা (এএসআই পদমর্যাদার নিম্নে নয়) এবং দুজন করে কনস্টেবল থাকবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সিলেটের পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দিয়েছে ইসি।

এদিকে, নির্বাচনী মাঠের পরিবেশ সুন্দর রাখতে এর আগে গত ৮ জুলাই ৯ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেয় ইসি। নির্বাচনের পরবর্তী দুইদিন পর্যন্ত এসব ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন। প্রতি তিনটি ওয়ার্ড মিলিয়ে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

এই ৯ ম্যাজিস্ট্রেট যথাক্রমে, সিলেটের সহকারী কমিশনার এরশাদ মিয়া, সহকারী কমিশনার ফারজানা আক্তার মিতা, সহকারী কমিশনার উম্মে সালিক রুমাইয়া, সহকারী কমিশনার খৃষ্টফার হিমেল রিছিল, সহকারী কমিশনার সুনন্দা রায়, সহকারী কমিশনার শেখ জাহিদ হাসান প্রিন্স, সহকারী কমিশনার আশরাফুল হক, সহকারী কমিশনার ইরতিজা হাসান ও সহকারী কমিশনার শাহিনা আক্তার।

এদিকে সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মোট ১৩৪ কেন্দ্রের মধ্যে ৮০ টি কেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ ও বাকি ৫৪ টি কেন্দ্রকে সাধারণ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করেছে নির্বাচন কমিশন।

সিলেট সিটি নির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা প্রলয় কুমার সাহা জানান, মেট্রোপলিটন পুলিশের দেয়া তথ্য অনুযায়ী অবকাঠামো, যাতায়াত সুবিধা, অতীতের রেকর্ড বিবেচনায় এসব কেন্দ্র চিহ্নিত করা হয়েছে। সাধারণ কেন্দ্রের নিরাপত্তার জন্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর মোট ২২ জন সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। তার মধ্যে একজন এসআই, একজন এএসআই, ৫ জন কনস্টেবল, একজন ব্যাটালিয়ন আনসার ও ১৪ জন আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। আর গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে আরো ২ জন ব্যাটালিয়ন আনসারসহ মোট ২৪ জন সদস্য থাকবেন।

রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আলীমুজ্জামান বলেন, সিসিক নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ করতে প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থাই গ্রহণ করা হয়েছে।