সিলেট বোর্ডে শীর্ষে সিলেট, সর্বনিম্নে মৌলভীবাজার

সিলেট শিক্ষাবোর্ডে ফলাফলের হারে শীর্ষে সিলেট জেলা আর সর্বনিম্নে রয়েছে মৌলভীবাজার। চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় সিলেট মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষায় সিলেট জেলায় পাসের হার সবচেয়ে বেশি ৭৩.৮০ শতাংশ। আর মৌলভীবাজারে পাসের হার ৬৬.৯৯ যা বোর্ডে সর্বনিম্ন।

রোববার (৬ মে) বেলা ১২টায় শিক্ষা বোর্ডের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ফলাফল ঘোষণা করার সময় এ তথ্য জানান সিলেট শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কবির আহমেদ।

এবারেরর এসএসসি পরীক্ষায় সিলেট জেলায় মোট ৩৮, ৫৬৭ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছে ২৮,৪৬৩ জন। যার মধ্যে ১৫,৬৪৭ ছাত্রী ও ১২,৮১৬ জন ছাত্র। জিপিএ ফাইভ পেয়েছে ১,৬৬১ জন। তার মধ্যে ছেলেরা পেয়েছে ৮৮০ আর মেয়েদের মধ্যে ৭৮১ জন জিপিএ ফাইভ পেয়েছে।

সিলেট বোর্ডে পাসের হারে পিছিয়ে আছে মৌলভীবাজার জেলা। জেলার পাশের হার ৬৬.৯৯ ভাগ। মোট ২৪,৪৮২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছে মোট ১৬,৪০১ জন। যার মধ্যে ৬,৯৩৩ জন ছাত্র এবং ৯,৪৬৮ জন ছাত্রী। জিপিএ ফাইভ প্রাপ্ত মোট ৬৭২ জনের পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩১৯ জন মেয়ে আর ছেলেদের ৩৫৩ জন।

এছাড়া সিলেট শিক্ষাবোর্ডের অধীন অন্য দুই জেলার মধ্যে হবিগঞ্জে পাশের হার ৭০.৩৪ শতাংশ আর সুনামগঞ্জে পাশের হার ৬৮.৫৩ শতাংশ।

এদিকে চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষায় কমেছে মোট পাসের হার। এ বছর সিলেট মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পাস করেছে ৭০ দশমিক ৪২ শতাংশ শিক্ষার্থী। যা গতবছরের থেকে ৯ দশমিক ৮৪ শতাংশ কম। গতবছর পাসের হার ছিলো ৮০ দশমিক ২৬ শতাংশ।

পরীক্ষায় পাসের হার কমার ব্যাপারে কবির আহমেদ জানান, সাধারণ গণিত ও ইংরেজিতে ফলাফল খারাপ করার কারণে এবার পরীক্ষার সার্বিক ফলাফলে পাসের হার কমেছে। তবে এবছরের এসএসসি পরীক্ষায় পাসের হাসের সূচক কিছুটা কমলেও বেড়েছে জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যা। এবছর জিপিএ-৫ পেয়েছে মোট ৩ হাজার ১শ’ ৯১ জন শিক্ষার্থী। যা গতবারের তুলনায় ৫২৮ টি বেশি। গতবার জিপিএ-৫ পায় ২ হাজার ৬৬৩ জন পরীক্ষার্থী।

এর কারণ হিসেবে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বলেন, ‘প্রায় প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তথ্যপ্রযুক্তিবান্ধব পাঠদান চালু হয়েছে। এ কার্যক্রম আবার জেলা ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসগুলো নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে। এটি গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত করছে। জিপিএ-৫ বাড়ার পেছনে এটি অন্যতম কারণ।’

ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এবার ১ লাখ ৮ হাজার ৯শ’ ২৮জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। যার মধ্যে পাস করে ৭৬ হাজার ৭শ’ ১০ জন পরীক্ষার্থী। পাসকারীদের মধ্যে ৩৪ হাজার ১শ’ ৪৩ জন ছেলে এবং ৪২ হাজার ৫শ’ ৬৭ জন মেয়ে।