সিলেটে পেঁয়াজ-রসুনের দাম বাড়ছেই

সিলেটে গত এক সপ্তাহে কয়েক দফায় দাম বেড়েছে পেঁয়াজ রসুনের। এমন চড়াই-উৎরাই বাজারে পেঁয়াজ কেজি প্রতি ৮ থেকে ১০ টাকা এবং রসুন প্রতি কেজি ১০ থেকে ২৫ টাকা করে বেড়েছে। রমজানের আগে পেঁয়াজ রসুনের এ ঊর্ধ্বমূল্যের কারণে শঙ্কিত ক্রেতারা। তবে বিক্রেতারা বলছেন ভারতে অতিরিক্ত গরমের কারণে আমদানি করার সময়ে বেশির ভাগ পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এতে করে বাংলাদেশে এসে বাড়ছে পেঁয়াজের দাম। তবে গরম কমলে পেঁয়াজের দামও কমবে এমন আভাসও দিলেন তারা।

এক সপ্তাহ আগে সিলেটের পাইকারী বাজারে আকৃতিভেদে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ১৮ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২২ টাকায়। শনিবার (৫ মে) সিলেটের পাইকারী বাজার ঘুরে দেখা গেছে আকৃতিভেধে কেজি প্রতি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২৫ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২৮ টাকা পর্যন্ত। খুচরা বাজারে পেঁয়াজের দাম আরও বেশি। কোথাও কোথাও ৩৫ টাকা থেকে-৪০ টাকায়ও বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি পেঁয়াজ।

অন্যদিকে এক সপ্তাহ আগে পাইকারি বাজারে দেশি রসুন প্রতি কেজি ২৫ টাকা থেকে ৩০ টাকা এবং চায়না রসুন প্রতি কেজি ৬০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৭০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন দেশি রসুন প্রতি কেজি ৩৫ টাকা এবং চায়না রসুন ১০৫ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হচ্ছে।

সিলেটের ব্যবসায়ীরা জানান, চাপাইনবাবগঞ্জের সোনা মসজিদ, ডুমরা, বেনাপোল, হিলি এই চার বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ বাংলাদেশে আসে। কিন্তু গত এক সপ্তাহ থেকে ভারতে অতিমাত্রায় গরম থাকায় আমদানির সময়ে অধিকাংশ পেঁয়াজ গাড়িতেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এতে করে এক সপ্তাহ থেকে পেঁয়াজের দাম বেড়েই চলছে। তবে রসুনের দাম বাড়ার সঠিক কোন কারণ জানাতে পারছেন না বিক্রেতারা।

এদিকে পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের দাম বাড়ায় খুচরা বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। তবে দাম বাড়ার বিষয়টিকে কাজে লাগিয়ে খুচরা বিক্রেতারা প্রায় দিগুণ দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ ক্রেতাদের।

সোনা মসজিদ থেকে সিলেটের পাইকারি বাজারে পেঁয়াজ সরবরাহকারী আব্দুল মজিদ জানান, ভারতে গরম বেশি, তাই পেঁয়াজ আমদানীর সময়ে নষ্ট হয়ে যায়। এক সপ্তাহ থেকে প্রায় প্রতিদিনই দাম বাড়ছে। কেজি প্রতি প্রায় ৮ টাকা করে বেড়েছে। তবে গরম কিছুটা কমলে পেঁয়াজের দাম আবার স্থিতিশীল হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

কালিঘাটের পেঁয়াজের পাইকারি বিক্রেতা নিলাঞ্জন দাশ টুকু বলেন, পেঁয়াজের দাম অনেক বেড়েছে। শনিবার পেঁয়াজ প্রতি কেজি ২৫ টাকা থেকে ২৮ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। রসুন প্রতি কেজি প্রায় ২০ থেকে ২৫ টাকা করে বেড়েছে। তবে কী কারণে রসুনের দাম বেড়েছে তার সঠিক কোন কারণ বলতে পারেন নি তিনি।

সরেজমিন কালিঘাট পেঁয়াজের আড়ৎ, রিকাবি বাজার, আম্বরখানা, মদিনা মার্কেট, ব্রহ্মময়ী বাজার ঘুরে দেখা যায়- পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের দাম সর্বোচ্চ ৩২ টাকা করে বিক্রি হলেও খুচরা বাজারে সর্বনিম্ন ৩৫ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৪০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। আবার নগরীর কয়েকটি আবাসিক এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, কোন কোন দোকানে ৪৩ টাকায় পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজের কেজি।

নগরীর মদিনা মার্কেটের একটি দোকান থেকে পেঁয়াজ কিনে আলমগীর হোসেন এ প্রতিবেদককে বলেন, এক কেজি পেঁয়াজ ৪০ টাকা দিয়ে কিনেছি । ইচ্ছেমত দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে বিক্রেতারা। তিনি বলেন, পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের দাম বাড়লেও খুচরা বাজারে ৪০ টাকা বিক্রি হওয়ার মতো বাড়েনি।

দাঁড়িয়াপাড়ার বাসিন্দা ফিরোজা পারভিন বলেন, বিভিন্ন গণমাধ্যম মারফত জেনেছি পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। তবে পাইকারি বাজারে যে পরিমাণ বেড়েছে খুচরা বিক্রেতারা তার দ্বিগুন দাম বাড়িয়েছেন। নিয়মিত বাজার মনিটরিং না থাকায় বিক্রেতারা ইচ্ছামতো দাম আদায় করছেন অভিযোগ করে তিনি বলেন, নিয়মিত মনিটরিং থাকলে যার যেমন খুশি তেমন দাম আদায় করতে পারতো না।

এব্যাপারে সিলেটের জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক দেবজিত সিনহা বলেন, আমাদের বাজার মনিটরিং নিয়মিত চলছে। দাম বাড়ার বিষয়কে কাজে লাগিয়ে অতিরিক্ত দাম আদায় করতে পারবে না। এরকম কোন কিছু ধরা পড়লে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।