সিলেটে নারীদের জন্য প্রথম পাবলিক টয়লেট চালু

সিলেট নগরীতে এতদিন পাবলিক টয়লেট ছিল শুধু পুরুষদের ব্যবহার উপযোগী। এবার নারীদের ব্যবহারের জন্যও চালু হলো পাবলিক টয়লেট। একইসঙ্গে চালু হয়েছে প্রতিবন্ধীদের জন্য পাবলিক টয়লেট।

বৃহস্পতিবার (৭ জুন) নগরীর চৌহাট্টায় নারী-পুরুষ উভয়ের ব্যবহার উপযোগী প্রথম পাবলিক টয়লেট উদ্বোধন করেছেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী।

এসময় মেয়র বলেন, সিলেট মহানগরবাসীকে একটি বসবাসযোগ্য নগর উপহার দিতে নগরীর জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানে আরো পাবলিক টয়লেট স্থাপন করা হবে। চৌহাট্টায় স্থাপিত পাবলিক টয়লেট মানুষের কাছে জনপ্রিয় হলে শীঘ্রই কদমতলীসহ জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানে স্থাপন করা হবে আরো কয়েকটি পাবলিক টয়লেট।

তিনি আরও বলেন, বৃহৎ আয়তনের এই নগরীতে এতোদিন মাত্র দুটি পাবলিক টয়লেট ছিল। এর একটি কাজিরবাজার, অন্যটি সুরমা নদীর তীরে। এ দুই পাবলিক টয়লেট আবার পুরুষদের ব্যবহার উপযোগী। অর্থাৎ, নারীদের জন্য ছিল না আলাদা কোনো পাবলিক টয়লেটের ব্যবস্থা। এই বিষয়টি বিবেচনায় এনে নগরীতে তিনটি আধুনিক পাবলিক টয়লেট নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সিটি কর্পোরেশন। এজন্য স্থান নির্ধারণ করা হয় চৌহাট্টা, ধোপাদিঘীরপাড় ও দক্ষিণ সুরমার মুক্তিযোদ্ধা চত্বর।

চৌহাট্টায় পাবলিক টয়লেট নির্মাণকাজ শেষ হওয়ায় এর উদ্বোধন করা হয়েছে। এ কাজে সহযোগিতা করেছে আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘ওয়াটার এইড’ এবং ‘এইচ এন্ড এম ফাউন্ডেশন’। বাকি দুটি স্থানে পাবলিক টয়লেট নির্মাণের জন্য প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে এগুলোর নির্মাণকাজ শেষ হবে বলেও জানান সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী।

সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান জানান, এখানে (চৌহাট্টায়) পাবলিক টয়লেট ও গোসলখানা রয়েছে। নারী ও পুরুষদের জন্য আলাদাভাবে দুটি করে পাবলিক টয়লেট রয়েছে; প্রতিবন্ধীদের জন্য আছে আরেকটি। পাঁচ টাকা দিয়ে এসব পাবলিক টয়লেট যে কেউ ব্যবহার করতে পারবেন। এছাড়া নারী ও পুরুষদের জন্য পৃথক গোসলখানায় গোসল করতে খরচ হবে ১০ টাকা আর এক টাকা দিয়ে পান করা যাবে বিশুদ্ধ পানি। এখানে রয়েছে অজু করার ব্যবস্থাও।

তিনি আরও জানান, এই পাবলিক টয়লেটে সিটি কর্পোরেশনের পানির লাইনের সংযোগ রয়েছে। পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে একটি প্লাাস্টিক ট্যাংকের সাথে আছে একটি রিজার্ভ ট্যাংকও। এখানে বিদ্যুতের সংযোগ দিয়েছে পিডিবি। রাখা হয়েছে আইপিএস। সুদৃশ্য টাইলসে মোড়ানো এই পাবলিক টয়লেটে নিরাপত্তার জন্য রয়েছে দুটি ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা। আছে ফ্যান এবং জিনিসপত্র রাখার জন্য লকারের ব্যবস্থা।