সিলেটে গ্যাস সংযোগের ব্যাপারে দ্রুত পদক্ষেপ চান মোমেন

ফাইল ছবি

ড. আব্দুল মোমেন বলেছেন ‘সিলেটের গ্যাস সারাদেশে সরবরাহ হয়। কিন্তু সিলেটের মানুষ গ্যাস সংযোগ পাচ্ছে না। সিলেটে অনেকগুলো কলকারখানা শুধুমাত্র গ্যাস সংযোগের অভাবে এখন বন্ধ রয়েছে। এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। অন্যথায় সিলেটে বিনিয়োগের যে পরিবেশ তা থেকে ধীরে ধীরে মুখ ফিরিয়ে নেবেন উদ্যোক্তারা।’

বুধবার (১১ জুলাই) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘আগামীর সিলেট- উন্নয়নের প্রাপ্তি ও প্রত্যাশা’ শীর্ষক আলোচনায় সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। আরো উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য ইয়াহইয়া চৌধুরী, পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) এর চেয়ারম্যান ড. কাজী খলিকুজ্জামান আহমদ।

ড. একে আব্দুল মোমেন সিলেট নগরীকে কেন্দ্র করে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ডের উল্লেখ করে বলেন, গত ১০ বছরে বৃহত্তর সিলেটে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। বড় বড় বেশ কিছু উন্নয়ন প্রকল্প চলমান রয়েছে। তবুও কিছু সমস্যা রয়ে গেছে। টেকসই উন্নয়নের জন্য পরিকল্পিত উদ্যোগ প্রয়োজন। তিনি আরো বলেন, সিলেট দেশের প্রথম ডিজিটাল নগরী হিসেবে রূপ লাভ করবে। বর্তমান সরকার এ বিষয়ে একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে। অচিরেই এর প্রতিফলন পরিলক্ষিত হবে। এর মাধ্যমে সিলেট শহরের প্রতিটি পয়েন্টে নাগরিকগণ বিনামূল্যে ইন্টারনেট সংযোগ (ফ্রি ওয়াইফাই) পাবে। সকল ধরণের সেবা প্রাপ্তি হয়ে উঠবে আরো সহজ। পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য শহরও ডিজিটাইজড করার প্রকল্প হাতে নিচ্ছে সরকার।

তিনি বর্তমান সরকারকে আবারো নির্বাচিত করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, শেখ হাসিনার সরকারের সময়ে বাংলাদেশ যে সাফল্য অর্জন করেছে তা অভাবনীয়। আমরা এর জন্য গর্ব করতে পারি।

তিনি আগামীর সিলেটের জন্য কয়েকটি দাবি উত্থাপন করেন। পর্যটন নগরী সিলেটে প্রতিদিন হাজার হাজার পর্যটক ঘুরতে আসে। আকর্ষণীয় করে তুলতে সিলেট নগরী ও জেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোকে সৌন্দর্য্য বৃদ্ধির উদ্যোগ গ্রহণের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি। প্রত্যাশার মধ্যে আরো রয়েছে, দ্রুত সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ৬ লেনে উন্নীত করতে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ, সিলেট নগরীর চৌকিদেখি থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত সড়ক ৪ লেনে উন্নীত করা। এছাড়া তেমুখি-বাদাঘাট সড়ক ৬ লেন, পুরাতন জেলখানায় দৃষ্টিনন্দন পার্ক স্থাপন, সিলেট-আখাউড়া রেললাইন ৪ লেনে উন্নীতকরণ, সিলেট বিমানবন্দর থেকে আন্তর্জাতিক রুটে বিমান চলাচলের উদ্যোগ গ্রহণ, সিলেট নগরীতে উন্নত দেশের মতো পাতাল বিদ্যুৎ লাইন স্থাপনে ৪৫২ কোটি টাকার প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন দাবি তিনি তুলে ধরেন।

তিনি আরও বলেন, সিলেট নগরীর আয়তন প্রায় ২৬ কিলোমিটার। এর থেকে ৪গুণ বড় করার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে চাই। নতুন আবাসিক এলাকা গড়ে তুললে ছোট্ট নগরীর উপর চাপও কমবে। নগর যত বড় হবে নাগরিক সুযোগ সুবিধা তত বাড়বে এবং পরিকল্পিত নগরায়ন সম্ভব হবে।

মতবিনিময় সভায় আলোচনায় অংশ নেন ‘সম্প্রীতি বাংলাদেশ’ এর আহ্বায়ক পিযুষ বন্দোপাধ্যায়, বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন (বিএমএ) এর মহাসচিব ডা. এহতেশামুল হক চৌধুরী দুলাল, রূপালী ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান ও স্বেচ্ছাসেবি সংস্থা সীমান্তিকের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ড. আহমদ আল-কবির, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নুজহাত চৌধুরী প্রমুখ। সূচনা বক্তব্য দেন বাংলাদেশ স্টাডি ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ডা. মামুন আল মাহবাব ।