সিলেটে কর্মীসভার আড়ালে ‘অবৈধ’ নির্বাচনী প্রচারণা

প্রতীক বরাদ্ধের আগে নিষিদ্ধ রয়েছে নির্বাচনী প্রচারণা। এমনকি অনুমতি ছাড়া ঘরোয়া মতবিনিময় সভাতেও রয়েছে নির্বাচন কমিশনের নিষেধাজ্ঞা। এমন নিষেধাজ্ঞার মাঝেও ‘কর্মীসভা’ ও ‘মতবিনিময় সভা’র নামে নগরীর আনাচে কানাচে চলছে আ.লীগ-বিএনপির প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারণা। নির্বাচন কমিশনের নিষেধাজ্ঞাকে যেন কানেই তুলছে না প্রার্থীরা।

প্রতিদিন যখন ঢাকঢুল পিঠিয়ে চলছে প্রচারণা, গণমাধ্যমে আসছে ভোট চাওয়ার নানা খবর তখন এসবের খবরই পাননি বলে দায়সারা জবাব নির্বাচন কমিশন আর পুলিশ প্রশাসনের।

নির্বাচন কমিশন (ইসি) এর ঘোষণা অনুযায়ী প্রতীক বরাদ্ধের আগে সভা সমাবেশতো দূরের কথা কোন প্রার্থী ঘরোয়া সভা করতে চাইলেও সে ক্ষেত্রে অন্তত ২৪ ঘন্টা আগে স্থানীয় পুলিশ প্রাশাসনের অনুমতি নিতে হবে। এমনকি প্রতীক বরাদ্দের আগে প্রার্থীর পক্ষে অন্য কেউও কোন রকম প্রচারণা চালাতে পারবেন না। সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের এসব বিষয়ের ওপর নজর রাখার নির্দেশনাও দিয়েছে ইসি। নির্বাচন কমিশনের এমন ঘোষণার পরও সিলেট সিটি নির্বাচনের প্রার্থীরা কোনরকম প্রশাসনিক অনুমতি ছাড়াই প্রতিদিন কর্মীসভা ও মতবিনিময় সভার নামে চলছে নির্বাচনী প্রচারণা।

কামরানের সমর্থনে মদনমোহন কলেজ ছাত্রলীগের কর্মীসভা।

তবে নির্বাচন কমিশনের এমন ঘোষণার কারণে আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা এবং বিএনপির কর্মীসভা নগরীর বাইরে করা হলেও নগরীর ভিতরে ছোট ছোট মতবিনিময় সভা ও কর্মীসভায় কোন রকম নিয়ম মানা হচ্ছে না। বিভিন্ন গণমাধ্যমে এসব সভার সংবাদ প্রকাশের পরও কোন রকম পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ববোধ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সচেতন সমাজ।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সিলেটের সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘প্রতীক বরাদ্দের আগে এরকম সভা কোন ভাবেই কাম্য নয়। নির্বাচন কমিশন থেকে এসব সভায় নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও প্রার্থীরা একাধিক মতবিনিময় সভা করে যাচ্ছেন, আর এসবের সংবাদও বিভিন্ন গণমাধ্যম ফলাও করে প্রকাশের পরও রিটার্নিং কর্মকর্তা কোন রকম শাস্তিমূলক পদক্ষেপ না নেওয়ায় উনার দায়িত্ববোধ নিয়েই প্রশ্ন হচ্ছে।’

তিনি আরো বলেন, এর আগে আমরা দেখেছিলাম রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দিতে তাঁর কার্যালয়ে যাওয়ার পর প্রার্থীদের সমর্থীত কর্মীরা শ্লোগান দিয়েছিলেন বলে রিটার্নিং কর্মকর্তা মুখে আঙুল দিয়ে ‘চুপ’ বলেছিলেন। এসব বিষয়ে রাজনৈতিক নেতারা লজ্জা না পেলেও আমরা যারা সচেতন নাগরিক তারা লজ্জা পেয়েছিলাম। একই সাথে রিটার্নিং কর্মকর্তার এমন আচরণে আশান্বিত হয়েছিলাম। কিন্তু বর্তমানে আচরণ বিধি লঙ্ঘনের এমন খবরেও যখন রিটার্নিং কর্মকর্তা নিরব তখন আমরা বিষ্মিত।’

বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের যৌথ মতবিনিময় সভা।

এর আগে আচরণ বিধি লঙ্ঘনের কারণে জামায়াতে ইসলামী সিলেটের আমীর অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়েরকে শোকজ করার প্রসঙ্গ টেনে সুজনের এ সভাপতি বলেন, ‘কিছুদিন আগে আচরণ বিধি লঙ্ঘনের কারণে একজন স্বতন্ত্র প্রার্থীকে শোকজ করা হয়েছিলো। বর্তমানেও আমরা সকল প্রার্থীর ক্ষেত্রে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছ থেকে এ ধরণের সিদ্ধান্ত পাবো এটাই মনে করি।’

তবে সিটি কর্পোরেশনের দায়িতপ্রাপ্ত রিটার্নিং কর্মকর্তা আলীমুজ্জামান বলেছেন, প্রতীক বরাদ্দের আগে কেউ কোন রকম প্রচার প্রচারণা করতে পারবে না। তাছাড়া কেউ যদি কোন রকম সভা করতে চান সে ক্ষেত্রে পুলিশের অনুমতি নিয়ে করতে হবে। এ বিষয়ে পুলিশের সাথে যোগাযোগ করার কথা বলেন এ কর্মকর্তা।

এদিকে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পক্ষ থেকে আচরণবিধি লঙ্ঘিত হচ্ছে না এবং যেসকল মতবিনিময় সভা হচ্ছে তা আচরণ বিধি মেনে করা হচ্ছে উল্লেখ করে সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ সিলেট ভয়েসকে বলেন, ‘আমাদের পক্ষ থেকে আচরণ বিধি লঙ্ঘণের মতো কোন কাজ করা হচ্ছে না। যেসকল মতবিনিময় সভা হচ্ছে তা কোন প্রতীকের সমর্থনে হচ্ছে না। তাছাড়া কিছু কিছু জায়গায় স্থানীয় এলাকাবাসীর উদ্যোগে কিছু মতবিনিময় সভা হচ্ছে। এসব মতবিনিময় সভা নিশ্চয় আয়োজকরা পুলিশের অনুমতি নিয়েই করছেন।’

এদিকে সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদও একই কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের পক্ষ থেকে কোন প্রচারণা করা হচ্ছে না। আচরণ বিধি লঙ্ঘনের কোন কাজ এখনো করা হয়নি। আচরণ বিধি যাতে লঙ্ঘিত না হয় সেজন্য কর্মী সভাটাও শহরের বাইরে করেছি। আর যে দু’একটা মতবিনিময় সভা হচ্ছে তা অনুমতি নিয়েই করা হচ্ছে।’

আওয়ামী লীগ-বিএনপি সমস্বরে যেখানে বলছে অনুমতি নিয়েই সভা হচ্ছে সেখানে মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (গণমাধ্যম) মো. আব্দুল ওয়াহাব কোন মতবিনিময় সভার অনুমতির আবেদন এখনো পাননি বলে জানান। তিনি বলেন, ‘প্রতীক বরাদ্দের আগে কোন সভা সমাবেশ করতে হলে পুলিশের অনুমতি নিতে হবে। তবে নগরীতে কোন সভা বা সমাবেশের আবেদন আমরা এখনো পাইনি। এছাড়া কোন সভার খোঁজও আমার জানা নাই।’

তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষসহ সকল প্রার্থীর পক্ষ থেকে কর্মী সভা, মতবিনিময় সভা এবং প্রচারণার বিষয়টি অস্বীকার করলেও বাস্তবের চিত্র ভিন্ন। নগরীর বর্তমান চিত্র হলো প্রার্থীদের সমর্থনে প্রতিদিন একাধিক কর্মীসভা আর মতবিনিময় সভায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন প্রার্থীরা।