সিলেটের দর্শক মাতালো নৃত্যশৈলী’র ‘মহাজনের নাও’

হলভর্তি দর্শককে মুগ্ধতায় ভাসিয়ে শেষ হলো নৃত্যশৈলী’র নৃত্যনাট্য ‘মহাজনের নাও’ এর ২৩তম প্রদর্শনী। প্রয়াত বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিমের জীবন, দর্শন ও গান নিয়ে নির্মিত হয় এই নৃত্যনাট্যটি।

কোন মিস্ত্রী নাও বানাইলো কেমন দেখা যায়, আমার গলায় সুর হাতে দোতারা এ কলঙ্ক নিয়ে আমি হই ঘর ছাড়া, আমি কূল হারা কলঙ্কিনী আমারে কেউ ছুইয়ো না গো সজনী, যা দিয়েছো তুমি আমায় কি দিবো তার প্রতিদান, তুমি রাখো কিবা মারো এই দয়া করো, সরল জানিয়া নাম রাখি সরলা, মোদের কি হবে রে কৃষক মজুর ভাই, দিন হতে দিন আসে যে কঠিন বাঁচার উপায় নাই, গ্রামের নওজোয়ান, কেমনে ভুলিব আমি বাঁচি না তারে ছাড়া, মুর্শিদ ধনো হে কেমনে চিনিবো তোমারে, গাড়ি চলে না চলে না, কেন পিরিতী বাড়াইলা রে বন্ধু ছাইড়া যাইবা যদি, তুমি সুজন কাণ্ডারি নৌকা সাবধানে চালাও সহ আব্দুল করিমের প্রায় ২২টি গানের অংশ বিশেষের সাথে নৃত্যের তালে তালে যেন স্বয়ং আব্দুল করিমই মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন!

হলভর্তি দর্শকরা যেন সকলেই আব্দুল করিমের নিকটাত্মীয়। করিমের দুঃখে সকলেই যেন কেঁদে ওঠেন, আবার করিমের সুখে যেন সকলেই সুখী। নৃত্যশৈলীর নৃত্য কৌশলই শুধু প্রশংসিত হয়নি, সেই সাথে প্রকৃত সুর ও ছন্দে ব্যবহৃত গানও মুগ্ধ করে উপস্থিত দর্শকদের।

শুক্রবার (৯ মার্চ) সন্ধ্যায় সিলেটের কবি নজরুল অডিটোরিয়াম মঞ্চে এমনই এক নয়নাভিরাম পরিবেশ তৈরি করে নৃত্যশৈলীর নৃত্যশিল্পীবৃন্দ। কথাকলি’র আয়োজনে সিলেটে চলমান ‘বরাক-সুরমা নাট্যোৎসব ১৮’তে প্রদর্শিত হয় নৃত্যশৈলীর এক ঘন্টা ২২ মিনিটের এ মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা।

নাট্যকার শাকুর মজিদের রচনায় ও নিলাঞ্জনা জুঁই’র নির্দেশনায় নৃত্যনাট্য ‘মহাজনের নাও’ এ তুলে ধরা হয় বাউল শাহ আব্দুল করিমের জীবনাদর্শ। দেখানো হয় বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিমের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সময়কাল।