সাপ্লাইয়ের পানি সরাসরি জারে : ৩ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা, কারাদণ্ড

রাজধানীর তেজগাঁও এলাকার দুটি অবৈধ পানির কারখানা বন্ধ করে দিয়েছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউট (বিএসটিআই)।

মঙ্গলবার (৮ মে) বিএসটিআই ও র‌্যাব যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে কারখানগুলো সিলগালা করে দেয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম।

এ সময় তিনটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে তিন লাখ টাকা জরিমানা আদায়সহ ১০ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এবং শত শত পানির জার ধ্বংস করা হয়।

বিএসটিআই জানায়, তেজগাঁওয়ের ৫১/এ দক্ষিণ কুনিপাড়ায় ফিউচার ফুড বেভারেজ নামে একটি প্রতিষ্ঠান পানি শোধন না করে টিউবঅয়েলের পানি জারে ভরে ফিল্টার পানি নামে বাজারজাত করে আসছিল। ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে কারখানাটি সিলগালা করে দেন ও কারখানার মালিক আব্বাস উদ্দিন দীপুকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেন। একই অভিযোগে জাহাঙ্গীর ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের মালিক জাহাঙ্গীরুল ইসলাম এবং মাহমুদ হাসান মাসুদকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া পূর্ব নাখালপাড়ার কোল্ড স্টোরেজ নামের একটি কারখানার মালিক নাসির উদ্দিনের কাছ থেকে একই অপরাধে ১ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

বিএসটিআই আরও জানায়, তেজগাঁও শিল্প এলাকায় সাতটি প্রতিষ্ঠানে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। অভিযানে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানগুলো কোনো ধরণের পরিশোধন ছাড়াই অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে সরাসরি সাপ্লাইয়ের পানি জারে ভর্তি করে বাজারজাত করে আসছে। এর মধ্যে জাহাঙ্গীর ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, কোল্ড এভারেস্ট, নব জীবন পিউর ড্রিংকিং ওয়াটার, এ তিনটি প্রতিষ্ঠানকে ১ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়। ফিউচার ফুড এন্ড বেভারেজের মালিক আব্বাস উদ্দিন দিপুকে ছয় মাসের কারাদণ্ড ও প্রতিষ্ঠান সীলগালা এবং তেজগাঁও রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন তিনটি নামবিহীন পানি উৎপাদকারী প্রতিষ্ঠানের নয়জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া প্রায় ২২০০ জার ধ্বংস করা হয়।

অভিযানের বিষয়ে র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম বলেন, রাজধানীতে অবৈধ ও ভেজাল কারখানার বিরুদ্ধে র‍্যাবের অভিযান চলছে। আর এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।

অভিযানকালে উপস্থিত ছিলেন, র‌্যাব-২-এর সহকারী পরিচালক মো. শহীদুল ইসলাম, বিএসটিআই’র সহকারী পরিচালক মো. রিয়াজুল হক ও মন্তোষ কুমার দাস।