সমাধানের পথে এগুচ্ছে এস.আই.ইউ কর্তৃপক্ষ

আন্দোলনরত শিক্ষার্থী। ফাইল ছবি

অবশেষে সমাধানের পথে এগুচ্ছে সিলেট সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষ। টানা আন্দোলনে যাওয়া শিক্ষার্থীদের দাবি অনুযায়ি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তার উপস্থিতিতে মালিকপক্ষ ২ একর ভূমি ইউনিভার্সিটির নামে রেজিস্ট্রি করে দেয়ার জন্য পরিমাপ শুরু করেছেন। সোমবার (২৮ মে) সকালে ভূমি পরিমাপ শুরুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থী তন্ময় পাল।

গত কয়েকদিন থেকে চারদফা দাবিতে ছাত্র আন্দোলনে স্থবির হয়ে পড়েছে সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষা কার্যক্রম। বন্ধ রয়েছে পাঠদান ও ক্লাস পরীক্ষা। আগামী ২ (জুন) থেকে শুরু হতে যাওয়া মিডটার্ম পরীক্ষাও বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনরত সাধারণ শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন তাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা ক্লাসে ফিরে যাবেন না। অংশগ্রহন করবেন না কোন পরীক্ষায়। শিক্ষার্থীদের এসব দাবির পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বাঁচাতে অবশেষে টনক নড়েছে এস.আই.ইউ কর্তৃপক্ষের।

এদিকে চলমান আন্দোলন এবং পরীক্ষা সংক্রান্ত যে কোন তথ্য জানার জন্য ক্যাম্পাসের সুমন কর্ণারে (ওয়াইফাই জোন) একটি তথ্য কেন্দ্র খোলা হয়েছে। প্রতিদিন সকাল ১০ টা থেকে দুপুর ২ টা পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা তথ্য কেন্দ্র থেকে চলমান আন্দোলন এবং পরীক্ষা সংক্রান্ত যে কোন তথ্য জানতে পারবেন বলে জানিয়েছেন এস.আই.ইউ ছাত্র অধিকার আন্দোলনের মূখপাত্র জাহাঙ্গীর জিসান।

এ ব্যাপারে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মুখপাত্র ইংরেজী বিভাগের শিক্ষার্থী জিসান বলেন, আমাদের প্রথম দাবি অনুযায়ি সোমবার সকালে সার্ভেয়ারের উপস্থিতিতে মালিকপক্ষ ২ একর ভূমি প্রদানের জন্য পরিমাপ করেছেন। আশা করি ভূমি নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা দ্রুত নিরসন হবে। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন নির্ধারিত সময়ের পূর্বেই বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ারম্যান শামীম আহমদ ইংল্যান্ড থেকে দেশে চলে আসবেন।

আগামী ২ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া মিডটার্ম পরীক্ষার বিষয়ে তিনি বলেন, যেহেতু ৬ জুন পর্যন্ত আমাদের কর্মসূচী চলমান রয়েছে। তাই ৬ জুনের আগে মিডটার্ম পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে না। তবে ৬ জুনের পর ঈদের পূর্বে একটি বিষয়ে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি আগামী ৬ জুন পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত না হয়ে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাবার ঘোষণা দেন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ট্রাস্টি বোর্ড গঠন, রাষ্ট্রপতি মনোনীত ভিসি, প্রো-ভিসি, কোষাধ্যক্ষ নিয়োগসহ চার দফা দাবিতে গত কয়েকদিন থেকে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার (২২ মে) বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমূহের অবস্থা বর্ণনা করে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। সেখানে সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিসহ দেশের বেশ কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে শিক্ষার্থী ও তাদের অভিবাবকদের পরামর্শ দিয়েছে ইউজিসি।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “কেউ অনুমোদনবিহীন কোনো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বা অনুমোদিত বিশ্ববিদ্যালয়ের অননুমোদিত ক্যাম্পাস বা অননুমোদিত কোনো প্রেগ্রামে কোর্সে ভর্তি হলে তার দায়-দায়িত্ব শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা ইউজিসি নেবে না।” এরপর থেকে দাবি আদায়ে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।