সংযোগই নেই, তবু ৪২ পরিবারের নামে বিদ্যুৎ বিল!

ভুয়া বিদ্যুৎ বিল হাতে ভুক্তভোগীরা।

বিদ্যুৎ এর কোন সংযোগই নেই অথচ ৪২ পরিবারের নামে এসেছে বিদ্যুৎ বিল। তাদের হাতে ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে বড় অংকের একটি করে বিলের কাগজ। ৪২ পরিবার মিলে যার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে মোট দুই লাখ ১৮ হাজার ৯৯৯ টাকা।

ভুয়া এ বিলের ঘটনাটি ঘটেছে লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার তিস্তা নদী তীরবর্তী মহিষাশ্বহর গ্রামে।

এ ঘটনায় ফুঁসে উঠেছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো। দ্রুত ভুয়া বিল বাতিল এবং দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ইতোমধ্যে বিক্ষোভ, মানববন্ধন, সংবাদ সম্মেলনসহ বিভিন্ন কর্মসূচিও পালন করেছেন তারা।

জানা যায়, তিস্তা নদী তীরবর্তী মহিষাশ্বহর নামক গ্রামটিতে অধিকাংশই হতদরিদ্র আর অশিক্ষিত জনগোষ্ঠী। এ গ্রামে উন্নয়নের ছোঁয়া একদম নেই বললেই চলে। গ্রামের ৪২টি পরিবার বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য জেলার কালীগঞ্জ উপজেলা বিদ্যুৎ অফিসে ২০১৫ সালে আবেদন করেন। আবেদনের পরপরই এক শ্রেণির দালালচক্র তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার আশ্বাস দেয়। সহজ-সরল গ্রামবাসীর অজ্ঞতার সুযোগ নিয়ে তিন মাসের মধ্যে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার কথা বলে দালালচক্রটি হাতিয়ে নেয় অন্তত ১০ লক্ষাধিক টাকা। এদিকে তিন বছর দুই মাস পেরিয়ে গেলেও ওই এলাকায় বসেনি কোনও বিদ্যুতের খুঁটি কিংবা মিটার। এমনকি নকশাও তৈরি হয়নি। ফলে বিদ্যুতবিহীন রয়েছে ওই গ্রামটি।

এদিকে গ্রাহকদের চাপের মুখে গত বছর ওই গ্রামের ৪২টি পরিবারের জন্য ৪২টি মিটার পাঠানো হয়। খুঁটি কিংবা লাইন না পেয়ে গ্রাহকরা মিটারগুলো বিক্রি করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এরইমধ্যে গত জুন মাসে ওই গ্রামের ৪২টি পরিবারের নামে জনপ্রতি ৫ হাজার ৯৩ টাকা হারে দুই লাখ ১৮ হাজার ৯৯৯ টাকার বিদ্যুৎ বিল পাঠায় বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড নেসকো।

বিদ্যুৎ বিল দেখে হতবাক পরিবারগুলো বিলের কাগজপত্র নিয়ে কালীগঞ্জ বিদ্যুৎ অফিস গিয়ে এর সমাধান দাবি করলেও কোনও প্রতিকার না পেয়ে বাড়ি ফিরে যান। এরপর তারা ভুয়া বিল বাতিল করে দ্রুত লাইন সংযোগ করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবিতে বিক্ষোভসহ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেন।

ওই গ্রামের মফিজুর রহমান বাদশা, মন্তাজ উদ্দিন, ইব্রাহিম খলির জানান, তিন মাসের মধ্যে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার কথা বলে দালালচক্র জনপ্রতি ৩০ হাজার টাকা নেন। বিদ্যুতের আশায় কেউ কেউ স্থানীয় মহাজনের কাছে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে দালালচক্রকে টাকা দেন। কিন্তু আশ্বাস আর সময় ক্ষেপণ করে অতিবাহিত হয় দীর্ঘ সময়। উপরন্তু বিদ্যুৎ সংযোগ না পেলেও ৫ হাজার ৯৩ টাকার বিদ্যুৎ বিল চলে আসে তাদের প্রতিটি গ্রাহকের নামে।

মহিষাশ্বহর গ্রামের রেজাউল হক ও কফিল উদ্দিন জানান, আমরা বিদ্যুৎ ব্যবহার না করেও আমাদেরকে বিদ্যুতের ভুয়া বিল দেয়া হয়েছে। দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ ও এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান তারা।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড কালীগঞ্জ উপজেলা কার্যালয়ের প্রকৌশলী শাহানুর ইসলাম জানান, ইতোমধ্যেই এসব গ্রাহকের বিল মওকুফ করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তাদের নির্দেশ দিয়েছেন।

আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান জানান, সরেজমিনে গিয়ে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে।