আশা জাগিয়েও পারলো না বাংলাদেশ, শিরোপা ভারতের

বাংলাদেশকে হারিয়ে নিদাহাস ট্রফির শিরোপা ঘরে তুললো ভারত। উত্তেজনাপূর্ণ ফাইনালে তারা বাংলাদেশকে হারিয়েছে ৪ উইকেটে। ফলাফলের জন্য দুই দলকেই খেলতে হয়েছে ম্যাচের শেষ বল পর্যন্ত।

১৬৭ রানের জয়ের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ঝড়ো সূচনা করেন দুই ভারতীয় ওপেনার। বিশেষ করে অধিনায়ক রোহিত শর্মার ব্যাট চলছিলো সমানে। তবে বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে পারেনি এই জুটি। বাংলাদেশ অধিনায়ক সাকিব আল হাসান হানেন প্রথম আঘাত। তার বলে আউট হন শিখর ধাওয়ান (১০)। এরপরই রুবেলের বলে শুন্য হাতে বিদায় নেন সুরেশ রায়না।

বিপর্যয় কাটিয়ে লোকেশ রাহুলকে নিয়ে ঘুরে দাঁড়ান রোহিত। তবে দলীয় ৮৩ রানে আবার আঘাত হানেন রুবেল। সাব্বিরের তালুবন্দি হয়ে বিদায় নেন রাহুল (২৪)।

এর কিছুক্ষণ পর ভারতকে সবচেয়ে বড় আঘাত দেন নাজমুল। তার বলে আউট হন ব্যাট হাতে ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠা রোহিত শর্মা (৫৬)। ভারতের ৫ম উইকেটের পতন ঘটে দলীয় ১৩৩ রানে। মোস্তাফিজের বলে সাব্বিরের হাতে ধরা পড়েন পান্ডে (২৮)।

শেষদিকে জয়ের পাল্লা যখন ক্রমেই বাংলাদেশের দিকে ঝুঁকছিলো, তখন ক্রিজে এসেই খেলা জমিয়ে তুলেন দীনেশ কার্তিক। তার ৮ বলে ২৯ রানের ইনিংসটাই জয় এনে দেয় ভারতকে। শেষ বলে ভারতের দরকার ছিলো ৫ রান। সৌম্য সরকারের করা ঐ বলে ছক্কা হাঁকান কার্তিক। ভারত মেতে ওঠে জয়ের উল্লাসে।

এর আগে, টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো করতে পারেনি বাংলাদেশ। দলীয় ৩৩ রানে তিন উইকেট হারায় সাকিব বাহিনী। এরপর ৩৫ রানের জুটি গড়ে প্রাথমিক চাপ সামাল দেন মুশফিক ও সাব্বির।

লেগস্পিনার যুজভেন্দ্র চাহালের তৃতীয় শিকারে পরিণত হয়ে দলীয় ৬৮ রানে বিদায় নেন ইনফর্ম মুশফিকুর রহিম (৯)। এরপরই ৬ রানের মধ্যে তিন উইকেটের পতন ঘটে। তামিম-সৌম্যকে ফিরিয়ে জোড়া আঘাত হানেন চাহাল। পঞ্চম ওভারে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে লং-অনে বাউন্ডারি লাইনে শারদুল ঠাকুরের হাতে ধরা পড়েন তামিম। শরীরের ভারসাম্য রেখে দর্শনীয় ক্যাচ নেন তিনি। আর শিখর ধাওয়ানের তালুবন্দি হন সৌম্য সরকার (১)।

তবে এক প্রান্ত আগলে লড়াই চালিয়ে গেছেন সাব্বির। অবশ্য তার ভুলেই রানআউট হয়ে সাজঘরে ফেরেন আগের ম্যাচের নায়ক মাহমুদুল্লাহ (২১)। দলকে মোটামুটি ভালো অবস্থানে নিয়ে ইনিংসের ১৯তম ওভারে আউট হন সাব্বির। তবে তার আগে ৫০ বল খেলে ৪টি ছয় আর ৭টি চারের মারে সংগ্রহ করেন ৭৭ রান। শেষদিকে মেহেদী হাসান মিরাজের ৭ বলে ১৯ রান বাংলাদেশকে এনে দেয় ৮ উইকেটে ১৬৬ রানের সংগ্রহ।

ভারতীয় বোলারদের মধ্যে চাহাল ৩টি ও উনাদকাট ২টি উইকেট লাভ করেন।