শাহজালাল সার কারখানার ভবন নির্মাণে টিলার লাল মাটি!

ফেঞ্চুগঞ্জের শাহজালাল সার কারখানার আবাসিক ভবন নির্মাণে ‘অবৈধভাবে’ টিলা কেটে ব্যবহার করা হচ্ছে ড্রেজারের ভিটি বালুর পরিবর্তে টিলার লাল মাটি। প্রশাসন তা দেখেও না দেখার ভান করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

শাহজালাল সার কারখানার নির্মিত আবাসিক ভবন মেসার্স এস আর ট্রেডিং ও মেসার্স আহমদ ট্রেডিংয়ের নির্মিতব্য ভবনে টিলার লাল বালু ব্যবহার হচ্ছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মেসার্স এস আর ট্রেডিং ও মেসার্স আহমদ ট্রেডিংয়ের নির্মিতব্য ভবনে ড্রেজারের বালুর পরিবর্তে কম দামে পাওয়ায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ভিটি বালু হিসেবে ওই লাল মাটি কিনছে- এমন অভিযোগ বেশ কয়েকজনের।

স্থানীয় সাইফুল বলেন, লাল মাটি সবাই ব্যবহার করছে, প্রশাসন দেখেও না দেখার ভান করছে। আব্দুল হান্নান বলেন, যতোগুলো ভবন হয়েছে, প্রতিটি ভবনেই ব্যবহার করা হয়েছে লাল মাটি। এরকম আরো অনেকেই অভিযোগ করেন লাল মাটি ব্যবহার নিয়ে।

এলাকাবাসী জানান, এই প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার আব্দুল মান্নান লাল মাটি কিনেন কমিশনের বিনিময়ে। এছাড়া তিনি বিভিন্ন পার্টিকে কাজও পাইয়ে দেন কমিশনের বিনিময়ে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বলেন, ম্যানেজার মান্নান টাকা খেয়ে বিভিন্নজনকে কাজ পাইয়ে দেন।

ছাত্রলীগ নেতাদের কাজ দেওয়ার কথা থাকলেও তিনি তাদের কাছে টাকা চাইতে পারবেন না বলে তাদের কাজ দেননি- এমন অনেক অভিযোগ রয়েছে তার বিরূদ্ধে।

অভিযোগকারীরা জানান, বর্তমানে যারা লাল মাটি দিচ্ছে, তাদের তিনি কাজ পাইয়ে দেন।

এ ব্যাপারে ম্যানেজার মান্নান বলেন, “লাল মাটি আমরা অর্ডার দেই না। পার্টি এনে দেয়, তাই আমাদেরকে চাপে পড়ে নিতে হয়।” কে এই লাল মাটি দিচ্ছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “সামি, সুইট, জায়েদ ড্রেজারের বালুর অর্ডার নিয়ে লাল মাটি দিচ্ছে। তাদের সাথে কথা ছিল ড্রেজারের বালু দেওয়ার।”

তারপরও লাল মাটি নিচ্ছেন কেন- এমন প্রশ্নের জবাবে মান্নান বলেন, “তারা সরকার পক্ষের লোক, তাই।” লাল মাটি ব্যবহারে পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “না, তা নেই। তবে আমরা সরাসরি নিচ্ছি না। তারা এনে আমাদের চাপিয়ে দেয়।”

কথা হয় লাল মাটি সাপ্লাইয়ার্স গ্রুপের সুইটের সাথে। সুইট জানান, লাল মাটি দিলেও তারা টিলা কেটে দিচ্ছেন না। তাহলে কোথা থেকে দিচ্ছেন- এমন প্রশ্ন এড়িয়ে যান তিনি।

এ বিষয়ে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুদ রানা জানান, কিছুদিন আগে তিনি শাহজালাল সারকারখানা এলাকা পরিদর্শন করেন। বর্তমানে লাল মাটি ব্যবহার হচ্ছে কিনা তা তার জানা নেই।