শাবিতে শিক্ষকদের কর্মবিরতি, শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

জাফর ইকবালের ওপর হামলার প্রতিবাদ

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের ওপর হামলার প্রতিবাদে কর্মবিরতি ও প্রতীকী অবস্থান কর্মসূচী পালন করেছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।

শাবিপ্রবি শিক্ষক সমিতির আহ্বানে সোমবার (৫ মার্চ) সকাল ১১টার সময় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে কর্মবিরতি পালন করেন তাঁরা।

পরে শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক সৈয়দ হাসানুজ্জামানের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ও প্রক্টর জহীর উদ্দিন আহমদের সঞ্চালনায় সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ হয়।

এদিকে, শিক্ষকদের পাশাপাশি সোমবার সকাল থেকেই দফায় দফায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। সকাল ১০টায় সিএসই ও ইইই বিভাগের শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে মানববন্ধন ও র‍্যালি করেন।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জাফর ইকবালের ওপর ন্যক্কারজনক হামলার প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে সমাবেশ থেকে কয়েকটি দাবি উত্থাপন করেছেন। তারা জানিয়েছেন, তাঁদের দাবি পূরণ হওয়া না পর্যন্ত তাঁরা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।

আন্দোলনকারীদের দাবিগুলো হলো- জাফর ইকবালের উপর হামলার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং সঠিক তথ্যসমুহ প্রকাশ করতে হবে, এই ন্যক্কারজনক ঘটনার দ্রুততম সময়ের ভিতরে বিচার নিশ্চিত করতে হবে ও ক্যাম্পাসের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

আন্দোলনকারীরা আরও দাবি করেন, সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কয়েকটি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এগুলোর মধ্যে আছে- ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের প্রবেশ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, দ্রুততম সময়ে ক্যাম্পাসে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করতে হবে, নিরাপত্তা ইস্যু সুষ্ঠু সমাধানের নামে হয়রানিমূলক নিয়মনীতি প্রণয়ন না করে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

তাঁদের আরও দাবি- ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের নিরাপত্তা বিধানে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক সৈয়দ সামসুল আলম জানান, এ ধরনের হামলা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত পেছনের কারিগরদের চিহ্নিত করে শাস্তির দাবি করছি।

প্রসঙ্গত, শনিবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে শাবিপ্রবির মুক্তমঞ্চে এক অনুষ্ঠান চলাকালে পেছন থেকে অধ্যাপক ড. জাফর ইকবালের মাথায় ও ঘাড়ে ছুরিকাঘাত করে আনুমানিক ২৫ বছর বয়সী এক যুবক। পরে শিক্ষার্থীরা তাকে ধরে পিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেন।

আর অধ্যাপক ড. জাফর ইকবালকে উদ্ধার করে প্রথমে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তারপর রাতেই হেলিকপ্টারযোগে তাঁকে ঢাকায় নেয়া হয়। ঢাকায় পৌঁছেই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালকে সিএমএইচে ভর্তি করানো হয়। এখন তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন আছেন।