শাজাহান খানের মন্ত্রিত্ব নিয়ে প্রশ্ন কামাল লোহানীর

নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানের মন্ত্রিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাংস্কৃতিক সংগঠক কামাল লোহানী। সড়কে মৃত্যুর মিছিলের বিপরীতে নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান পরিবহন চালক-শ্রমিকদের ‘যথোপযুক্ত শাস্তির বিপরীতে’ অবস্থান নিয়েছেন অভিযোগ করে কামাল লোহানী তার মন্ত্রিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেন।

স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের অন্যতম সংগঠক কামাল লোহানী নৌপরিবহনমন্ত্রীর সমালোচনায় বলেন, “আজকে আমরা যখন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় এক বাংলাদেশ গড়ার কথা বলছি, তখন সেই বাংলার মন্ত্রিসভায় এই কুৎসিত লোকটি কি করে সদস্য হন! তিনি একইসঙ্গে শ্রমিক আন্দোলন করছেন, আবার মন্ত্রিত্বও জাহির করছেন- এটা কি করে সম্ভব!”

মে দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার (১ মে) কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আরণ্যক নাট্যদলের এক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসে কামাল লোহানী এমন মন্তব্য করেন।

সাম্প্রতিক কয়েকটি দুর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনার পর চালকদের শাস্তি নিশ্চিতের দাবি নতুন করে জোরালো হয়ে উঠলেও নৌমন্ত্রী শাজাহান খান গত রোববার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, চালকদের সাজা বাড়ালেই দুর্ঘটনা কমবে বলে তিনি মনে করেন না।

তিনি সেদিন বলেন, “যারা বলেন সাজা বাড়ালেই দুর্ঘটনা কমবে, আমি এই তত্ত্বের সঙ্গে, এই কথার সঙ্গে একমত না। তাহলে বাংলাদেশে কোনো খুন হত না, খুনের সাজা হল ফাঁসি। তারপরেও কি খুন বন্ধ হয়ে আছে?”

পরিবহন শ্রমিকদের সবচেয়ে বড় সংগঠন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের কার্যকরি সভাপতি শাজাহান খান কয়েক বছর আগে চালকদের সনদপ্রাপ্তির যোগ্যতা নিয়ে এক মন্তব্যের জন্যও আলোচিত হয়েছিলেন।

আরণ্যকের মে দিবসের অনুষ্ঠানে এ সংগঠনের সভাপতি মামুনুর রশীদও নৌপরিবহনমন্ত্রীর সমালোচনা করেন এবং তাকে বিচারের কাঠগড়ায় তোলার দাবি জানান।

মামুনুর রশীদ বলেন, “বাংলাদেশের ২ শতাংশ মানুষ ৯৮ শতাংশ রাষ্ট্রীয় সম্পদের মালিক বনে গেছে। উল্টোদিকে বাঙালির মধ্যে এখনও কর্মসংস্কৃতি আসেনি। বাঙালি সেই অলস আর কুঁড়েই থেকে গেছে।”

সড়কে বিশৃঙ্খলার প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে নারায়ণগঞ্জের এমপি আওয়ামী লীগ নেতা শামীম ওসমানেরও সমালোচনা করেন কামাল লোহানী। তিনি বলেন, “বাস চালক-শ্রমিকদের কাছ থেকে টাকা আদায় করে তিনি এখন সেই টাকার বলে মানুষ কিনে নিচ্ছেন।”

দেশের ‘বহুল প্রচারিত’ একটি পত্রিকায় সম্প্রতি শামীম ওসমানের বিষয়ে তার একটি লেখা প্রত্যাখাত হয়েছে জানিয়ে কামাল লোহানী বলেন, “৬২ বছরের সাংবাদিকতা জীবনে দেখলাম না কোনোদিন লেখা ফিরে এসেছে। লেখা হয় ছাপা হবে, না হলে তা ডাস্টবিনে নিক্ষিপ্ত হবে। কোনোদিন ফিরে আসেনি লেখা।

“আমি সেই বহুল প্রচারিত দৈনিকের একজনকে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, ‘এ নিয়ে আর জিজ্ঞাসা করবেন না’। অর্থের জোর বড় সাংঘাতিক।”

উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সাবেক এই সভাপতি অভিযোগ করেন, সরকার এখন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ৩২ ধারা দিয়ে মুক্তবাক, মুক্তকণ্ঠ ‘রোধ করতে চায়’। শ্রমিক আন্দোলনে নেতৃত্বের পুরোভাগে থাকা ‘বিরাট হৃদয় অগ্নিগর্ভ চোখগুলো’ এখন ‘বন্ধ হয়ে আসছে’ বলেও মন্তব্য করেন কামাল লোহানী।