রোহিঙ্গাদের জন্য ৬ লাখ ডোজ জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী

ফাইল ছবি

রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশকে আরো প্রায় সোয়া ৬ লাখ ডোজ ইনজেকটেবল কন্ট্রাসেপ্টিভ (জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী) দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (ইউএসএইড)।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আবেদনের প্রেক্ষিতে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় কেন্দ্রগুলো এবং এর আশপাশের এলাকায় বসবাসরত বালাদেশী জনগণের জন্য ইউএসএইড ত্রাণ সহায়তা হিসেবে বাংলাদেশ সরকারকে ৬ লাখ ২২ হাজার ৮শ’ ডোজ ইনজেকটেবল কন্ট্রাসেপ্টিভ প্রদান করেছে।

সব-মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এ পর্যন্ত বাংলাদেশকে প্রায় দশ লাখ কন্ট্রাসেপ্টিভ প্রদান করলো। যার আর্থিক মূল্যমান ৯ লাখ ১ হাজার ২৩২ মার্কিন ডলার।

বুধবার ঢাকাস্থ যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস থেকে ইউএসএইড’র এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়। এতে বলা হয়, এরআগে গত ফেব্রুয়ারি মাসে ২ লাখ ৯২ হাজার ডোজ কন্ট্রাসেপ্টিভ এবং ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসে ৩০ লাখ প্যাকেট ওরস্যালাইন প্রদান করা হয়।

গত বছরের ২৫ আগস্ট থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরকার বাংলাদেশে অবস্থিত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের এবং যেসব এলাকায় রোহিঙ্গারা আশ্রয় নিয়েছে সেসব এলাকার জনগণকে ১শ’ ১০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি আর্থিক সহায়তা দিয়েছে।

২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৭ লাখ রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে পালিয়ে কক্সবাজারে আশ্রয় নিয়েছে। এসব রোহিঙ্গা প্রকট স্বাস্থ্য ঝুঁকির সম্মুখীন হচ্ছে। কারণ হিসেবে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, রোহিঙ্গাদের বর্তমান আশ্রয় কেন্দ্রসমূহে স্বাস্থ্য সেবা ও স্বাস্থ্য সামগ্রীর অপ্রতুলতা রয়েছে। বিশেষ করে, নবজাতক, শিশু, স্তনদাত্রী ও গর্ভবতী নারীরা অপুষ্টিতে ভুগছে, সংক্রামক রোগ ও খাদ্য অনিরাপত্তার শিকার হচ্ছে।

এতে জানোনো হয়, ইউএসএইড’র মিশন ডিরেক্টর ইয়ানিনা জারুজেলস্কি বলেছেন, ‘সবচেয়ে অরক্ষিত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জীবন রক্ষাকারী ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য সামগ্রী ব্যবহারের সুযোগ করে দিতে ইউএসএইড প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

বাংলাদেশে রোহিঙ্গা সংকটে সহায়তার ক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে ইউএসএইড মূলত জরুরি জীবন রক্ষাকারী খাদ্য সহায়তা এবং পুষ্টি সেবামূলক সহায়তা প্রদান করছে।

১৯৭১ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরকার ইউএসএইড’র মাধ্যমে বাংলাদেশকে ৭’শ কোটি ডলারেরও বেশি উন্নয়ন সহায়তা প্রদান করেছে উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০১৭ সালে ইউএসএইড বাংলাদেশের জনগণের জীবনমানের উন্নয়নে প্রায় ২১ কোটি ডলার প্রদান করেছে।

ইউএসএইড বাংলাদেশে যে সকল কর্মসূচিতে সহায়তা প্রদান করে সেগুলোর মধ্যে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও অনুশীলনের প্রসার, খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সুবিধাদির সম্প্রসারণ, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা সেবার উন্নয়ন ও অভিযোজন এবং স্বল্প কার্বন উন্নয়নের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তন পরিস্থিতির সংগে খাপ-খাওয়ানো প্রভৃতি রয়েছে।

সুত্র : বাসস