রোববার সিলেটে মঞ্চস্থ হবে ‘ভাইবে রাধারমণ’

বাংলা লোকগানের এক অনিঃশেষ ভাণ্ডার রাধারমণ দত্ত। সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় জন্ম নেয়া এই বৈষ্ণব কবি লিখে গেছেন অসংখ্য গান। মৃত্যুর এত বছর পরও তার গান লোকের মুখে মুখে।

এই কবির জীবন আর দর্শনের সেই অনাবিষ্কৃত দিকগুলোই ২০১৫ সালে প্রথমবারের মতো মঞ্চে নিয়ে এসেছিলো সিলেটের নাট্যদল ‘লিটল থিয়েটার সিলেট’।

সেই নাটকের ৬ষ্ঠ মঞ্চায়ন হতে যাচ্ছে রোববার (৮ এপ্রিল)। সিলেটের কবি নজরুল অডিটোরিয়ামে নাটকটির প্রদর্শনী শুরু হবে সন্ধ্যা পৌনে ৭টায়।

রাধারমণ দত্তের জীবন কাহিনী নির্ভর ‘ভাইবে রাধারমণ’ নাটকের রচনা ও নির্দেশনা দিয়েছেন তানভীর নাহিদ এবং পরিকল্পনা ও প্রয়োগ করেছেন আব্দুল কাইয়ুম মুকুল। নাটকের সংগীত পরিচালনা করেছেন বাউল সূর্য লাল দাশ ও নৃত্য পরিচালনায় আছেন নৃত্যশিক্ষক নীলাঞ্জনা জুঁই।

‘কারে দেখাব মনের দুঃখ গো, আমি বুক চিরিয়া’ অথবা ‘ভ্রমর কইয়ো গিয়া, শ্রীকৃষ্ণ বিচ্ছেদের অনলে, অঙ্গ যায় জ্বলিয়া রে’- এমন কয়েক হাজার দেহতত্ত্ব, ভক্তিমূলক, অনুরাগ, প্রেম, ভজন, ধামাইল গানের রচয়িতা রাধারমণ দত্ত ছিলেন একজন সাধক কবি, বৈষ্ণব বাউল ও ধামালি নৃত্যের প্রবর্তক।

১৮৩৩ খ্রিস্টাব্দে (১২৪০ বাংলা) সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার কেশবপুর গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন রাধারমণ দত্ত। পরবর্তীকালে বৈষ্ণব মতাবলম্বন করেন এবং কঠিন সাধনায় মগ্ন হন তিনি। তাঁর দীর্ঘ সাধনার বহিঃপ্রকাশই এই গানগুলো।

শতাধিক শিষ্য ও হাজারো ভক্ত-অনুগ্রাহী রেখে ১৯১৫ খ্রিস্টাব্দে (১৩২২ বাংলা) তিনি পরলোকগমন করেন। জগন্নাথপুরের নলুয়ার হাওরের পাশে তাঁর গড়ে তোলা আশ্রমেই তাঁকে বৈষ্ণব রীতি অনুযায়ী চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।