রাস্তা ভাঙা তাই ৩২ দিন থেকে আমদানি-রফতানি বন্ধ

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার চাতলাপুর স্থল শুল্ক স্টেশন সড়কের ৬ কিলোমিটার এলাকায় মনু নদের ভাঙনে ১৬টি স্থানের সড়ক ভেঙ্গে ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হওয়ার ফলে দীর্ঘ ৩২ দিন ধরে আমদানি রফতানি কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

রাস্তার এ অবস্থায় শরীফপুর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় সংলগ্ন ভাঙা কালভার্টের উপর সড়ক জনপথ বিভাগ একটি নতুন বেইলী সেতু স্থাপন করে। এ সড়কের ভাঙা ১৬টি স্থানে বালি ভরাট করে ইট সোলিং শুরু হলেও ভারী যানবাহন চলাচল এখনও অনিশ্চয়তার মাঝে রয়েছে। ফলে বন্ধ রয়েছে আমদানি রফতানি। এতে সরকার বঞ্চিত হচ্ছে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে।

সরেজমিন চাতলাপুর স্থল শুল্ক স্টেশন সড়কের শরীফপুর ইউনিয়নের সঞ্জবপুর থেকে শুল্ক স্টেশন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ক্ষতিগ্রস্ত ১৬টি স্থানের মধ্যে ৮টি স্থানের সড়ক ভাঙন ছোট আকারের। আর বাকি ৮ স্থানের ভাঙন বড় আকারের। বড় আকারের ভাঙন ৩৫ ফুট থেকে ২০০ ফুট দৈর্ঘ্যের। সড়ক জনপথ বিভাগ স্থানীয়ভাবে ঠিকাদার নিয়োগ করে এ সড়কের ভাঙন এলাকায় বালি ভরাট করে সেখানে দুই স্থরের ইট সোলিংয়ের কাজ করছে।

চাতলাপুর স্থল শুল্ক স্টেশনের আমদানি রফতানিকারক সাইফুর রহমান (রিমন), তাসদিক হোসেন (ইমরান) ও সাইফুল ইসলাম জানান- ভাঙা কালভার্টের উপর বেইলী সেতু স্থাপিত হওয়ায় ও ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক এলাকায় ইটসোলিং শুরু হওয়ায় হালকা যানবাহন চলাচল করছে। তবে বেইলী সেতু দিয়ে আমদানি রফতানি করা পণ্যবাহী ভারী যানবাহন চলাচল এখনও ঝুঁকিপূর্ণ বলে ঠিক কবে আমদানি রফতানি শুরু হবে তার কোন নিশ্চয়তা নেই। সড়ক জনপথ বিভাগ ও শুল্ক বিভাগ নিশ্চয়তা না দেয়া পর্যন্ত এ পথে আমদানি রফতানি বন্ধ রাখতে হচ্ছে।

শরীফপুর গ্রাম এলাকায় সড়কে ইটসোলিং কাজের তদারককারি সড়ক জনপথ বিভাগের কর্ম সহকারী তপন বিকাশ দেব জানান, এবারের বন্যার পানির স্রোতে এ সড়কে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ৬ কিলোমিটার এলাকায় ছোট বড় ১৬টি স্থানের ভাঙনের মধ্যে ইতিমধ্যে ৮টি স্থানে ইট সোলিং সম্পন্ন হয়েছে। বাকি রয়েছে আরও ৮টি স্থান। বাকি কাজ শেষ করতে কমপক্ষে আরও দুই সপ্তাহ লাগতে পারে।

ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক উন্নয়নে দায়িত্বপ্রাপ্ত স্থানীয় সাব ঠিকাদার নাজিম উদ্দীন নাজির জানান, বৃষ্টিতে মাঝে মাঝে কাজে বিঘ্ন ঘটছে। নতুবা দ্রুত পুরো ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ইট সোলিং সম্পন্ন করা যেত। তিনি আরও বলেন, এর আগে গত ২৬ জুন থেকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার সড়কের মাটি ড্রেসিং করে দেয়ায় হালকা যানবাহন চলাচল করছে। ফলে শরীফপুর ইউনিয়নের মানুষজনের দুর্ভোগ অনেকটা কমেছে।

চাতলাপুর চেকপোস্টের অভিবাসন কর্মকর্তা (ইমিগ্রেশন) এসআই জামাল হোসেন জানান, ভাঙা কালভার্টের উপর স্থাপিত বেইলী সেতুর উপর দিয়ে হালকা যানবাহন চলাচল শুরু করায় আর ভাঙা সড়ক এলাকার মাটি ড্রেসিং করে দেয়ায় দুই দেশে যাতায়াতকারী যাত্রীরা কোনমতে যাতায়াত করতে পারছেন।

চাতলাপুর শুল্ক স্টেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা আব্দুস সাত্তার বলেন, চাতলাপুর সড়ক দিয়ে রফতানিযোগ্য পণ্যবাহী যানবহান চলাচল করতে না পারায় ৩২ দিন থেকে ভারতের সাথে আমদানি রফতানি বন্ধ রয়েছে। ফলে সরকার বিপুল রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

সড়ক জনপথের মৌলভীবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী মিন্টু রঞ্জন দেবনাথ জানান, ভাঙা কালভার্টের স্থানে স্থাপিত বেইলী সেতু হালকা যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হয়েছে। আর সঞ্জবপুর থেকে চাতলাপুর স্থল শুল্ক স্টেশন ও চেকপোস্ট পর্যন্ত ক্ষতবিক্ষত সড়কে ইটসোলিংয়ের কাজ চলছে। তবে এই মুহূর্তে পণ্যবাহী ভারী যানবাহন চলাচল করতে পারবে না। ক্ষতিগ্রস্ত পুরো সড়ক উন্নয়নে প্রস্তাব গ্রহন করে দরপত্র প্রক্রিয়াধীন আছে। দরপত্র হলে দ্রুত সময়ে সড়কের বড় ধরণের সংস্কার কাজ শুরু হবে।

উল্লেখ্য, ১৩ জুন মনু নদের প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙ্গে প্রায় ২০০ গজ দূরত্বে একটি কালভার্ট প্রথমে দেবে যায়। পর্যায়ক্রমে এ কালভার্টটি ভেঙে গেলে এ পথে সবধরণের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তাছাড়া শরীফপুর ইউনিয়নের আরও ৩টি স্থানে মনু প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে পাহাড়ি ঢলের পানির স্রোতে সঞ্জবপুর গ্রাম এলাকা থেকে চাতলাপুর স্থল শুল্ক স্টেশন ও চেকপোস্ট পর্যন্ত ৬ কিলোমিটার সড়কে ব্যাপক ক্ষতি হয়।