রাজীবের নামে নির্মিত হবে স্কুল ও রাস্তা

পটুয়াখালীর বাউফলে রাজীব হোসেনের নামে একটি স্কুল নির্মাণ করবেন বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ ও বাউফল আসনের সাংসদ আ স ম ফিরোজ। অপরদিকে, রাজীবের বাড়ির সামনের আধাপাকা সড়ক পুরো পাকা, রাজীবের নামে নামকরণ এবং বাড়িতে গভীর নলকূপ স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছেন বাউফল উপজেলা চেয়ারম্যান এবং দাসপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান।

বুধবার (১৮ এপ্রিল) এসব তথ্য জানিয়েছেন রাজীবের খালা খাদিজা বেগম লিপি এবং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান।

বুধবার দুই দফা জানাজার পর পারিবারিক কবরস্থানে রাজীবকে সমাহিত করে তার পরিবার। সকাল ৯টায় বাউফল সদরের পাবলিক মাঠে দ্বিতীয় জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে রাজীবের ছোট দুই ভাই মেহেদি ও আবদুল্লাহ, চিফ হুইপ ও স্থানীয় এমপি আ স ম ফিরোজ, পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক মো. মাসুমুর রহমান, পু‌লিশ সুপার মো. মাঈনুল হাসনসহ স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন। জানাজায় অংশ নেন স্থানীয় উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা বিভিন্ন পেশাজীবী, রাজনৈতিক, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। এর আগে ঢাকায় হাইকোর্ট মসজিদে রাজীবের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

জানাজার আগে চীফ হুইপ সাংবাদিকদের জানান, রাজীবের মৃত্যুর ঘটনায় পুরো জাতি মর্মাহত। সরকার রাজীবের পাশে ছিলো, ভ‌বিষ্যতেও তার পরিবারের সদস্যদের পাশে থাকবে। রাজীবের দুই ভাইকে সরকার সর্বোচ্চ সহায়তা করবে।

রাজীবের নামে বাউফল দাসপাড়ায় একটি স্কুল তৈরীর কথা ভাবছেন বলে জানান তিনি।

এরপর সকাল ১০টায় দাসপাড়া গ্রামে রাজীবের নানা বা‌ড়িতে তৃতীয় নামাজে জানাজা অনু‌ষ্ঠিত হয়। রাজীবের তৃতীয় জানাজার নামাজ পড়ান তার ছোট ভাই হাফেজ মো. মেহে‌দি হাসান এবং মোনাজাত করান আরেক ছোট ভাই মো. আব্দুল্লাহ। এরপর রাজীবের নানা-নানীর কবরের পাশে তার দাফন সম্পন্ন হয়।

তৃতীয় জানাজা শেষে বাউফল উপজেলা চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মুজিবর রহমান এবং দাসপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এ এন এম জাহাঙ্গীর হোসেন ঘোষণা দেন, রাজীবের নানা বাড়ির সামনের আধাপাকা সড়ক পুরো পাকা করে দেওয়া হবে। পাশাপাশি সড়কটির নাম রাজীবের নামে হবে। এছাড়া তার নানাবাড়িতে একটি গভীর নলকূপ স্থাপন করা হবে।

উল্লেখ্য, গত ৩ এপ্রিল রাজধানীর কারওয়ান বাজারে পান্থকুঞ্জ পার্কের সামনে বিআরটিসির একটি বাসের সঙ্গে স্বজন পরিবহনের একটি বাসের প্রতিযোগিতার কারণে ওই দুই বাসের চাপায় পড়ে ডান হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় রাজীবের। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় ও পরদিন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে সরকারের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলছিলো।

সোমবার (১৬ এপ্রিল) দিনগত রাত ১২টা ৪০ মিনিটে রাজীব হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউ’র চিকিৎসকরা।

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার বাসিন্দা রাজীব তৃতীয় শ্রেণীতে পড়াকালে মা এবং অষ্টম শ্রেণীতে পড়াকালে বাবাকে হারান। এরপর মতিঝিলে খালা জাহানারা বেগমের বাসায় থেকে এসএসসি ও এইচএসসি পাস করেন।

এরপর তিতুমীর কলেজে স্নাতকে ভর্তি হয়ে যাত্রাবাড়ীতে মেসে থেকে পড়াশোনা করছিলেন রাজীব। পাশাপাশি তিনি একটি কম্পিউটারের দোকানেও কাজ করতেন। নিজের পড়াশোনার পাশাপাশি ছোট দুই ভাইয়ের খরচও চালাতে হতো তাকে। তার ছোট দুই ভাই একটি মাদরাসায় পড়ে।

সূত্র: চ্যানেল আই