মেয়র প্রার্থীদের মসজিদভিত্তিক প্রচার প্রচারণা

সিলেট সিটি কর্পোরেশন (সিসিক) নির্বাচনের এখনো প্রতীক বরাদ্ধ না হলেও এরইমধ্যে মসজিদভিত্তিক প্রচার-প্রচারণা শুরু করেছেন মেয়র প্রার্থীরা। বিশেষ করে জুমআর নামাজের বিশাল লোকসমাগমের ব্যাপারটি মাথায় রেখে তারা ছুটছেন নগরীর এ মসজিদ থেকে ও মসজিদ। বিভিন্ন উৎসবকে কেন্দ্র করে ছুটছেন মন্দির কিংবা প্রার্থণালয়ে। এমন প্রচারণার বিষয়টি অনেকে ভালোভাবে গ্রহণ না করলেও কর্মী-সমর্থকরা এটাকে গণসংযোগের সবচেয়ে উত্তম এবং শান্তিপূর্ণ পন্থা হিসেবেই দেখছেন।

ঘোষিত তফসীল অনুযায়ী আগামী ৩০ জুলাই সিসিক নির্বাচন। সিলেটে প্রথমবারের দলিয়ভাবে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনকে সামনে রেখে এরই মধ্যে প্রার্থী নির্বাচন করেছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ও দেশের প্রধানতম রাজনৈতিক দল বিএনপি। আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান ও বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন নির্বাচন উপলক্ষে মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দেয়া আরিফুল হক চৌধুরী। সেই সাথে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম ও জামায়াত নেতা এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। মনোনয়ন জমা দেয়ার মধ্যে আছেন আরো পাঁচজন। তবে প্রার্থী সংখ্যা ৯ জন হলেও আরিফ-কামরানেই চোখ নগরবাসীর। এ অবস্থায় আগামী নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ হিসেবেই দেখছেন আরিফ-কামরান।

সেই চ্যালেঞ্জকে নিজের পক্ষে আনতে আগেভাগেই মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন তারা। সারছেন প্রার্থী হিসেবে প্রাথমিক পরিচিতির কাজ।

মনোনয়ন দৌড় শেষ করে এ দুজনই নিজের অবস্থান জনগণের সামনে তুলে ধরতে প্রতিদিনই ছুটছেন নগরীর এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত। তফসীল ঘোষণার কয়েক মাস আগে থেকে এ দুজনসহ দুই দলের একাধিক প্রার্থী জনসমর্থন আদায়ের লক্ষ্যে প্রায় শুক্রবারই নামাজ আদায়ের জন্য ছুটেছেন নগরীর বিভিন্ন মসজিদে। নামাজের পর কথা বলছেন মুসল্লিদের সাথে। তবে মনোনয়ন নিশ্চিত হওয়ার পর আরিফ-কামরানের চোখে ঘুম নেই।

বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের বাসা নগরীর ছড়ার পাড় এলাকায়। কিন্তু মনোনয়ন পর প্রথম শুক্রবার (২৯ জুন) তিনি তাঁর নিজের এলাকার মসজিদ ছেড়ে টিলাগড় জামে মসজিদে জুময়ার নামাজ আদায় করেছেন।

বেশিরভাগ সময়ই নিজের মসজিদে জুময়ার নামাজ আদায় করেন উল্লেখ করে কামরান বলেন- জুমআর নামাজ আদায় করা প্রতিটা মুসলমানের দায়িত্ব। আমি বিভিন্ন মসজিদে জুমআর নামাজ পড়ছি, নামাজের পরে মুসল্লিদের সাথে কুশল বিনিময় করছি, আমি তো দোয়া নিচ্ছি- ভোট চাচ্ছি না।

মানুষের দোয়া নিতে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার অনেক আগে থেকেই নগরীর বিভিন্ন মসজিদে নামাজ আদায় করে আসছেন বলে তিনি জানান।

বিএনপি থেকে এবার মনোনয়ন পেয়েছেন- আরিফুল হক চৌধুরী। নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনিও ছুটছেন নগরবাসীর দ্বারে দ্বারে। নগরবাসীর সমস্যা-সম্ভাবনায় তাদের কাছে যাওয়ার ব্যপারটি তিনি তাঁর প্রচারণার প্রধান মাধ্যম হিসেবে ধরলেও সুযোগ পেলেই ছুটছেন নগরীর বিভিন্ন মসজিদ কিংবা প্রার্থণালয়ে। জমায়েত মানুষের সাথে করছেন শুভেচ্ছা বিনিময়।

মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরীর বাসা নগরীর কুমারপাড়া এলাকায়। কিন্তু শুক্রবার তিনি বন্দরবাজার জামে মসজিদে জুমআর নামাজ আদায় করেছেন। নিজ এলাকায় জুমআর নামাজ না পড়ে অন্য এলাকায় নামাজ পড়ার ব্যাপারে আরিফুল হকের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলে তিনি কল রিসিভ করেননি।

এদিকে নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম। নির্বাচনী গুঞ্জন শুরুর পর থেকে নগরীর বিভিন্ন মসজিদে জুময়ার নামাজ আদায় করলেও এ শুক্রবার তিনি নিজ এলাকার মসজিদে নামাজ আদায় করেছেন।

তবে অন্য মসজিদে নামাজ আদায় করার ব্যাপারটি তিনি স্বাভাবিকভাবেই দেখছেন। তিনি বলেন- জুমআর নামাজের পর মানুষের সাথে কুশল বিনিময় হচ্ছে একটা ভালো দিক। এতে করে মানুষের সাথে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি হয়।

সিটি নির্বাচনের সময় যতো এগিয়ে আসছে এর সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে প্রচার-প্রচারণা। মসজিদভিত্তিক প্রচারণার পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সভা এবং সম্যাজকল্যাণমূলক কাজে অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে চালিয়ে যাচ্ছেন নিজেদেরকে তুলে ধরার কাজ। তবে মসজিদ-মন্দির-উপাসনালয় বাদ দিয়ে রাজনৈতিক প্রচারণা দেশকে অসাম্প্রদায়িকতার পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন বিশিষ্টজনেরা।