মেসিদের বড় জয়ের রাতে হেরেছে রিয়াল মাদ্রিদ

লা লিগার ম্যাচে ন্যু ক্যাম্পে ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে বুধবার (৯ মে) রাতে বড় জয় পেয়েছে বার্সেলোনা। একই রাতে অনুষ্ঠিত অপর ম্যাচে সেভিয়ার কাছে হেরে গেছে লা লিগার আরেক পরাশক্তি রিয়াল মাদ্রিদ।

ভিয়ারিয়ালকে ৫-১ গোলের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে এবারের লা লিগায় এখন পর্যন্ত অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন বার্সা। চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত পরাজয়ের তিক্ত স্বাদ নিতে হয়নি কাতালানদের।

প্রথমার্ধেই ৩-০ গোলে এগিয়ে থেকে মাঠ ছাড়ে বার্সেলোনা। দ্বিতীয়ার্ধে ১ গোল হজম করলেও ভিয়ারিয়ালের জালে আরও দু’বার বল জড়ান ভালভার্দের শিষ্যরা।

ম্যাচের ১১তম মিনিটে কুতিনহোর গোলে ১-০–তে এগিয়ে যায় বার্সেলোনা। ওউসমানে ডেম্বেলে একাই বল টেনে আনেন ভিয়ারিয়ালের বক্সে। গোলমুখে শটও নেন তিনি। সেটা প্রথম চেষ্টায় ফেরালেও দ্বিতীয়বার কুতিনহোর শট আটকাতে ব্যর্থ হন ভিয়ারিয়ালের গোলরক্ষক। মিনিট পাঁচেক পর আবারও গোল হজম করে অতিথিরা। এবার বার্সার হয়ে গোল করেন পাওলিনহো (২-০)।

এরপর দু-একটা ছোটখাটো সুযোগ তৈরি করলেও বার্সার গোলমুখ খুলতে ব্যর্থ হয় ভিয়ারিয়াল। উল্টো প্রথমার্ধের শেষ বাঁশি বাজার আগে ইনিয়েস্তা-মেসির সমন্বয়ে তিন নম্বর গোল হজম করে বসে। ডি বক্সে ব্যাকপাস দিয়ে সুবিধাজনক জায়গায় পৌঁছান আর্জেন্টাইন তারকা। ইনিয়েস্তার সঙ্গে দারুণ বোঝাপড়ায় ব্যবধান বাড়ান মেসি (৩-০)।

ম্যাচের ৫৪তম মিনিটে গোল পায় ভিয়ারিয়াল। সেনসোনের গায়ে লেগে যে গোল হয়েছে, সেটা অনেকটা ভাগ্যের জোরেই হয়েছে বলা যায়। সতীর্থ খেলোয়াড়ের বুলেটগতির শটের সামনে থেকে সরে জায়গা করে দিতেই সেনসোনের গায়ে বল লেগে তা জালে জড়ায় (৩-১)।

এরপর আর গোলের দেখা পায়নি ভিয়াররিয়াল। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে এসে অসাধারণ দুই গোল করে দলকে ৫-১ গোলের বড় জয় এনে দেন ডেম্বেলে।

রাতের অপর ম্যাচে সেভিয়ার কাছে রিয়ালের হারের মূল ‘নায়ক’ তো রামোস! ৫৮ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হয়ে ৮৪ মিনিটে দেখেন হলুদ কার্ড আর ঠিক তারপরই করেন আত্মঘাতী গোল! এরপর যোগ করা সময়ে সেই পেনাল্টি থেকেই রিয়ালকে গোল এনে দিলেন। কিন্তু ততক্ষণে দেরি হয়ে গেছে। রিয়ালকে ৩-২ গোলে হারিয়ে দিয়েছে সেভিয়া।

বার্সা লিগ শিরোপা নিশ্চিত করে ফেলায় সম্ভবত নিয়মিত একাদশ খেলাননি রিয়াল কোচ জিনেদিন জিদান। তা ছাড়া সামনে চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালও আছে। গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের মাঠে নামিয়ে চোটের ঝুঁকি নেননি জিদান। বার্সার বিপক্ষে আগের ম্যাচে খেলানো একাদশে বেশ কিছু পরিবর্তন আনেন রিয়াল কোচ। শুধু বেনজেমা, কাসেমিরো ও রামোস মাঠে নেমেছেন ম্যাচের শুরু থেকে। রোনালদো, ক্রুস, মডরিচ, নাভাস, মার্সেলো, ভারানেদের বিশ্রাম দিয়েছিলেন জিদান।

এমন একাদশের ফলটাও জিদান পেয়েছেন হাতেনাতে। সেভিয়া যে তিনটি গোল করেছে, তা আসলে রিয়ালের ভুলের ফসল। প্রথমার্ধে বেন ইয়েদ্দার ও মিগুয়েল লেয়ুনের গোল এগিয়ে যায় স্বাগতিক দলটি। ২৬ মিনিটে জেসাস ভ্যালেয়োকে ফাঁকি দিয়ে লুই মুরিয়েলের বাড়ানো পাস থেকে গোল করেন বেন ইয়েদ্দার। প্রথমার্ধের শেষ মিনিটে সেভিয়ার স্তেভেন জোনজির শট রুখে দিয়েছিলেন রিয়াল গোলরক্ষক কাসিলা; কিন্তু বিপদমুক্ত করতে পারেননি। সুবিধাজনক জায়গায় বল পেয়ে ফিরতি শটে গোল করেন লেয়ুন। প্রথমার্ধে সেভিয়ার গোলপোস্টে মাত্র একটি শট নিতে পেরেছে রিয়াল।

বিরতির পর ৫৭ মিনিটে পেনাল্টি পায় মাদ্রিদ। কিন্তু রামোসের জোরালো শট ক্রসবারে লেগে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। নির্ধারিত সময়ের ৫ মিনিটে লেয়ুনের শট বিপদমুক্ত করতে পারেননি রামোস। বল তাঁর পায়ে লেগে জালে জড়ায়। কাকতালীয় ব্যাপার, রামোস গত মৌসুমেও আত্মঘাতী গোল করেছিলেন এই সেভিয়ারই বিপক্ষে, ৮৫তম মিনিটে!

এর দুই মিনিট পর রিয়ালকে গোল এনে দেন বোরহা মায়োরাল। যোগ করা সময়ে আবারও পেনাল্টি পেয়েছিল রিয়াল। রামোস এবার আর গোল করতে কোনো ভুল না করলেও দলের হার এড়াতে পারেননি।

লা লিগায় ৩৬ ম্যাচে ৭২ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রিয়াল। তাঁদের সমান ম্যাচে ৭৫ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ আর ৯০ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে শিরোপা নিশ্চিত করা বার্সেলোনা।