মিরাবাজারে জোড়া খুনের ঘটনায় একজন গ্রেপ্তার

সিলেটের মিরাবাজার এলাকার খাঁরপাড়ায় রোকেয়া বেগম (৪০) ও তার ছেলে রবিউল ইসলাম রোকন (১৬) হত্যার ঘটনায় নাজমুল হাসান নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (৩ এপ্রিল) দিবাগত রাতে সিলেট শহরতলীর বটেশ্বর এলাকা থেকে কোতোয়ালি থানা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।

বুধবার (৪ এপ্রিল) সিলেট কোতোয়ালি থানায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে একথা জানানো হয়েছে।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত নাজমুল শাহপরান থানাধীন মুক্তিরচর এলাকার মৃত করিম মেম্বারের ছেলে। নাজমুল আবাসন ব্যবসার সাথে জড়িত। সে ওই ডাবল মার্ডারের সাথে জড়িত বলে বিভিন্ন তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এবং ঘটনার দিন তার অবস্থান ঘটনাস্থলের আশেপাশেই ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ জানায়, নিহত রোকেয়ার সাথে নাজমুলের পরিচয় অনেক দিনের। তারা দুজন মিলে একটি বিউটি পার্লার করার কথা ছিল এজন্য রোকেয়ার কাছ থেকে সে টাকাও নিয়েছে।

এদিকে, আজ বুধবারই তাকে আদালতে তুলে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- সিলেট মহানগর পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার সাদেক কাওসার দস্তগীর, কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গৌছুল হোসেন ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রোকেয়া বেগম।

আরও পড়ুন : জোড়া খুনের ঘটনায় আটক নাজমুল ৭ দিনের রিমান্ডে

এর আগে, গত রোববার (১ এপ্রিল) দুপুরে খাঁরপাড়ার একটি বাসা থেকে মা ও ছেলের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এসময় জীবিত অবস্থায় রোকেয়ার ৫ বছর বয়সী মেয়ে রাইসাকে উদ্ধার করা হয়। তাকে পুলিশের ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে রাখা হয়েছে।

নিহত রোকেয়া বেগমের ভাই জাকির হোসেন সেদিন জানিয়েছিলেন, রোকেয়া বেগম, তার ছেলে রোকন ও শিশুকন্যা রাইসাকে নিয়ে এক বছর আগে বাসাটি ভাড়া নেন। তাদের সাথে একজন কাজের মেয়ে থাকতো। সর্বশেষ গত শুক্রবার বোনের সাথে কথা হয় জাকিরের। এরপর থেকে রোকেয়ার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। রোববার সকালে জাকির তাদের খোঁজ নিতে খাঁরপাড়ার বাসায় এসে দরজা ভেতর থেকে বন্ধ পান। অনেকক্ষণ ডাকাডাকির পর কেউ সাড়া না দেয়ায় তিনি বাড়ির মালিককে খবর দেন। বাড়ির মালিক ঘটনা শুনে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ এসে বাসার ভেতর থেকে মরদেহ দুটি এবং মেয়ে রাইসাকে জীবিত উদ্ধার করে।