মামলায় ফাঁসলেন ৩৯ নেতা, আরিফের নাম নেই!

অবস্থান কর্মসূচিতে বসা আরিফুল হক চৌধুরীসহ অন্যরা (২১ জুলাইয়ের ছবি)

কর্মী আটকের প্রতিবাদে মিছিল হলো, অবস্থান কর্মসূচি হলো আরিফুল হক চৌধুরীর নেতৃত্বে। এসএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) এর কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচির মধ্যমণি ছিলেন আরিফুল হক চৌধুরী। সেই কর্মসূচির কারণে পুলিশি কাজে বাধা প্রদানের অভিযোগে মামলায় ফাঁসলেন ৩৯ বিএনপি নেতা। কিন্তু মামলায় নাম নেই আরিফের!

মামলায় আরিফুল হক চৌধুরীর নাম না দিয়ে পুলিশ কিছুটা সমালোচনার ঊর্ধ্বে থাকতে চাইলেও বিষয়টি নিয়ে জনমনে কৌতূহলের শেষ নেই। কিন্তু আরিফের নাম কেন আসলো না এমন প্রশ্নের উত্তর পুলিশের দায়িত্বশীল কারো কাছ থেকেই জানা যায়নি। বরং সবাই দায় এড়িয়ে গেছেন।

সিলেট ৩৯ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে মামলার মূল ঘটনা শুরু গত শুক্রবার (২০ জুলাই)। ওইদিন দিবাগত রাত নগরীর দক্ষিণ সুরমার ঝালোপাড়া এলাকা থেকে নেওয়া রাসেল ও সুমন নামে বিএনপির দুই কর্মীকে আটক করে দক্ষিণ সুরমা থানা পুলিশ। এ ঘটনার পরদিন শনিবার (২১ জুলাই) দুপুর দেড়টা সাড়ে ৪ টা পর্যন্ত নগরীর উপশহরস্থ উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) এর কার্যালয়ের সামনে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে অবস্থান নেন বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী।

তবে দুই ঘন্টা অবস্থান নিয়েও আটক দুই কর্মীকে ছাড়াতে পারেননি আরিফসহ উপস্থিত নেতৃবৃন্দ। পরে তাদেরকে আদালতে প্রেরণ করা হলে তিনি নেতাকর্মীদের নিয়ে মিছিল সহকারে স্থান ত্যাগ করেন।

ওইদিনের ছবিতে দেখা যায়- অবস্থান কর্মসূচির ঠিক মাঝখানে বসে আছেন বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী। তাঁর ডানপাশে কেন্দ্রীয় সহ ক্ষুদ্রঋণ বিষয়ক সম্পাদক মুক্তিযুদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক। এর ডানে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ। এসময় আরিফের বামপাশে বসা ছিলেন মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা এমএ হক এবং তাঁর ডানে বসা হবিগঞ্জ পৌরসভার মেয়র জিকে গৌছ, সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন, জেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কাহের চৌধুরী শামিম এবং তাঁর ডানে বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা খন্দকার মুক্তাদির।

এছাড়া ওই অবস্থান কর্মসূচিতে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ডা. শাহরিয়ার হোসেন চৌধুরী, মহানগর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আজমল বখত সাদেক, সহ-সভাপতি ডা. নাজমুল ইসলাম, ছালেহ আহমদ খসরু, বিএনপি নেতা মাহবুবুর রব চৌধুরী ফয়সল, সিলেট মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এমরান আহমদ চৌধুরীসহ বিএনপির অসংখ্য নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

সেদিনের ওই অবস্থান কর্মসূচির কারণে পুলিশের দায়িত্ব পালনে বাধা প্রদানের অভিযোগে রোববার (২২ জুলাই) রাতে আরিফুল হক চৌধুরীর নির্বাচন কমিটির সদস্য সচিব আব্দুল রাজ্জাকসহ বিএনপির ৩৯ নেতার বিরুদ্ধে শাহপরান (রহ.) থানায় মামলা করে পুলিশ।

শাহপরাণ থানা গোয়েন্দা পুলিশের উপ পরিদর্শক ফয়েজ আহমেদ বাদী হয়ে এ মামলাটি দায়ের করেন। সোমবার (২৩ জুলাই) মামলার সত্যতা নিশ্চিত করেন শাহপরান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আখতার হোসেন।

মামলায় বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা খন্দকার মুক্তাদির আহমদ, জেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন, মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি ডা. শাহরিয়ার হোসেন চৌধুরী, সহ-সভাপতি সালেহ আহমদ খসরু, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আজমল বখত সাদেক, সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমেদ, ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি এমরান আহমদসহ সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপির শীর্ষ নেতাদের আসামি করা হয়।

ওই দিন অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেয়া প্রায় সব নেতা যখন মামলার আসামি তখন আরিফের নাম নেই।

এ ব্যাপারে শাহপরান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আখতার হোসেনের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন- ‘মামলা করেছে গোয়েন্দা শাখা, তারাই বলতে পারবে কেন আরিফের নাম দেয়া হলো না। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে মামলা নেয়ার দায়িত্ব আমার, তাই নিয়েছি।’

বিষয়টি নিয়ে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিসি (গোয়েন্দা) ফয়সল মাহমুদের সাথে আলাপকালে তিনি এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।