মাঠে নেমেছেন আটজন প্রার্থী

সুনামগঞ্জ পৌরসভায় মেয়র পদে উপ নির্বাচন

(উপরে বা থেকে) ইমদাদ রেজা চৌধুরী, শেরগুল আহমদ, খায়রুল কবির রুমেন, শংকর চন্দ্র দাস। (নিচে বা থেকে) নাদের বখ্ত, গণিউল সালাদীন, আব্দুল্লাহ আল নোমান, সাজাউর রাজা সুমন।

তফসিল ঘোষণার পর পরই সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র পদের উপ নির্বাচনে প্রার্থীতা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। কারা প্রার্থী হবেন, কোন দলের মনোনয়ন কে পাবেন ? এই নিয়ে পাড়া-মহল্লায় চলছে জোরালো আলোচনা। আর এখন পর্যন্ত আটজন প্রার্থী নির্বাচনী মাঠে প্রচারণায় নেমেছেন।

সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আয়ূব বখত জগলুলের মৃত্যুতে শূন্য হওয়া মেয়র পদের উপ নির্বাচন হবে আগামী ২৯ মার্চ। নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র জমাদানের শেষ দিন ১ মার্চ। ৪ ও ৫ মার্চ মনোনয়নপত্র বাছাই, ১২ মার্চ প্রত্যাহার এবং ১৩ মার্চ প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ ও ভোটগ্রহণ ২৯ মার্চ।

আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সদস্য জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক পৌর মেয়র আয়ূব বখত জগলুল গত ১ ফেব্রুয়ারি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ঢাকায় মারা যান। তিনি সুনামগঞ্জ পৌরসভার টানা দুইবারের মেয়র ছিলেন।

এবারের উপ নির্বাচনে মেয়র পদে নির্বাচন করার লক্ষ্যে প্রচার-প্রচারণায় নেমেছেন প্রয়াত আয়ূব বখত জগলুলের পরিবার থেকে তাঁর ছোট ভাই নাদের বখ্ত, গত নির্বাচনের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি স্বতন্ত্র প্রার্থী হাছন রাজার প্রপৌত্র দেওয়ান গণিউল সালাদীন, সুনামগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক আওয়ামী লীগ নেতা শংকর চন্দ্র দাস, আওয়ামী লীগ নেতা ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান ইমদাদ রেজা চৌধুরী, আওয়ামী লীগ নেতা সুনামগঞ্জ জেলা ও দায়রা আদালতের পিপি ড. অ্যাড. খায়রুল কবির রুমেন, গত নির্বাচনে বিএনপির প্রতিদ্বন্দ্বি পৌর ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মো. শেরগুল আহমদ, সাবেক কাউন্সিলর ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক আবদুল্লাহ আল নোমান এবং বিএনপি নেতা দেওয়ান সাজাউর রাজা সুমন।

মেয়র পদে নির্বাচন করতে আগ্রহী এই আটজন প্রার্থীর মধ্যে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী প্রয়াত আয়ূব বখত জগলুলের ছোট ভাই নাদের বখত, শংকর চন্দ্র দাস, দেওয়ান ইমদাদ রেজা চৌধুরী ও সরকারি কৌসুলি ড. অ্যাড. খায়রুল কবির রুমেন।

বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী গত নির্বাচনে বিএনপির প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী পৌর ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মো. শেরগুল আহমেদ, পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর আবদুল্লাহ আল নোমান এবং দেওয়ান সাজাউর রাজা (সুমন)। তবে গত নির্বাচনের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী দেওয়ান গণিউল সালাদীন এবারও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করতে চান বলে জানিয়েছেন।

নাদের বখ্ত বলেন,‘ আমার বড় ভাই আয়ূব বখ্ত জগলুল সুনামগঞ্জ শহরবাসীর সেবায় নিয়োজিত ছিলেন। তিনি এভাবে চলে যাবেন আমরা কেউই ভাবতে পারিনি। আমি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচন করতে চাই। সুনামগঞ্জবাসীর পাশে থাকতে চাই।’

শংকর চন্দ্র দাস বলেন,‘ ছাত্রলীগের রাজনীতি থেকেই নির্যাতন-নিপীড়ন সহ্য করে আওয়ামী লীগেরে রাজনীতির সাথে জড়িত আছি। সাধারণ মানুষের পাশে থেকে কাজ করে যাচ্ছি। আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন নিয়ে মেয়র পদে নির্বাচন করতে চাই। মনোনয়ন পেলে আমি নির্বাচন করব।’

দেওয়ান ইমদাদ রেজা চৌধুরী বলেন,‘ আমি রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান। দলের মনোনয়নে নির্বাচন করতে চাই। আমি নৌক প্রতীক পেলে নির্বাচন করব। ’

সরকারি কৌসুলি ড. অ্যাড. খায়রুল কবির রুমেন বলেন, ‘দীর্ঘদিন থেকে মাঠে কাজ করছি। গত দুটি নির্বাচনে প্রার্থী হতে চেয়েছিলাম, কিন্তু দলের জ্যেষ্ঠ নেতা আয়ুব বখত জগলুলের প্রতি সম্মান জানিয়ে হইনি। আধুনিক পৌরসভা গঠনে কাজ করতে চাই। দলের মনোনয়ন নিয়ে এবার নির্বাচন করতে চাই। ’

স্বতন্ত্র প্রার্থী দেওয়ান গণিউল সালাদীন বলেন,‘ আমি গত নির্বাচনে প্রার্থী ছিলাম, এবার উপ নির্বাচনেও প্রার্থী হব। সে লক্ষ্যে মাঠে গণসংযোগ করছি। সাধারণ ভোটাররা আমার সাথে আছেন। ’

অধ্যক্ষ মো. শেরগুল আহমেদ বলেন,‘ গত নির্বাচনে বিএনপি আমাকে মনোনয়ন দিয়েছিল। এবারও দলীয় মনোনয়নে নির্বাচন করতে চাই। দল ঐক্যবদ্ধভাবে আমাকে মনোনয়ন দিলে আমি নির্বাচন করব এবং বিজয়ী হব।’

আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, ‘আমি দুইবার পৌরসভার কাউন্সিলর ছিলাম। শহরজুড়ে আমার পরিচিত রয়েছে। বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচন করতে চাই। মনোনয়নের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।’

দেওয়ান সাজাউর রাজা সুমন বলেন, ‘ছাত্র জীবন থেকেই আমি রাজনীতি ও নানা সামাজিক কাজে যুক্ত আছি। সাধারণ মানুষের সঙ্গে থেকে তাঁদের সেবা করতে চাই। দলের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে গ্রিন সিগনাল পেয়ে মাঠে নেমেছি। আমি আশা করি বিএনপির মনোনয়ন পাব।’

প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর সুনামগঞ্জ পৌরসভায় সর্বশেষ নির্বাচিত অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে মেয়র নির্বাচিত ছিলেন আয়ূব বখত জগলুল। তিনি পেয়েছিলেন ১৪ হাজার ৮৪৫ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি ছিলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসন রাজার প্রপৌত্র দেওয়ান গণিউল সালাদীন। তিনি পেয়েছিলেন ১০ হাজার ৪৮৬ ভোট। তৃতীয়স্থানে ছিলেন বিএনপির প্রার্থী সুনামগঞ্জ পৌর ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মো. শেরগুল আহমেদ। তিনি পেয়েছিলেন ২ হাজার ৪১৪ ভোট।