মঞ্চায়িত হলো নাটক ‘বাঘের শিন্নী’

সিলেটের কবি নজরুল মিলনায়তনে মঞ্চায়িত হলো নাটক ‘বাঘের শিন্নী’। বীর মুক্তিযোদ্ধা ও নাট্য ব্যাক্তিত্ব ভবতোষ রায় বর্মনের রচনা ও পরিচালনায় এ নাটকটিতে সিলেট জেলা শিল্পকলার অভিনয় বিভাগের প্রশিক্ষণার্থীরা অভিনয় করেছেন।

শুক্রবার (২৭ জুলাই) সন্ধ্যা সাতটায় প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন সিলেটের জেলা প্রশাসক নুমেরী জামান। জেলা কালচারাল অফিসার অসিত বরন দাশ গুপ্তের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন নাট্যকার ভবতোষ রায় বর্মন, নাট্যজন বাবুল আহমেদ, সম্মিলিত নাট্য পরিষদের সভাপতি মিশফাক আহমেদ মিশুসহ আরো অনেকে।

বাঘের শিন্নীর গান নিয়ে নাটকটির মূল পটভূমি রচিত। একসময় বাংলা জুড়েই ছিলো তাদের অবাধ বিচরণ। জীববৈচিত্র ও পরিবেশগত পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মানব সভ্যতার বিস্তারের ফলে বনাঞ্চল সংকুচিত হয়ে যায়। একসময় শিকারের আশায় বাঘ লোকালয়ে হানা দিতে শুরু করে। বাঘের থাবা থেকে গৃহপালিত পশুপাখি ও নিজেদের জীবন বাঁচাতে নানাভাবে চেষ্টা চালায়। গ্রামের গৃহস্থরা বাঘের আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে সারারাত আগুন জ্বালিয়ে পাহারা দিতো। কখনোবা বিকট শব্দের নানা প্রকার বাদ্য বাজিয়ে বাঘকে ভয় দেখাতো। যুগ যুগ ধরে বাঘ তাড়ানোর এই বিষয়টি গ্রামীণ সমাজে মিশে যায়। নাচ-গান বাদ্য-বাজনায় বাঘ তাড়ানোর রীতিনীতি হয়ে উঠে এক নতুন সংস্কৃতি। মেঘালয়ের পাদদেশে লৌকিক পীর আরফিন শাহের মাজারে বাঘ তাড়ানোকে কেন্দ্র করে ‘বাঘের শিন্নী’ নামে শিরনী দেয়ার রেওয়াজ শুরু হয়।

‘বাঘের শিন্নী’র মূল চালিকাশক্তি গ্রামের গৃহস্থদের আস্থাভাজন রাখালরা। তবে আজকের দিনে রক্তলোলুপ এই প্রাণিটি মানুষের মনোরঞ্জনের বস্তু হিসেবে ঠাই পেয়েছে চিড়িয়াখানায়। বাঘের অত্যাচার থেকে মানুষ আজ মুক্ত। নাট্যকার ভবতোষ রায় বর্মণ বাঘকে সমাজ জীবনের পশুত্বের সাথে তুলনা করেছেন। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় লেবাসধারী পশু এবং ৭১ পরবর্তী মানুষরূপী প্রেতাত্মাদেরও নাটকের গল্পে সরাসরি তুলে ধরা হয়েছে।

‘বাঘের শিন্নী’ নাটকে অভিনয় করেছেন- ফয়সাল খলিলুর রহমান, আলীরেজা হাসিব, মো. বুরহান উদ্দিন, শামসুল হুদা, জিল্লুর রহমান সাহেল, ফাহমিদা হিমালয়া, আবুল হাসনাত, আদনান সামি নাহিয়ান, আমিনা আক্তার, শিমুল হাসান, জেসিকা নওরিন বৃষ্টি, সালেহ আহমেদ, অন্তর দাস, সুরঞ্জন দাশ, মোহাম্মদ সিরাজ, মেহেদী মো. ফারুকি, তাপস দেবনাথ, তৈয়বুর রহমান, বিশ্বজিত চন্দ্র নাথ, অসীম সরকার, শাহরীন রহমান বিথীসহ নাটক বিভাগের প্রশিক্ষণার্থীবৃন্দ।

নাটকটি প্রসঙ্গে নাট্যকার ভবতোষ রায় বর্মণ বলেন, ‘যুগ যুগ ধরে গ্রামের রাখালরা দেশ ও সমাজকে রক্ষা করে আসছে। মুক্তিযুদ্ধেও গ্রামের রাখালরাই শত্রুপক্ষের বিরুদ্ধে প্রথম প্রতিরোধটা গড়ে তোলেন। চাষাভূষা বা দুই কড়ার রাখাল বলে তাদের আমরা সমাজের নিম্নস্তরে রেখে দিই। অথচ তাদের হাতেই বাংলাদেশের রাজনীতি ও সংস্কৃতির রক্ষাকবচ। ‘বাঘের শিন্নী’ নাটকে আমি বাংলাদেশের উত্তর পূর্বাঞ্চলের ভাটির বিলুপ্ত সংস্কৃতিকে প্রাধান্য দিয়ে এ বিষয়টিই তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।’