‘ভোট আকর্ষণের ঘাট‌তি বা‌জেট’, বিএনপির প্রত্যাখ্যান

২০১৮-১৯ অর্থবছ‌রের প্রস্তাবিত বা‌জেটকে ‘ভোট আকর্ষণের ঘাট‌তি বা‌জেট’ উল্লেখ করে তা প্রত্যাখ্যান করেছে বিএনপি।

বৃহস্পতিবার (৭ জুন) রাজধানী‌তে বাংলাদেশ কল্যাণ পা‌র্টি আয়োজিত ‌দোয়া ও ইফতার মাহ‌ফি‌লে দল‌টির স্থায়ী ক‌মি‌টির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হো‌সেন ব‌লে‌ন, ‘ঘো‌ষিত বা‌জেট জনকল্যাণমুখী নয়। এই বা‌জেট নির্বাচনি বছ‌রে ভোট আকর্ষণের ঘাট‌তি বা‌জেট। যেটা কখনও বাস্তবায়ন সম্ভব হ‌বে না। আমরা ২০১৮-১৯ অর্থবছ‌রের পেশকৃত বা‌জেট প্রত্যাখ্যান কর‌ছি। আমরা এর প্রতিবাদ করছি।’

বৃহস্পতিবার (০৭ জুন) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেট পেশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এ বাজেটের আকার চার লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা।

খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘বিনিয়োগ কম হবে, আমদানি-রফতানি কম হবে— এ কারণে এই বাজেট লোক দেখানো এবং ভোট আকর্ষণের বাজেট। এ বাজেট বাস্তবায়নযোগ্য নয়। গত বাজেট বাস্তবায়নের মান দেখে এবার সহজে এটা বোঝা যায়, সরকার এই বাজেট বাস্তবায়ন করতে পারবে না। রাজস্ব আদায় করতে পারবে না। সংখ্যা বেশি, বিশাল বাজেট— এ কারণে নির্বাচনের বছরে ভোট আকর্ষণের বাজেট দেওয়া হয়েছে।’

ঋণের বোঝা বা‌ড়ি‌য়ে ঋণনির্ভর বা‌জেটের মাধ্য‌মে রাজস্ব আদা‌য়ের টা‌র্গেট সম্ভব হ‌বে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ঘো‌ষিত বা‌জে‌টে ধনী‌কে আরও ধনী এবং দ‌রিদ্র‌কে আরও দ‌রিদ্র করার প‌রি‌বেশ সৃ‌ষ্টি ক‌রে দেওয়া হ‌য়ে‌ছে। এ বাজেটে জনগণকে ধোঁকা দেওয়া হয়েছে। সরকার প্রত্যাশা নিয়ে একটি বড় বাজেট করেছে।’

সরকার গত বছরের বাজেট বাস্তবায়ন করতে পারেনি দাবি করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, ‘গত বছরের বাজেটও ব্যাপক কাটছাঁট করেছে তারা। গত বছরের সংশোধিত বাজেটে যে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছিল, সেই লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব হয়নি। এবার আরও ৬৪ হাজার কোটি টাকা বেশি, এই লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব না।’

খন্দকার মোশাররফ হো‌সেন বলেন, ‘বর্তমান স্বৈরাচারি সরকার আজকে একটি বাজেট দিয়েছে। ইতোমধ্যে এ বাজেট সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে। বাজেটে মূল ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে উন্নয়ন বাজেট হচ্ছে ১ লাখ ৭৩ হাজার কোটি টাকা, আর ঘাটতি হচ্ছে ১ লাখ ৮৫ হাজার ২ শত ৯৩ কোটি টাকা।’

বাজেট বাস্তবায়নের জন্য আর্থিক সক্ষমতা এবং প্রশাসনিক দক্ষতা নেই অভিযোগ করে বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, ‘বাজেটে রাজস্ব আদায়ের জন্য যে টার্গেট করা হয়েছে, সেটাও সম্ভব হবে না। জনগণের পকেট থেকেই এ ঘাটতি পূরণ করতে হবে।’

বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহম্মদ ইবরাহিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন দলের মহাসচিব এম. এম. আমিনুর রহমান, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, হাবিবুর রহমান হাবিব, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, কল্যাণ পার্টির স্থায়ী কমিটির সদস্য ফোরকান ইবরাহিম, অধ্যাপক ডা. ইকবাল হাসান মাহমুদ, অ্যাডভোকেট আজাদ মাহবুব, ভাইস চেয়ারম্যান সাহিদুর রহমান তামান্না প্রমুখ।