ভীড় জমছে বিপনীবিতানে, জমজমাট ঈদের বাজার

ঈদের এখনো বাকি সপ্তাহখানেক। এরই মধ্যে জমে উঠছে ঈদের বাজার। নানা সাজে সজ্জিত বিপনী বিতানগুলোতে বাড়ছে ক্রেতাদের ভিড়। নগরীর বিপনী বিতানগুলোতে সিলেটের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসছে মানুষ।

শুক্রবার (৮ জুন) নগরীর বিভিন্ন বিপনী বিতান গুলো ঘুরে দেখা যায়, ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। কেউ পরিবার পরিজন নিয়ে কেনাকাটা করতে এসেছেন, আবার কেউবা বন্ধু বান্ধবের সাথে। দুপুরের পর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত নগরীর প্রতিটি বিপনী বিতানে বেচাকেনার ধুম, ক্রেতা বিক্রেতার দর কষাকষি।

কথা হয় জিন্দাবাজারের একটি বিপনী বিতানে কেনাকাটা করতে আসা সরকারী চাকুরিজীবী আতিক মিয়ার সাথে, তিনি বলেন আমি আমার পরিবারে আমিই একমাত্র উপার্জনকারী। বেতনসহ বোনাস পেয়ে গেছি, এজন্য ঈদের শপিং করতে পরিবারের সবাইকে নিয়ে এসেছি। আমার মা, বাবা, ছেলে, মেয়ে ও স্ত্রীর জন্য পছন্দের কাপড়গুলো কিনে দিচ্ছি। তবে দাম নিয়ে একটু অসন্তুষ্ট হলেও ঈদের খুশিতে সব ম্লান হয়ে গেছে।

অনেকেই আবার কেনাকাটা তেমন করছেন না। নগরীর বিপনী বিতান গুলো ঘুরে ঘুরে পছন্দ করে রাখছেন শেষ মুহূর্তের কেনাকাটার জন্য।

সাদিয়া আফরোজ নামের এক বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী এই প্রতিবেদককে বলেন, এখনো ঈদের অনেক কালেকশন আসেনি, দামও একটু বেশি। তাই, পছন্দ করে রাখছি। কেনাকাটা জমে উঠলে দাম কিছুটা কমতে পারে, কালেকশনও বাড়বে আরো। তাই শেষ মুহূর্তে কেনাকাটার জন্য অপেক্ষা করছি।

নগরীর জিন্দাবাজারস্থ ব্লু ওয়াটার শপিংমলের একটি শাড়ির দোকানের ম্যানেজার আজিজুর রহমান জানান, কয়েকদিন ধরে বেচা বিক্রির অবস্থা মোটামুটি ভাল। গত বছর আশানুরুপ ব্যবসা না হলেও এবার একটু আগেভাগেই ঈদের কেনাকাটা শুরু হয়ে গেছ। আশা করছি আগামী দিন গুলোতে আরও ভাল হবে।

কথা হয় দুলহান শাড়ীঘরের হোসেন আহমদের সাথে, তিনি বলেন গত দুএকদিন ধরেই বেচা বিক্রির কিছুটা পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। তবে ঈদ যতো ঘনিয়ে আসবে ক্রেতার ভিড় আরো বাড়বে। ঈদ মৌসুমে প্রায় প্রতিদিনই কিছু না কিছু নতুন ডিজাইন আসছে। ক্রেতাদের উপস্থিতি মোটামুটি সন্তোষজনক। ঈদ যতো ঘনিয়ে আসবে আমাদের কালেকশনও বাড়বে, তার সাথে সাথে বিক্রিও বাড়বে বলে আশা করা যায়।

পোষাকের দোকানের পাশপাশি প্রসাধনী সামগ্রী ক্রয়েও ক্রেতাদের উপস্থিতি ছিলো চোখে পড়ার মতো। নানান পেশার নানা বয়সের নারীরা ভিড় করছেন এই দোকানগুলোতে। নেইল পলিশ, লিপস্টিক, ফেইস পাউডার ইত্যাদি কিনতে ভিড় জমাচ্ছেন। নগরীর মানরু শপিং সিটিতে প্রসাধনী কিনতে আসা তরুণী ফাতিমা জানান, ঈদ শপিং এ প্রসাধনী কিনতেই হবে। পোশাকের সাথে ম্যাচ করে প্রসাধনী না পেলে ঈদের আনন্দই মাটি হয়ে যাবে। এখন নেইল পলিশ, লিপস্টিক আর পারফিউম কিনেছি, মেহেদি কিনবো ঈদের দু’একদিন আগে।

গুর্জরী কসমেটিকসের সুবল সিংহ জানান, এখনো সেভাবে জমে ওঠেনি ঈদের প্রসাধনীর বেচাকেনা। তবে ২৫ রমজানের পর থেকেই ভিড় বাড়বে আরো। এখন যেমন মধ্যরাত পর্যন্ত বেচাকেনা হচ্ছে, তখন সেই ভোর পর্যন্ত লোক সমাগম থাকে। তিনি আরো বলেন, আমার এই দোকানে শুধু প্রসাধনী সামগ্রী হওয়ায় সব কেনাকাটা শেষ করে তারপর প্রসাধনী কিনতে আসেন নারীরা।

নগরীর ছোট বড় কসমেটিকসের দোকানগুলোতে প্রসাধনীর পাশাপাশি পাওয়া যাচ্ছে নানা ধরনের গহনা। পোষাকের সাথে মিলিয়ে কানের ঝুমকা, দুল, চুড়ি, আংটি, মালা, নূপুরসহ হরেক রকমরে জুয়েলারি ক্রয়ের জন্য সব শ্রেনীর ক্রেতাদের ভিড় এসব দোকানগুলোতে। জুয়েলারি কিনতে আসা তরুণী দীনা বেগম সিলেট ভয়েসকে বলেন, নতুন পোশাকের সাথে নতুন গহনা না কিনলে মোটেও ভাল লাগে না। অঙ্গসজ্জায় নতুন পোশাকের সাথে নতুন গহনার আকর্ষণ আলাদা মাত্রা দেয়। তাই নিজের পছন্দ মত গহনা কিনতে এসেছি।

তবে প্রচণ্ড গরম আর যানজট কোনোটাই বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি ঈদের বাজারে। ক্রেতারা দাম নিয়ে কিছুটা অসন্তোষ প্রকাশ করলেও বিক্রেতাদের দাবি দাম এখনো সহনশীল পর্যায়ে।