‘ভিটামিন-এ’ ক্যাপসুল খাবে সিলেটের ৫ লাখ শিশু

জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের আওতায় সিলেটে প্রায় পাঁচ লাখ শিশুকে ভিটামিন-এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। শনিবার (১৪ জুলাই) সিলেট জেলার ১২ উপজেলার ২ হাজার ৫৬৩ টি টিকাদান কেন্দ্রে ভিটামিন-এ প্লাস ক্যম্পেইন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

শনিবার (১৪ জুলাই) থেকে শুরু হচ্ছে ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের প্রথম রাউন্ড। প্রথম রাউন্ডে সিলেটে জেলার ৪ লাখ ৪৮ হাজার ১১৫ শিশুকে ভিটামিন-এ খাওয়ানো হবে। এদের মধ্যে ৬ থেকে ১১ মাসের শিশুর সংখ্যা ৪৭ হাজার ৬৯৩ জন শিশুকে একটি করে নীল রঙের ও ১২ থেকে ৫৯ মাসের ৪ লাখ ৪২২ জন শিশুকে লাল রঙের ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।

এ কর্মসূচী সারাদেশের মতো সিলেটের ১২ উপজেলায় সকাল ৮ টা থেকে বিকেল ৪ টা পর্যন্ত চলবে বলে জানিয়েছেন সিলেটের সিভিল সার্জন ডা. হিমাংশু লাল রায়। তিনি বলেন, ‘জেলার ১২ উপজেলায় অস্থায়ী টিকাকেন্দ্র রয়েছে ২৪১৬টি, স্থায়ী টিকাকেন্দ্র ১২টি, অতিরিক্ত টিকাকেন্দ্র ৯৯টি ও ভ্রাম্যমাণ ঠিকাকেন্দ্র রয়েছে ৩৬টি। টিকাদানে প্রতি কেন্দ্রে ৩ জন করে ৫ হাজার ১২৬ জন স্বেচ্ছাসেবী কাজ করবেন।’

এছাড়া স্বাস্থ্য বিভাগের ১ হাজার ১২৫ জন কর্মী এ ক্যাম্পেইনে যুক্ত থাকবেন। তাছাড়া ক্যাম্পেইন করার লক্ষ্যে পর্যাপ্ত পরিমাণ ভিটামিন-এ ক্যাপসুল সরবরাহ রয়েছে বলে জানান তিনি।

এছাড়া সিলেট নগরীতে সিলেট সিটি করপোরেশনের তত্বাবধানে ৬২ হাজার শিশুকে ভিটামিন-এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে বলে জানিয়েছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহিদুল ইসলাম। তিনি জানান, নগরীর ২৭ টি ওয়ার্ডে স্থায়ী-অস্থায়ী মিলিয়ে মোট টিকাদান কেন্দ্র রয়েছে ২৪৭ টি। এর মধ্যে অস্থায়ী টিকাদান কেন্দ্র ১০৬ টি, অতিরিক্ত টিকাদান কেন্দ্র ৮৯ টি, স্থায়ী টিকাদান কেন্দ্র ৩০ টি এবং ৩২টি ভ্রাম্যমান টিকাদান কেন্দ্র রয়েছে। এসব টিকাদান কেন্দ্রে ২ জন করে মোট ৪৯৪ জন স্বেচ্ছাসেবী কাজ করবেন।

নগরীর ২৭ টি ওয়ার্ডে মোট ৬২ হাজার ২৫৯ শিশুকে ভিটামিন-এ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। এদের মধ্যে ৬ থেকে ১১ মাসের শিশুর সংখ্যা ৫ হাজার ৬১৬ জন শিশুকে একটি করে নীল রঙের ও ১২ থেকে ৫৯ মাসের ৫৬ হাজার ৪৭৯ জন শিশুকে লাল রঙের ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।

উল্লেখ্য যদি কোন শিশু গত ৪ মাসের মধ্যে ভিটামিন-এ ক্যাপসুল খেয়ে থাকে তাহলে সেই শিশুকে আর ভিটামিন-এ ক্যাপসুল খাওয়ানো যাবে না। এছাড়া কান্নারত অবস্থায় বা জোর করে কোনো শিশুকে খাওয়ানো যাবে না। ক্যাপসুলের মুখ কাঁচি দিয়ে কেটে ক্যাপসুলের ভিতরের তরলটুকু খাওয়াতে হবে। আস্ত ক্যাপসুল খাওয়ানো যাবে না।

দেশব্যাপী ২ কোটি ১৯ লাখ শিশুকে ভিটামিন-এ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪ টা পর্যন্ত ৬-১১ মাস বয়সী সকল শিশুকে ১ টি করে নীল রঙের ভিটামিন-এ ক্যাপসুল (১ লক্ষ আই, ইউ) এবং ১২-৫৯ মাস বয়সী সকল শিশুকে ১ টি করে লাল রঙের ভিটামিন-এ ক্যাপসুল (২ লক্ষ আই, ইউ) খাওয়ানো হবে। দেশব্যাপী ১ লাখ ২০ হাজার স্থায়ী কেন্দ্রসহ অতিরিক্ত আরো ২০ হাজার ভ্রাম্যমাণ কেন্দ্রের মাধ্যমে এ কার্যক্রম পরিচালিত হবে।