বৃষ্টি বাধার পরও গোয়াইনঘাটে জমজমাট পর্যটন ব্যবসা

সিলেটের গোয়াইনঘাটের দর্শনীয় স্থানগুলোর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখতে সারা বছর ভিড় লেগে থাকে পর্যটকদের। বিশেষ করে সরকারি ছুটির দিন ও ঈদের ছুটিতে তা বেড়ে যায় কয়েকগুণ। এবারের ঈদেও তার ব্যতিক্রম হয়নি।

দুযোগপূর্ণ আবহাওয়া ও ঘন বৃষ্টি উপেক্ষা করে শনি ও রোববার জাফলং, বিছনাকান্দি, রাতারগুল, জাফলংয়ের মায়াবী ঝর্ণা, পান্তুমাইয়ের ঝর্ণাধারাসহ বিভিন্ন স্পটে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় পরিলক্ষিত হয়েছে।

রোববার (১৭ জুন) সকাল থেকে ঘন বৃষ্টির কারণে অনেক পর্যটকদের ভেজা কাপড়ে ঘোরাঘুরি করতে দেখা গেছে। বৃষ্টির কারণে ভ্রমণের আনন্দ খানিকটা ভাটা পড়েছে বলে জানিয়েছেন তারা। পাহাড়ি ঢলে পিয়াইন নদীর পানি ভরপুর থাকায় এবার জাফলং জিরো পয়েন্টে অবস্থান করতে পারেননি পর্যটকরা। তবে এবার ঈদে পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষন ছিলো জিরো পয়েন্টের অদূরেই অবস্থিত মায়াবী ঝর্ণা।

উপজেলা ও শহরের প্রায় শতাধিক হোটেল-মোটেলের বেশিরভাগ কক্ষই এখন পর্যটকে পরিপূর্ণ। কোথাও যেন তিল ধারণের জায়গা নেই। ঈদের দিন বিকেল থেকে উপজেলার বিভিন্ন কেন্দ্রে হাজার হাজার ভ্রমণপিপাসু আসতে শুরু করেছেন। তারা ছুটে বেড়াচ্ছেন দর্শনীয় স্থানগুলোতে।

হাজারো পর্যটকের এই মিলনমেলায় আশার সঞ্চার ঘটেছে স্থনীয় পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের মনেও। প্রশাসনের ব্যাপক নিরাপত্তা থাকায় পর্যটকদের মনে আতঙ্কও নেই এবার। খানিকটা আলো-বাতাসের ছোঁয়া পেতে অপার সৌন্দর্যমন্ডিত প্রকৃতির সাথে সখ্য- এমন স্থান ও কেন্দ্রগুলোকে বেছে নিয়েছেন পর্যটকরা।

উপজেলার আশপাশের প্রধান প্রধান পর্যটন কেন্দ্রগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রকৃতি কন্যা জাফলং, জাফলং জিরো পয়েন্টের অদুরেই অবস্থিত মায়াবী ঝর্ণা, দেশের একমাত্র মিঠা পানির জলাবন সোয়াম্প ফরেস্ট রাতারগুল, প্রকৃতির অপ্সরা খ্যাত বিছনাকান্দি, তামাবিল জিরো পয়েন্ট, পান-সুপারি বাগানের ভাঁজে ভাঁজে আদিবাসী জনগোষ্ঠী খাসিয়া সম্প্রদায়ের ব্যতিক্রমধর্মী বসত ঘর, সবুজের সমারোহে জাফলং সমতল চা-বাগান, ছোট-বড় পাহাড়-টিলা, জাফলং পিকনিক সেন্টার, জাফলং গ্রীণ পার্কসহ পিয়াইন নদীর স্বচ্ছ জল ও সাদা-কালো রঙ-বেরঙয়ের বিভিন্ন আকৃতির পাথর বিছানো স্থান।

পর্যটকদের অনাকাঙ্খিত ও অপ্রীতিকর ঘটনা থেকে রক্ষা করতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে উপজেলা প্রশাসন। উপজেলার সবকয়টি আকর্ষণীয় স্থানে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, ডুবুরী, মেডিকেল টিম, থানা পুলিশ, ট্যুরিস্ট পুলিশ, আনসার, গ্রাম পুলিশ, রোভার স্কাউটসহ সর্বস্তরের আইন শৃঙ্খলা নিরাপত্তা বাহিনী দায়িত্ব পালন করেছেন।

ঈদ পরবর্তী সময়ে পর্যটকদের ব্যাপক আগমন ঘটায় আর্থিকভাবে বেশি লাভবান হচ্ছে স্থানীয়রা ব্যবসায়ীরা। রকমারি পোশাক, চাদর, গামছা ও সীমান্তের ওপার থেকে আসা ভারতীয় প্রসাধনী সামগ্রীসহ ঐতিহ্যবাহী পাথরের তৈরি শিল পাটা ক্রয়ে বেশি আগ্রহী দেখা গেছে পর্যটকদের। হোটেল, গেস্টহাউস, মোটেল ও খাবার হোটেলসহ পরিবহন সেক্টরে প্রতিদিনই প্রায় অর্ধ কোটি টাকার লেনদেন হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা। আবহাওয়া স্বাভাবিক থাকলে আরও বেশি পর্যটকের সমাগম হতো বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।

পর্যটক ব্যবসায়ী কমিটির সাধারণ সম্পাদক লোকমান মিয়া জানান, এবার প্রচুর পর্যটক সমাগম ঘটেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে পর্যটকের পরিমাণ আরও বাড়বে বলে আশাবাদী তিনি।

গাজিপুর থেকে জাফলং বেড়াতে আসা হৃদয় চৌধুরী জানান, জাফলংয়ে আসার পর থেকেই বৃষ্টি। তারপরও এখানকার প্রাকৃতিক দৃশ্যাবলী খুবই মনোমুগ্ধকর। এমন প্রাকৃতিক পরিবেশের রূপ-বৈচিত্র দেখে সত্যিই আমরা বিমোহিত। তবে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে এখানে আরও রক্ষনাবেক্ষন প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, গোয়াইনঘাটের পর্যটন কেন্দ্রগুলো সারা দেশে অত্যন্ত পরিচিত। তাই আগত পর্যটকদের সেবার মান ও নিরাপত্তা আমরা সবার আগে বিবেচনা করছি। পর্যটকরা যেন স্পটগুলোতে স্বাধীনভাবে ঘুরে বেড়াতে পারেন, সেজন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।