বিশ্বাস রাখতে পারেন : আরিফের উদ্দেশ্যে কামরান

সোমবার (২৩ জুলাই) নগরীর একটি রেষ্টুরেন্টের কনফারেন্স হলে ‘কেমন মেয়র চাই’ শীর্ষক গোল টেবিল বৈঠক আয়োজন করে দৈনিক যুগান্তর। এতে অংশ নেন সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী ৬ মেয়র প্রার্থী। এতে প্রায় সবার মুখেই ঘুরেফিরে আসে সিলেটের রাজনৈতিক সম্প্রীতির কথা। এসময় একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের আশাবাদ ব্যক্ত করেন সবাই।

গোলটেবিলে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরান বলেন, সিলেট নগরী নিয়ে আমরা যতটুকু ভাবি তার চেয়ে বেশি ভাবেন নাগরিকরা। আমরা সবাই একটি সুন্দর-পরিচ্ছন্ন নগরী চাই। যেখানে কোন ধরণের জঞ্জাল থাকবে না। সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের প্রত্যশার জবাবে তিনি বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি এই সিলেটের কৃতিসন্তান বঙ্গবীর আতাউল গনি ওসমানী। অথচ সিলেটে কোন বিজয়স্তম্ভ নেই। এটা আমাদেরই ব্যর্থতা। নির্বাচনের পর সরকারের সাথে আলাপ করে একটি বিজয়স্তম্ভ নির্মাণের চেষ্টা করব। তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো আমাদের কর্তব্য কারণ তারা যুদ্ধ এই দেশ স্বাধীন না করলে আমরা আজ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারতাম না।

কামরান উপস্থিত মেয়র প্রার্থীদের দেখিয়ে সুধিজনদের কাছে প্রশ্ন রাখেন, আমাদের দেখে কী মনে হয়- আমাদের মধ্যে কোন ধরণের হিংসা আছে? বিএনপির মেয়র প্রার্থীকে উদ্দেশ্য করে কামরান বলেন, বিশ্বাস রাখতে পারেন। কোন মানুষকে হয়রানি করা বা পুলিশে ধরিয়ে দিয়ে বিপদে ফেলার মানুষ আমি না। এগুলো জীবনেও করি নাই, এসব আমি পছন্দও করি না। আমি মনে করি, পুলিশ প্রশাসনের এমন কিছু করা উচিত নয়, যাতে মানুষের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি হয়। সবসময় বলে আসছি একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চাই।

তিনি বলেন, ইচ্ছা করলেই আমরা ৬ জন মেয়র হতে পারব না। আল্লাহর হুকুমে যে কোন একজন মেয়র পদে নির্বাচিত হব। কিন্তু ৩০ তারিখের নির্বাচনের পরও আমাদেরকে একে-অপরের সাথে চলতে হবে। সেই চিন্তা মাথায় রেখেই আমাদের সহমর্মিতা নিয়ে চলতে হবে। আমরা চাই সেটাকে ধরে রেখে একটা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন হোক। তিনি আরো বলেন, আপনারা অনেকেই বলছেন আমি সরকার দলীয় প্রার্থী। আসলে প্রার্থী হওয়ার পর কেউ সরকার দলীয় থাকেন না। নির্বাচন কমিশন থেকে ইতিমধ্যেই আমাকে আচরণ বিধির ব্যাপারে সতর্ক করে দেয়া হয়েছে। আমাদের নির্বাচনী প্রচারণায় নগরবাসী খুবই কষ্টে আছেন। নগরজুড়ে মাইকের আওয়াজ। যা আমরা প্রার্থীরা হয়ত বুঝি না। যে কোনো কাজের ক্ষেত্রে নগরীর সব রাজনৈতিক দলের সদিচ্ছা না থাকলে তা বাস্তবায়ন করা কঠিন।

কামরান বলেন, মহানগরীর সম্পত্তি রয়েছে, সেটা যদি আমরা কাজে না লাগাই তাহলে এর কোন মূল্যায়ন হবে না। মিউজিয়ামের জন্য উপযুক্ত স্থান জালালাবাদ পার্ক। এখানে আন্ডারগ্রাউন্ড পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করে উপরে মিউজিয়াম করা সম্ভব। যাদুঘর সিলেটে নেই, এটা আমাদের জন্য লজ্জার। টিলা কেটে বড় বড় দালান বানানোর পর ভূমিকম্পে ধ্বংস হলে আল্লাহর কাছে বিচার দিয়েও লাভ হবে না। কারণ আল্লাহ পাহাড় কাটা নিষেধ করেছেন। আমরা সারদা হলকে সারদা কমপ্লেক্স করে সাংস্কৃতিক অঙ্গনের জন্য বরাদ্ধ করে দিতে পারি।

তিনি বলেন, নগরীর জলাবদ্ধতা কমানো যাবে না যতক্ষণ পর্যন্ত সুরমা ড্রেজিং করা না হয়েছে। গণপরিবহন নগরবাসীর জন্য অত্যন্ত জরুরি। আপনারা অনেকেই জানেন বাংলাদেশের মধ্যে সবচেয়ে বড় এলাকা সিলেট মহানগর পুলিশের। সিলেট সিটি কর্পোরেশনের এলাকাও বর্ধিত করা জরুরী। নগরীর পরিধি বড় না করলে সঠিকভাবে পরিকল্পনাও করা যাবে না। তিনি বলেন, ২০১৩ সালের নির্বাচনে আমি হেরে ছিলাম কিন্তু কোন প্রতিবাদ করিনি। মানুষ ভোট দেয়নি আমি হেরে গেছি। সুতরাং নির্বাচনে জয়-পরাজয় থাকবেই। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে পূণ্যভূমির মর্যাদা ও সম্প্রীতি বজায় রাখা আমাদের দায়িত্ব। আমরা সব নিরাপদে থাকতে চাই। অতিউৎসাহী হয়ে কেউ এমন কিছু না করুক, যাতে আমাদের সিলেটের সুনাম নষ্ট হয়।

বৈঠকে মেয়র প্রার্থীদের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন, বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ’র মেয়র প্রার্থী দলের কেন্দ্রীয় নেতা ডা. মোয়াজ্জেম হোসেন খান, সিপিবি-বাসদ মনোনীত মেয়র প্রার্থী মো. আবু জাফর, স্বতন্ত্র মেয়রপ্রার্থী ও মহানগর জামায়াতের আমির এড. এহসানুল মাহবুব জুবায়ের ও স্বতন্ত্র মেয়রপ্রার্থী এহসানুল হক তাহের।