বিশ্বকাপের পর্দা উঠছে আজ, প্রস্তুত রাশিয়া

আর মাত্র কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষা। এর পরই রাশিয়ায় পর্দা উঠবে ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ খ্যাত বিশ্বকাপ ফুটবলের। ৩২ দলের এ আসরের উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হবে স্বাগতিক রাশিয়া ও সৌদি আরব।

সম্প্রতি ফুটবলীয় দক্ষতায় দু’দলের পাল্লা প্রায় সমান। তাই কাউকে ফেবারিট বলে দেয়া যাচ্ছে না। বিশ্বকাপের শুরুতেই জমজমাট এক লড়াইয়ের আশা ফুটবল ভক্তদের।

বৃহস্পতিবার (১৪ জুন) মস্কোর লুঝনিয়াকি স্টেডিয়ামে দু’দলের ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত ৯টায়। সরাসরি দেখাবে বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি), মাছরাঙ্গা টিভি এবং কিছুদিন আগে সম্প্রচার শুরু করা নাগরিক টিভি। বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ পরিচালনা করবেন আর্জেন্টাইন রেফারি নেস্তর পিতানা।

বিশ্বকাপ শুরুর জন্য তীর্থের কাকের মতোই অপেক্ষা করে আছেন বিশ্বের ফুটবলপ্রেমীরা। ক্রীড়া যজ্ঞের সবচেয়ে বড় আসর অলিম্পিকস হলেও আকর্ষণের দিক থেকে ফুটবল বিশ্বকাপ অতুলনীয়। অনেক সুখ-দুঃখের গল্পের গাঁথুনিতে রচনা না হবে চ্যাম্পিয়ন দেশটির নাম। একটি ট্রফি জয়ের যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত রাশিয়া, প্রস্তুত ৩২টি দল।

মস্কো এখন তাই বিশ্বকাপের শহর। দেশটির অন্যতম প্রধান ভেন্যু লুঝনিকি স্টেডিয়াম তৈরি বিশ্বকাপের কিক অফের বাঁশি বাজাতে। আর তা প্রত্যক্ষ করতে তৈরি হয়ে আছেন সারা বিশ্বের কোটি কোটি দর্শক।

রাশিয়ার ১১ শহরের ১২টি ভেন্যুতে ফুটবলযুদ্ধে নামবে বিশ্বের সেরা ৩২টি দেশ। সেরাদের সেরা কে হবে? ফুটবলের সবচেয়ে দামি ট্রফিটি উঠবে কোন দেশের অধিনায়কের হাতে? সেই হিসেব-নিকেষ শুরু হয়ে যাবে আজ, চলবে ফাইনালের রাত পর্যন্ত।

এই বিশ্বকাপ আয়োজন রাশিয়ার জন্য অন্য রকম এক চ্যালেঞ্জ। বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন তাদের নেই, সম্ভাবনাও নেই বললেই চলে। কিন্তু তারা চ্যাম্পিয়ন হতে চায় আয়োজক হিসেবে। এর আগে ১৬টি দেশের সৌভাগ্য হয়েছে বিশ্বকাপ আয়োজনের। এর মধ্যে কোনো কোনো দেশ একাধিকবার আয়োজকের ভূমিকায় ছিলো। প্রথমবার আয়োজক হয়ে অন্যদের ছাড়িয়ে যাওয়ার অদম্য বাসনা রয়েছে রাশিয়ার।

দেশটির সরকার প্রধান ভ্লাদিমির পুতিন বুধবার (১৩ জুন) মস্কোয় অনুষ্ঠিত ফিফার কংগ্রেসে সারা বিশ্বকে স্বাগত জানিয়েছেন তার দেশে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ উপভোগ করার জন্য। একই সঙ্গে এতো বড় একটি আয়োজনকে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্যও সারা বিশ্বের ফুটবল পরিবারকে আহ্বান জানান তিনি।

পুতিন বলেন, “এ ধরনের বড় একটি টুর্নামেন্টের আয়োজনের কাজ শুধু মাত্র স্বাগতিক দেশের একার পক্ষে সম্ভব নয়। বিশাল পরিমাণে বিশেষজ্ঞ ছাড়া এতো বড় একটি কাজও সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। সারা বিশ্বের ফুটবল পরিবার যেভাবে উৎসাহ জুগিয়ে গেছে, এটা ছিল আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় পাওয়া।”

প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন চান, যারা রাশিয়ায় বিশ্বকাপ নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করেছেন তাদের ভুল প্রমাণ করে দিতে। সেই ইচ্ছা বাস্তবায়নে পুতিনকে যেন অবিরাম সাহস জুগিয়ে যাচ্ছেন আরেক ‘ভ্লাদিমির’- ভ্লাদিমির ইলিচ লেলিন। লুঝনিকি স্টেডিয়ামের সামনে লেলিনের সুবিশাল মূর্তি যেন হাত উঁচিয়ে জানান দিচ্ছে, তার দেশের বিশ্বকাপ হতে হবে সবার চেয়ে সেরা।

লুঝনিকি স্টেডিয়াম নিয়ে গর্ব করতে পারেন রাশিয়ানরা। গর্বের অনেক জায়গাও আছে। এখানেই লুকিয়ে রয়েছে তাদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, উদ্বোধনী ম্যাচ এবং ফাইনাল। ২১তম বিশ্বকাপের ট্রফিটা তো এই স্টেডিয়ামের সাজানো-গোছানো পোডিয়ামই তুলে দেবে বিশ্বজয়ী অধিনায়কের হাতে।