বিরল রোগে আক্রান্ত নিতুর পাশে আবু জাহির এমপি

বিরল প্রজেরিয়া রোগে আক্রান্ত শিশু নিতু। সে হবিগঞ্জের শায়েস্তানগর এলাকার বাসিন্দা ওয়ার্কশপ ব্যবসায়ী কামরুল হাসান এবং মা আয়েশার কোলে জন্ম নেয় ২০০৭ সালে। জন্মের ৩ মাস পর নিতু হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। এতে নিতুর হাত, পা, মুখ, শরীরের চামড়া শুকিয়ে আস্তে আস্তে বৃদ্ধদের রূপ ধারণ করে। বর্তমানে ১১ বছর বয়সী ওই শিশু দেখতে অনেকটাই বুড়োদের মতো।

চিকিৎসকরা বলছেন, এ রোগে আক্রান্তদের গড় আয়ু মাত্র ১৩ বছর। চিকিৎসা করাতে করাতে সর্বশান্তপ্রায় পরিবার।
অবশেষে বিরল এই রোগে আক্রান্ত শিশুটির পাশে দাঁড়িয়েছেন হবিগঞ্জ সদর-লাখাই আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট মো. আবু জাহির।

মঙ্গলবার (১ মে) দুপুরে তিনি নিতুর বাসায় গিয়ে তাকে নগদ ১০ হাজার টাকা প্রদান করেন। এছাড়াও তার পরিবারের জন্য সরকারিভাবে একটি বসতঘর নির্মাণ করে দেওয়াসহ বিভিন্নভাবে সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন তিনি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক মাহমুদুল কবীর মুরাদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসম সামছুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ফজলুল জাহিদ পাভেলসহ সরকারি কর্মকর্তাবৃন্দ। পরে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও তাকে প্রদান করা হয় আর্থিক সহায়তা।

নিতুর পরিবার সূত্রে জানা যায়, জন্মের ৩ মাসের মাথায় অসুস্থ হওয়ার পর থেকেই হবিগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে চিকিৎসা করেন নিতু মা-বাবা। কিন্তু এর কোন সমাধান না পেয়ে নিতু মা-বাবা সিলেটে দু’বছর চিকিৎসা করান। এতেও কোন ফল পাননি। কয়েকদিন পর পর অসুস্থ হয়ে পড়ে নিতু। দিশেহারা হয়ে পড়েন মা-বাবা। এক পর্যায় ঢাকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে শুরু করেন চিকিৎসা। সেখানে ২০১৬ সাল পর্যন্ত নিতুর চিকিৎসা করানো হয়। অনেক গবেষণা করে চিকিৎসকরা তার মা-বাবাকে জানান, নিতু প্রজেরিয়া রোগে আক্রান্ত। এ ধরণের রোগীরা অধিকাংশ সময় অসুস্থ থাকেন। চিকিৎসা করে এর কোন ফলাফল পাওয়া যায় না। পরবর্তীতে ঢাকার চিকিৎসক হবিগঞ্জের ডাক্তারদের দ্বারা চিকিৎসা করার পরামর্শ দেন।

গত বছর ৩ মাস পর্যন্ত প্রায় মৃত্যুশয্যায় ছিলো নিতু। এ সময় নিতু খাওয়া ধাওয়া বন্ধ করে দেয়। তরল খাবার খাওয়ানোর মাধ্যমে তাকে বাঁচিয়ে রাখা হয়। এ সময় চিকিৎসকদের কাছে নিলে তাকে ৮টি ইঞ্জেকশন দেন। কিন্তু নিতুর শরীর শুকিয়ে গিয়ে মাংস শক্ত হয়ে যাওয়া ইঞ্জেকশন পুশ করতে গেলে সূচ ভেঙ্গে যায়। এমতাবস্থায় ৬ মাস অসুস্থ থাকে নিতু। মেয়ের চিকিৎসা করতে গিয়ে জায়গা জমি বিক্রি করে অনেকটা নিঃস্ব হয়ে গেছেন নিতুর বাবা কামরুল ইসলাম। নিতু বয়সে ১১ বছরের হলেও চুলহীন মাথা আর ভাজপড়া চামড়া দেখে তার বয়স বুঝার উপায় নেই। বিরল প্রজেরিয়া রোগে আক্রান্ত সে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের হিসাবে ৪০ লাখ মানুষের মধ্যে এমন রোগাক্রান্ত লোকের সংখ্যা মাত্র একজন। অল্প বয়সে বুড়িয়ে যাওয়ায় এ রোগে আক্রান্তদের গড় আয়ু সাধারণত ১৩ বছর। এরই মধ্যে শারীরিক নানা জটিলতায় ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে ছোট্ট এ শিশুটি। ৬ সন্তানের মধ্যে ৩য় নিতুর চিকিৎসার খরচ যোগাতে নিতুর পরিবার এখন প্রায় নিঃস্ব, বাবার ব্যবসাও লাটে উঠেছে।

হবিগঞ্জ জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক হাবিবুর রহমান জানান, নিতুকে তিনি দেখেছেন। তাকে বর্তমানে ৭শ’ টাকা প্রতিবন্ধি ভাতা দেয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে তাকে কোন বড় সহযোগিতা করা যায় কি না সেটি আমরা ভেবে দেখছি।

হবিগঞ্জ শেখ হাসিনা মেডিক্যাল কলেজ অধ্যক্ষ ডা. মো. আবু সুফিয়ান জানান, আমাদের বয়স হলে যেমন শরীরের কাঠামো তৈরী হয়, তার শরীরের সে ধরণের কাঠামো তৈরী হয়েছে। আমরা একজন বুড়ো মানুষকে যেভাবে যন্ত্র নেই। তাদেরকে সে ধরণের যন্ত্র নিতে হবে। তিনি বলেন- এসব বাচ্চারা বেশিদিন বাচেঁ না। তাদের গড় আয়ু হলো ১৩ বছর। তাদের পুষ্টিকর খাবার খাওয়াতে হবে। এতে যতদিন তারা বেঁচে থাকবে জীবনটা ভাল কাটাতে পারবে। তবে এ রোগের কোন চিকিৎসা বাংলাদেশে নেই বলে তিনি জানান।